বন বন্দুকের ডায়েরি আগের পর্বঃ হাতি হাতি, শঙ্খচূড়ের ডেরায়, আলাদিনের গুহা, শিকারী বন্ধু গোন্দ, হুনসুরের আতঙ্ক… পীর বক্স (১), হুনসুরের আতঙ্ক… পীর বক্স (২), বোয়া সাপের খপ্পরে, বে-ডর লছ্মণ, মানুষখেকো নেকড়ে , নেকড়ে মানুষ সিয়াল, বাঘমারা ভীম, ডাইনি প্যান্থার, মহিষাসুরের খপ্পরে, অরণ্যের সন্তান জুয়াং, জল হুপু, সাদা বাঘ, সামনে ভালুক

পরদেশি ডোমের সঙ্গে যে ভয়ংকরভাবে আমার প্রথম দেখা হয়েছিল তা আমি কখনও ভুলব না। সেটা ১৮৭৭-৭৮-এর ভয়াবহ দুর্ভিক্ষের সময়। দক্ষিণ ভারতে সে-বার খেতে না পেয়ে আর সেই সঙ্গে নানান অসুখবিসুখে প্রায় পঞ্চাশ লক্ষ মানুষ মারা গিয়েছিল। মহীশূরের পঞ্চান্ন লক্ষ মানুষের মধ্যে প্রাণ গিয়েছিল প্রায় পনেরো লাখ মানুষের। বেলারির দশা তার চাইতেও খারাপ হয়েছিল। মাদ্রাজে সমুদ্রের ধার ঘেঁষে কলকাতা, বার্মা, গোপালপুর থেকে আনা শস্যের পাহাড় জমা করা হয়েছিল তাদের খাওয়াবার জন্য। কিন্তু উপকূল থেকে অনেক ভেতরের খরাগ্রস্ত জেলাগুলোতে সে-খাবার বয়ে নিয়ে যাবার মতো যানবাহন বেশি ছিল না। মাদ্রাজ রেলওয়ে সে-সময় দক্ষিণ-পশ্চিমে বাঙ্গালোর আর উত্তর-পশ্চিমে বেলারি অবধিই যায়। কিন্তু সেই দুই শহরের মধ্যে বিস্তীর্ণ এলাকায় রেল-পরিবহণ একেবারেই ছিল না। গোরুর গাড়ি করে যে ত্রাণ পাঠানো হবে তারও উপায় ছিল না। কারণ, সেই দু-বছরব্যাপী খরায় সে-অঞ্চলে গোরু-মোষও আর বিশেষ বেঁচে ছিল না।
উত্তর মহীশূর আর সেই সঙ্গে বেলারির বিস্তীর্ণ এলাকায় খাবার ছিল না এক দানা। গ্রামের পর গ্রাম স্রেফ না খেতে পেয়ে উজাড় হয়ে গেছে তখন সে-সব অঞ্চলে। সেই ভয়ংকর সময়ে আমি এই দুটো এলাকার সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোতে সফর করেছি। মানুষের যে নির্বাক যন্ত্রণার ছবি দেখেছি আমি তখন সে-সব অঞ্চলে তাদের কথা স্বপ্নেও মনে করতে চাই না আর।
যাক সে কথা। আমার গল্পে ফিরে আসি। সে-বার ক্রিসমাসের ঠিক আগে আগে আমি চিতলদ্রুগ আর বেলারির মাঝের পথ দিয়ে চলেছিলাম। যত তাড়াতাড়ি পারি বেলারিতে পৌঁছোতে চাইছি তখন আমি, যাতে ক্রিসমাসে ব্যাঙ্গালোর গিয়ে পৌঁছোতে পারি। মাঠঘাট বেয়ে প্রায় কিলোমিটার বিশেক ঘোড়া চালিয়ে সবে বড়ো রাস্তায় এসে উঠেছি তখন। ক্যাম্প খাটাবার জন্য আমার দলবলকে আগেই সামনের একটা বড়োসড়ো গ্রামে পাঠিয়ে দিয়েছিলাম। সে-গ্রাম আর তখন বেশি দূর নয় সেখান থেকে। যে মাঠঘাট, গ্রামগঞ্জ দিয়ে এতক্ষণ এসেছি সেখানে একটাও মানুষের দেখা মেলেনি। অথচ বছরের এই সময়টা বেলারির কালো মাটির বুকে ক্ষেতভরা ফসল থাকবার কথা। প্রচণ্ড খরার আগুন সে-ফসলকে পুড়িয়ে শেষ করেছে। ক্ষেতখামারগুলোয় যে সামান্য ফসল ফলেছিল, সে-ফসল ঘরে তোলবার বদলে পাকবার আগেই ক্ষেত থেকে ছিঁড়ে খেয়েছে ক্ষুধার্ত মানুষজন।
রাস্তা ধরে মাইল দুয়েক যেতে হঠাৎ চোখে পড়ল পাশের দিকে কয়েকশো গজ দূরে কয়েকটা কুঁড়েঘর। দেখে ভাবলাম, ক্যাম্পের লোকজনকে এই রাস্তায় তারা যেতে দেখেছে কি না সে-কথাটা একবার জিজ্ঞাসা করে আসি। ঘরগুলোর কাছে এসে অনেক হাঁকডাক করেও কারও সাড়া মিলল না। দেখি কিছু কুঁড়ের দরজা বন্ধ, কিছু কুঁড়ের খোলা। কিন্তু মানুষজনের কোনও চিহ্ন নেই সেখানে।
ঘোড়া ঘুরিয়ে ফিরে আসবার পথ ধরব, এমন সময় হঠাৎ একটা ঝোপের আড়াল থেকে আবছা গোঙানির শব্দ পেলাম কারও। তাড়াতাড়ি সেদিকে এগিয়ে গিয়ে দেখি, দুটো নেড়িকুকুর মিলে একজন মানুষের ঠ্যাং কামড়ে ধরে তার শরীরটাকে একটা কুঁড়ের ভেতর থেকে হিঁচড়ে বের করবার চেষ্টা করছে। মানুষটার গায়ে তখন এমন শক্তিটুকুও নেই যে কুকুর দুটোকে উঠে তাড়ায়। বেচারা কুঁড়ের দেওয়ালের একটা অংশ দু-হাতে চেপে ধরে আছে আর মাঝে মাঝে খুব ব্যথা লাগলে গুঙিয়ে উঠছে একটু একটু।
কুকুর দুটোকে চাবকে তাড়ানো গেল না। মানুষের মাংস খেয়ে খেয়ে তারা তখন বেজায় হিংস্র হয়ে উঠেছে। শেষে রিভলভার বের করে তাদের একটাকে গুলি করে মারতে অন্যটা লেজ গুটিয়ে উধাও হল। আগের কয়েক মাসে ও-অঞ্চলে ঘুরে ঘুরে যা অভিজ্ঞতা হয়েছে তখন আমার, তা থেকে বুঝতে পারছিলাম, ঠিক সময়ে এসে হাজির না হলে কুকুর দুটো আজ জ্যান্ত মানুষটার গায়ের মাংস খুবলে খেত।
ততক্ষণে আমার সহিসও এসে সেখানে হাজির হয়েছে। তাকে আমি সোজা আমার ক্যাম্পে চলে যেতে বললাম। কথা হল, সেখান থেকে গ্রামের লোকজন আর একটা চারপাই নিয়ে আসবে সে। তারপর কাছে এসে বসে ফ্লাস্ক থেকে কয়েক ফোঁটা ব্র্যান্ডি তার মুখে দিতে চোখ খুলল মানুষটা। ব্র্যান্ডিতে ভেজানো গোটা দুয়েক বিস্কুট তাকে দিতে গবগব করে সেটা খেয়ে নিল সে। বুঝতে পারছিলাম খিদেই তার আসল অসুখ। বিস্কুট আমার কাছে আরও ছিল। কিন্তু তখন তার শরীরের যা অবস্থা তাতে তাকে একবারে ওর বেশি খাবার দিলে সে প্রাণে বাঁচত না। খানিক বাদে শরীরে একটু বল পেয়ে উঠে বসল সে। তারপর আস্তে আস্তে দু-একটা কথা মুখে ফুটতে জানা গেল সে এই গ্রামের মানুষ নয়। জাতে সে পাহাড়িয়া ডোম। দক্ষিণ-পুবের জঙ্গুলে এলাকার দিকে যাচ্ছিল তারা দল বেঁধে। বেশ ক’দিন কোনও খাবার জোটেনি তাদের। এই এলাকাটা একেবারে ন্যাড়া। ফাঁদ পেতে ধরবে যে তেমন একটা পাখপাখালিও নেই গোটা চত্ব্বরে। এইখানে পৌঁছে তারা দেখে গোটা গ্রামটা শুনশান। এইখানটায় পৌঁছে তার আর ওঠবার শক্তি ছিল না শরীরে। তার দলের লোকজন তাই তাকে এইখানেই মরবার জন্য ফেলে রেখে চলে গেছে। কুকুরগুলো আগের দিন রাত থেকেই তাকে খাওয়ার মতলবে ছিল। রাতটা সে কোনোমতে তাদের আটকেছে। সকালবেলা ফের তারা ফিরে এসেছিল। কিন্তু খানিকক্ষণ লড়াই দেবার পর সে আর পারেনি। আমি ঠিক সময়ে না এসে পড়লে আজ তাকে ওরা আস্ত রাখত না আর।
কথাগুলো বলে বড়ো ক্লান্ত হয়ে চোখ বুজল সে। দুর্বল শরীরটা থরথর করে কাঁপছিল তার। কাছে গিয়ে পরীক্ষা করে দেখি, অজ্ঞান হয়ে গেছে মানুষটা। খানিক বাদে আমার সহিস একখানা চারপাই জুটিয়ে লোকজন নিয়ে ফিরে আসতে লোকটাকে আমার ক্যাম্পে নিয়ে গিয়ে আর সেবাশুশ্রূষার বন্দোবস্ত করে আমি ব্যাঙ্গালোরের দিকে রওনা হলাম।
ক্রিসমাসের ছুটি কাটিয়ে ফেরবার পথে ক্যাম্পে পৌঁছে দেখি তদ্দিনে পরদেশি বেশ তাজা হয়ে উঠেছে। ওর নাম আসলে পরদেশি নয়। কিন্তু কেউ তার কাছে পরিচয় জানতে চাইলে সে বলত সে ‘পরদেশি’, মানে ভিন জায়গার মানুষ। (তবে চলতি ভাষায় নিতান্ত গরিব, অন্ত্যেবাসী মানুষজনকে ওই নামে ডাকা হয়) ওইতেই মুখে মুখে তার নামটাই পরদেশি হয়ে উঠেছে তখন।
ভারত জুড়ে সমাজের নীচু স্তরের বাসিন্দা এমন অনেক জাত আছে যার মানুষরা সমাজের চোখে অচ্ছুত। ডোম, ঘাসিয়া, ভুজ, কুরাভার—এমন বহুজাতের অস্পৃশ্য মানুষ কোথাও পাকাপোক্ত ঠাঁই পায় না। সম্পত্তি বলতে তাদের কয়েকটা গাধা। তারই পিঠে সংসার চাপিয়ে তারা দেশ থেকে দেশান্তরে ঘুরে বেড়ায়। ভারতবর্ষের বহু গ্রামেরই চৌহদ্দির বাইরে এই অস্পৃশ্যদের দল চোখে পড়ে। এদের মেয়েরা মাদুর বোনে, ভাগ্য গোনে। পুরুষরা ফাঁদ পেতে পাখি ধরে, মুরগি চুরি করে। এরা পাকা চোর। যেখানে আস্তানা গাড়বে, তার কয়েক মাইলের ভেতর মুরগি, বেড়ালছানা, এমনকি মানুষের ছেলেপুলেরাও এদের খপ্পর থেকে পার পায় না। বিশেষ করে বেড়াল তো এদের ভারি প্রিয় খাদ্য। পরদেশিকে পরে মধ্যে মধ্যে যখন ব্যাঙ্গালোর নিয়ে যেতাম তখনই সে-মহল্লার দু-একটা করে পোষা বেড়াল বেপাত্তা হত। এ-নিয়ে তাকে হাজার বুঝিয়েও কোনও ফল হয়নি। বেড়ালের ব্যাপারে তার ওসব ন্যায়-নীতির বালাই থাকত না কোনও। তার প্রাণ বাঁচিয়েছিলাম বলে আমায় পরদেশি দেবতার মতো মানত। কিন্তু এটাও ঠিক যে, আমার যদি একটা মোটাসোটা গোলগাল পোষা বেড়াল থাকত তাহলে সে একদিন না একদিন পরদেশির পেটে যেত।
পুরো সেরে উঠতে প্রায় মাস কয়েক সময় লেগেছিল পরদেশির। কিন্তু তার পরেও আমার সঙ্গেই থেকে গেল সে। ক্যাম্পে আমার তাঁবুর আশেপাশে সবসময় সে হাজির। তাঁবু খাটানো থেকে তাঁবু গোটানো—সব কাজ সে নিজের কাঁধে নিয়েছে। ক্যাম্প চলাকালিন সারাটা দিন আমার পেছনে চুপচাপ ঘুরঘুর করবে শুধু। কিছু বললে, মুখ থেকে কথাটি খসবার আগেই হুকুম তামিল। জঙ্গল এলাকায় এসে ঢুকলে তার মতো কাজের লোক দুটি হয় না। কোয়েল হোক কি বনমুরগি বা ময়ূর, প্রতিদিন কিছু না কিছু একটা মেরে আনবেই সে আমার জন্য। পাখি আর ছোটোখাটো জন্তুজানোয়ার ফাঁদে ফেলে ধরবার সমস্ত কায়দা তার মুখস্থ। ফাঁদ, জাল, ফাঁস—সবকিছুতেই ওস্তাদ। শেয়াল হোক কি ময়ূর, সবার ডাক নিখুঁত নকল করে তাদের ডেকে এনে ফাঁদে ফেলা তার কাছে জলভাত।
ধরা যাক পরদেশি শেয়াল ধরবে ঠিক করেছে। তখন বাঁহাতে মুখটা খানিক ঢেকে সে এমন ডাক ছাড়বে যে মনে হবে দুনিয়ার তাবৎ শেয়াল একসঙ্গে জটলা করে গান ধরেছে। মুখের ওপর হাতের আড়াল বাড়িয়ে কমিয়ে শব্দটাকে এমনকি দূরে কাছে করবার কায়দাও করতে জানত সে। আবার কোয়েল ধরতে হলে ‘রঙ্ক…রঙ্ক’ করে এমন নিখুঁত পুরুষ কোয়েলের আওয়াজ ছাড়ত যে দু-হাত দূরে দাঁড়িয়েও কেউ সন্দেহ করতে পারবে না যে সেটা আসল কোয়েলের ডাক নয়। বেড়ালের হাড় খুদে একটা অদ্ভুত হুইশিল বাঁশি বানিয়েছিল পরদেশি। তাই দিয়ে রকমারি পাখির শব্দ বের করতে পারত ইচ্ছেমতো। ও-শব্দ শুনিয়ে তিতির থেকে ময়ূর—কতরকমের পাখিই ডেকে এনে ফাঁদে ফেলেছে সে তার ইয়ত্তা নেই।
মাঝে-মধ্যেই ক্যাম্প ছেড়ে কয়েকদিনের জন্য উধাও হত পরদেশি। ফিরে আসত ঝুড়িভরা নানান জাতের পাখি আর কাঁধের বাঁশের দু-পাশে বসানো দুটো জ্যান্ত ময়ূর নিয়ে। ময়ূরগুলোর চোখ সে একটা করে পালক ফুটিয়ে সেলাই করে দিত। চোখে দেখতে না পেয়ে বেচারা পাখিরা একেবারে চুপচাপ বসে থাকত তার বাঁশের ডান্ডার দু-মাথায়। পাহাড়ি জঙ্গল এলাকায় ঘোরবার সময় এই পাখি ধরবার কাজে সে একেবারে স্বক্ষেত্রে সম্রাট। তখন তার খুশি দেখে কে! আর গ্রামগঞ্জে এলে তখন বনের পাখি না পেয়ে তার নজর পড়ত গিয়ে পোষা মুরগির দিকে। তবে বারকয়েক তাকে বকাঝকা করে যার মুরগি তাকে ফেরত দেওয়াবার পর থেকে পোষা মুরগি ধরে সে আমার কাছে আর আনত না। তবে তাতে তার চুরি যে বন্ধ হত না সে আমি জানি। ক্যাম্পের আর দশটা কাজের লোক তো আর মুরগি কোত্থেকে আসছে সে নিয়ে অত মাথা ঘামায় না। কাজেই সেই চুরির মুরগির খদ্দেরের অভাব হত না পরদেশির।
এই মুরগি পাকড়াবার যে কায়দাটা সে আমায় বলেছিল সেটা বেশ মজার। সে নাকি সারারাত এক মুঠো চাল মুখের ভেতর রেখে দেয়। তারপর সকালে সেই গেঁজে ওঠা চাল মুরগির সামনে ছিটিয়ে দিলে তাই খেয়ে মুরগি নাকি মাতাল হয়ে বুদ্ধিসুদ্ধি হারিয়ে ফেলে একেবারে। তখন তাকে টপ করে ধরে নিলেই হল।
বেচারা পরদেশির প্রাণটাও গিয়েছিল আমাকে ভালোবেসে। একবার শিকারে বের হয়ে আমি দুটো হাঁস মেরেছিলাম। সেগুলো গুলি খেয়ে উড়ে গিয়ে পড়ল একটা গভীর পুকুরের মধ্যে। লাঠি দিয়ে তাদের টেনে আনবার জো ছিল না। দেখে আমি পরদেশিকে পাঠালাম গ্রামে কেউ সাঁতার জানে কি না তার খোঁজ করতে। খানিক বাদে সে ফিরে এসে বলল, সে-গ্রামের কেউ সাঁতার দিতে জানে না। শুনে হাঁসের আশা ছেড়ে দিয়ে আমি ক্যাম্পের দিকে ফিরে আসছি, এমন সময় একটা লোক ছুটে এসে খবর দিল যে পরদেশি নাকি নিজেই জলে গিয়ে নেমেছিল আমি চলে আসবার পর, কিন্তু আর সে উঠে আসেনি। শুনে আমি তাড়াতাড়ি পুকুরধারে ফিরে গিয়ে লোকজন দিয়ে গোটা দুই ভেলা বানিয়ে জাল ফেলে পুকুরটা চষিয়ে ফেললাম লোকজন দিয়ে। দিন দুয়েক খোঁজাখুঁজির পর তার শরীরটা পুকুরের গভীর জল থেকে উদ্ধার করা হয়েছিল।
বেচারা পরদেশি!
বনের ডায়েরি সব লেখা একত্রে