আগের সংখ্যার অণুগল্পগুলো
স্বরলিপি
সুদীপ চ্যাটার্জী
“গানের পরীক্ষাটা দিলি না?”
“আমি আর শিখব না বাবা! ভালো লাগে না।”
“গান ছেড়ে দিবি?”
“হ্যাঁ।”
“তোর মা যদি বেঁচে থাকত…”
“মা আমার গান ভালবাসত না বাবা।”
“অনু !!”
“আমি গান গাইলে মা অন্য ঘরে চলে যেত। মুখ ফিরিয়ে থাকত।তোমার কথাতেই আমার জন্যে হারমোনিয়াম আনতে গিয়ে এক্সিডেন্টটা …”
সমীরণ চেয়ে থাকেন মেয়ের দিকে। স্মৃতিতে ছেয়ে আসে এক আয়েশি বিকেলের কথা। বেমানান শৌখিনতার কিছু রঙ ফানুসের সঙ্গে উড়ে যাচ্ছিল। আলপনার নকশা আর আতশবাজির রোশনাই। কয়েক কলি ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা বায়না। ভারতী গান করছিল।
আচমকা এক প্রচন্ড শব্দ। অজ্ঞান হওয়ার আগে ভারতীর গলা থেমে গিয়েছিল।
“সমীরণ, ক্রেনিয়াল নার্ভ ড্যামেজ হয়ে গেছে। উনি যে কথা বলতে পারছেন সেটাই ভাগ্যের কথা…নার্ভে বেশি জোর দিলে কথা বন্ধ হয়ে যেতে পারে।”
“কিন্তু ডাক্তারবাবু ! ভারতী যে গান ছাড়া বাঁচবে না …”
“আমি অ্যাম সরি সমীরণ।”
অনু ঘরে এসে দেখল তোশকের ওপরে রাখা ছেঁড়া লাল মলাটের খাতা। প্রথম পাতায় মায়ের নাম লেখা। স্বরলিপির লেখাগুলো বিন্দু বিন্দু হয়ে ঘুরে বেড়াচ্ছে ঘরময়। কয়েক ফোঁটা স্মৃতি সুর হয়ে লেগে রয়েছে প্রদীপের গায়ে।
ভারতী গাইছেন।
আজ দীপাবলি।