
স্তালিনীয় গণহত্যার ২০০০ কিমি দীর্ঘ এক গণকবর, এ পথ তৈরি করতে গিয়ে প্রাণ হারানো হাজার হাজার বন্দিকে এই পথের তলাতেই কবর দেয়া হয়েছিল। লিখছেন অরিন্দম দেবনাথ
দু-পাশে পাইনগাছ ভরা বরফঢাকা পাহাড়ি ঢালের মাঝ দিয়ে চলে গেছে বরফ ঢাকা রাস্তা। বরফের মাঝে গভীর দাগ কেটে থাকা গাড়ির চাকার দাগ বলে দেয়, অঞ্চলের তাপমাত্রা হিমাঙ্কের অনেক নীচে হলেও গাড়ি চলাচল করে এ-পথে। তবে গাড়ির বাইরে বের না হওয়াই ভালো, আর বের হলেও উপযুক্ত পোশাক ও প্রস্তুতি নিয়েই বের হতে হবে। শীতে সচরাচর এ-পথে ছোটো গাড়ি চলে না। বড়ো ট্রাক চলে, তাও বেশ কয়েকটা গাড়ি একসঙ্গে ‘কনভয়’ তৈরি করে। যাতে কোনও কারণে একটা-দুটো গাড়ি বিকল হয়ে পড়লে বাকি গাড়িগুলো বিকল হয়ে যাওয়া গাড়িকে টেনে নিয়ে যেতে পারে। এ-পথে গাড়ি বিকল হওয়া মানে ভয়ংকর বিপদের সম্ভাবনা, কারণ এখানে তাপমাত্রা শীতকালে হামেশাই নেমে যায় হিমাঙ্কের ৫০ ডিগ্রি সেন্টিগ্রেড বা তারও নীচে, এমনকি -৭০ ডিগ্রি সেন্টিগ্রেড পর্যন্ত। পথের দু-পাশে লোকালয় প্রায় নেই বললেই চলে। গাড়ির ইঞ্জিন বন্ধ হয়ে গেলে সে-গাড়ি শীতে আবার চালু করা প্রায় অসম্ভব। সেজন্য এই পথে শীতকালে কোনও গাড়ির ইঞ্জিন বন্ধ করা হয় না।
রাস্তাটি চলে গেছে বর্তমানে প্রায় দুই লক্ষ মানুষের বসবাসকারী শহর পূর্ব সাইবেরিয়ার ইয়াকুস্ক (Yakutsk) থেকে ওখতস্ক (Okhotsk) সাগরের উপকূলে প্রায় এক লক্ষ মানুষের বসবাসকারী শহর মাগাদান পর্যন্ত (Magadan)।
রাস্তাটার পোশাকি নাম কোলিমা হাইওয়ে, ম্যাপে যার পরিচিতি M56 নামে (বর্তমানে নাম বদলে হয়েছে P504)। ১৯৩২ থেকে ১৯৫২ সাল, এই কুড়ি বছর ধরে এই পথ তৈরি হয়েছিল পৃথিবীতে মানুষ বসবাস করে এইরকম শীতলতম স্থান – রাশিয়ার সাইবেরিয়ায়। উদ্দেশ্য ছিল বরফের তলায় থাকা সোনা-সহ মূল্যবান খনিজকে সারাবছর ধরে লোকালয়ে নিয়ে আসার ব্যবস্থা করা।

তবে এইসব কেতাবি নামে নয়, দুনিয়া এই হাইওয়েকে চেনে ‘রোড অফ বোনস’ বলে। এখনও এই রাস্তা ভেঙে গেলে বা সারাই করতে গেলে সামান্য খোঁড়াখুঁড়িতেই গাঁইতি বেলচা বা এক্সকাভেটরের ফলার ডগায় উঠে আসে খুলি বা হাড়ের টুকরো। না, কোনও ডাইনোসর, ম্যামথ বা কোনও প্রাগৈতিহাসিক জীবের নয় – এই হাড় মানুষের।
যে অঞ্চলের নামে এই হাইওয়ের নাম, সেই কোলিমা এমন এক রাশিয়ান ভূখণ্ড যার কুখ্যাতি ছিল অসংখ্য ‘গুলাগ’ (GULAG) বা বন্দি শিবিরের জন্য। লক্ষ লক্ষ ‘জেক’ বা রাজনৈতিক বন্দিদের রাখা হত চরম শীতের জায়গার এইসব শিবিরে। এই রাজনৈতিক বন্দিদের একজন ছিলেন রুশ লেখক ভারলাম শালামভ (Varlam Shalamov), যিনি বিভিন্ন বন্দি শিবিরে টানা ১৭ বছর বন্দি ছিলেন এবং তাঁর বন্দি জীবনের বিভীষিকাময় অভিজ্ঞতার কথা ‘দ্য কোলিমা টেলস’-এ লিখে গেছেন। ১৯৬০ সালে এই বই প্রকাশ পেতে এই গুলাগ শিবিরের বীভৎসতার কথা সামান্য হলেও জানতে পেরেছিল বিশ্ববাসী।

আলেকজান্ডার সলঝেনিৎসিনও (Aleksandr Solzhenitsyn) নামের এক লেখকও ‘দ্য গুলাগ আর্কিপেলাগো’ (The Gulag Archipelago) বইতে তাঁর ভয়ংকর অভিজ্ঞতার কথা বলেছেন। তিনি কোলিমা সম্পর্কে লিখেছেন, ‘কোলিমা ছিল সেই গুলাগ-সাম্রাজ্যের সর্ববৃহৎ ও কুখ্যাততম কেন্দ্র।— দেশেরই দেশবাসীর ওপর অত্যাচারের এক চরমতম নিষ্ঠুরতার কেন্দ্রবিন্দু। ভৌগোলিকভাবে একটি দ্বীপপুঞ্জের মতো বিচ্ছিন্নভাবে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকলেও, মনস্তাত্ত্বিক অর্থে এই গুলাগ-সাম্রাজ্য ছিল একটি অখণ্ড মহাদেশের ন্যায়—এক প্রায় অদৃশ্য, প্রায় অগোচরে থাকা দেশ; যার অধিবাসী ছিল কেবলই সেই ‘জেক’ বা বন্দি মানুষেরা।’
কোলিমার প্রত্যন্ত অঞ্চল নিয়ে বিংশ শতাব্দীর তিরিশের শতকে সেই সময়কার সোভিয়েত জামানার স্তালিন সরকারের প্রবল আগ্রহের কারণ ছিল সেখানকার ‘পারমাফ্রস্ট’ অর্থাৎ হিমায়িত মাটির নীচের বিপুল সোনা, হিরে আর ইউরেনিয়াম ভাণ্ডার। এছাড়া কয়লা সমেত আরও অনেক খনিজের ভাণ্ডার ছিল এই কোলিমা অঞ্চল। আর এই খনিজ সম্পদ খুঁড়ে বের করতে বন্দি শিবিরের জেকদের কাজে লাগানো হত। যদিও জেক শব্দটা গালি হিসেবেই ধরা হত। গুলাগ পরিণত হয়েছিল এক বিশাল ‘দাস’ সরবরাহের কেন্দ্রে। সামান্যতম কারণে শাস্তি হিসেবে এখানে মানুষদের পাঠানো হত। উদ্দেশ্য ছিল মূল্যবান খনিজ খুঁড়ে বের করতে শ্রমিক জোগানো আর কমিউনিস্ট সরকারের শত্রুদের শেষ করা। কিছুদিন খনিতে কাজ করার পর বেজায় পরিশ্রমে, আধপেটা খেয়ে অসুস্থ হয়ে পড়া মানুষগুলো বিনা চিকিৎসায় (যদিও নাম কা ওয়াস্তে হাসপাতাল ছিল) ছেঁড়া তাঁবু বা আধভাঙা দেওয়ালের ঘরে অপর্যাপ্ত শীতের পোশাকে এমনিতেই ঠান্ডায় জমে মরে যেত। কোলিমা অঞ্চল এতটাই ভয়াবহ ছিল যে সুস্থ মাথার কোনও মানুষ সেখানে স্বেচ্ছায় কাজ করতে যেতে রাজি হত না।

-ভরতি মরা মাছ ধরা পড়তে থাকে। ঝাঁকে ঝাঁকে মাছ মরে যাওয়ার কারণ জানা যায়নি।
কোলিমার বরফের নরকে শুধু রুশদেরই বন্দি হিসেবে পাঠানো হত না, বন্দিদের একটা বড়ো অংশ ছিল পোলান্ডের নাগরিক। ১৯৩৯ সালের সোভিয়েত আগ্রাসনে এই পোলিশ নাগরিকরা বন্দি হয়েছিলেন। শুধু পোল্যান্ড নয়, তিনটি বাল্টিক প্রজাতন্ত্র লিথুয়ানিয়া, লাটভিয়া এবং এস্তোনিয়ায় সোভিয়েত দখলদারি ফলে আরও অনেক বন্দি তথা ‘দাস’ জোগান হিসেবে গেছিল গুলাগে। আর এইসব বন্দিদের কাজে লাগানো হয়েছিল খনি আর কোলিমার রাস্তা তৈরিতে।
১৯২৯ সালেই কোলিমায় শুরু হয়েছিল ‘গোল্ড-রাশ’, কিন্তু যাওয়া সহজ ছিল না। গরমকালে একমাত্র পথ ছিল খাবারোভস্ক (Khabarovsk) থেকে নদীপথে, কিন্তু নদীপথ ছিল ভয়ংকর। অথবা শীতকালে নদী জমে বরফ হয়ে গেলে তার ওপর দিয়ে হেঁটে বা স্লেজে চেপে যাওয়া। আর এই নদীগুলো বছরে মোটামুটি ৩০০ দিনই জমে থাকে। নদীর দু-পাশের জঙ্গল বুনো জন্তুতে ভরা, বিশেষ করে বিশাল চেহারের ভালুকের বাস এখানে। তাছাড়া মুশ, বলগা হরিণ, নেকড়ে তো আছেই।
মোটামুটি ১০০ থেকে ১২০ দিন লাগত মস্কো থেকে ইয়াকুস্ক পৌঁছতে। ১৯৩২ সালে কোলিমা অঞ্চলের নানা স্থানে ছড়িয়ে থাকা সোনার খাদানগুলোর মধ্যে দ্রুত যোগাযোগ করার লক্ষ্যে মাগাদান থেকে কোলিমার মহা সড়ক তৈরির কাজ শুরু হয়। এই রাস্তা তৈরির শ্রমিক জোগান দিতে ৮০টির বেশি বন্দি শিবির গড়ে তোলা হয়েছিল। আর এই পুরো ব্যবস্থার নেতৃত্বে ছিলেন লাটভীয় বংশোদ্ভূত এডওয়ার্ড বেরজিন—যিনি লেনিন কর্তৃক প্রতিষ্ঠিত কুখ্যাত ও নৃশংস রাজনৈতিক পুলিশ বাহিনী ‘চেকা’-র (Cheka) একজন কর্মকর্তা ছিলেন।
মূলত আধপেটা খেয়ে, অসম্ভব পরিশ্রম, রক্ষীদের মার আর প্রচণ্ড ঠান্ডায় কোলিমার গুলাগ ক্যাম্পে লক্ষ লক্ষ বন্দি প্রাণ হারিয়েছিল। গুলাগের বন্দিদের মৃতদেহ রাস্তার নীচেই পুঁতে দেওয়া হত। কথিত যে, এই হাইওয়ের প্রতি বর্গ মিটার রাস্তা তৈরি করতে কম করে একজন মানুষ মারা গেছিল। রাস্তা তৈরির কাজ হত আদিম পদ্ধতিতে – কোদাল আর ঠেলাগাড়ি ব্যবহার করে। কোনও বন্দি মারা গেলে বন্দিদের পাহারদাররা ওই মৃতদেহ রাস্তার ধারে স্তূপ করে রাখত, তারপর দিনের শেষে মাটি খুঁড়ে গণকবরে চাপা দিয়ে দিত। তবে অধিকাংশ ক্ষেত্রেই রাস্তা তৈরিতে কাজে লাগত এই মৃতদেহগুলো। মাংস ব্যবহার করা হত রাস্তার পাথরের গাঁথনির মশলা (mortar) হিসেবে আর হাড়গুলো পাথরকুচির জায়গায়। ঠিক এই কারণেই এই রাস্তার আর এক নাম ‘রোড অফ বোনস’। এই রাস্তায় চলা মানে এক গণকবরের ওপর দিয়ে যাতায়াত করা, যার তলায় শুয়ে আছে পরিচয় হারানো লক্ষ লক্ষ বন্দির মৃতদেহ।

গুলাগে কেমন ছিল অত্যাচারের মাত্রা? শালামভের কাহিনিতেই পড়া— ‘স্তালিনযুগে রাশিয়ার খনিতে কাজ শুধু যে পরিশ্রমসাপেক্ষ ছিল, তাই নয়। অত্যাচারের মাত্রা এতটাই ছিল যে, হালকা কাজ পাওয়ার আশায় কিছু শ্রমিক প্রতিদিন পাওয়া সামান্য খাবার, বিস্ফোরক রাখা স্টোর কিপারকে ঘুস দিয়ে নাইট্রোগ্লিসারিন ক্যাপসুল জোগাড় করে, সেই বিস্ফোরক দিয়ে নিজেই নিজের হাতের পাঞ্জা বা পায়ের পাতা উড়িয়ে দিত। যন্ত্রণা সহ্য করত দাঁতে দাঁত চেপে। মনেপ্রাণে চাইত হাতে-পায়ে পচন ধরে ধরুক, তবুও মরার আগে যাতে হাসপাতালে থেকে কয়েকদিন আরাম করা যায়।
‘ফাটা তাঁবু বা ভাঙা ঘরে মৃত্যু পথযাত্রী সঙ্গীকে ঘিরে থাকত সহবন্দিরা। নাম শোকার্ত হয়ে নয়, মারা যাওয়ার পর বা তার আগেই মৃত বা মরণের সময় গোনা মানুষটার পোশাক খুলে নেবার।’ এতে অবাক হবার কিছু নেই, গুলাগের বন্দিরা তাদের সব মনুষ্যত্ব হারিয়ে ফেলেছিল।
এই অঞ্চলের কোথায় কীরকম ঠান্ডা পড়ে একটু খোঁজ নেওয়া যাক।
কোলিমা হাইওয়ের ওপর একটা ছোটো জনপদ হল ওমিয়াকন (Oimiakón)। শ-পাঁচেক মানুষের বাস। এখানে পেনের কালি জমে যায়, ব্যাটারি শেষ হয়ে যায় দ্রুত, শীতকালে একটা কবর খুঁড়তে লেগে যায় তিন থেকে চারদিন। শীতকালে গড় তাপমাত্রা মাইনাস ৬০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের আশেপাশে ঘোরাফেরা করলেও ১৯২০ সালে এখানে তাপমাত্রা নেমে গেছিল মাইনাস ৭১.২ ডিগ্রি সেলসিয়াসে। গ্রামের মানুষ মূলত বাঁচে ঘোড়া আর বলগা হরিণের মাংস খেয়ে। ইন্দ্রিগ্রিকা নদীর তীরে ‘পোল অফ কোল্ড’ নামে খ্যাত গ্রামটি গড়ে ওঠার একমাত্র সম্ভাব্য কারণ এখানে একটি উষ্ণ প্রস্রবণ আছে। ‘ওমিয়াকন’ কথাটির মানে ‘না জমা জল’। শ-শ বছর ধরে মূলত বলগা হরিণের পাল চরিয়ে বেড়ানো চারণদাররা এখানে আসে হরিণের পালকে জল খাওয়াতে।
কোলিমা অঞ্চলের সবচাইতে বড়ো শহর বা জনপদ হল ইয়াকুস্ক। এখানে ক্লাস এইটের ওপরকার বাচ্চাদের স্কুল বন্ধ হয় তাপমাত্রা মাইনাস ৫০ ডিগ্রির নীচে নামলে তবেই। পুরো শহরটাই তৈরি ‘পারমাফ্রস্ট’-এর ওপর। বহুতল বাড়ির দেওয়াল তৈরি পারমাফ্রস্ট ব্লক দিয়ে, যাতে গরমে গলে না যায়। বর্তমানে ইয়াকুস্কে বরফের ওপর যাত্রীবাহী প্লেন নামে।
প্রতিবছর কোলিমা হাইওয়েতে পথ দুর্ঘটনায় শয়ে শয়ে মানুষের প্রাণ যায়। ‘উইকিট্রাভেল’ থেকে জানা যায়, এই দুর্ঘটনার পাশাপাশি আরও বিপদ হিসেবে ওত পেতে থাকে হাইওয়ের পাশে ক্ষুধার্ত ভাল্লুকের ও নেকড়ের দল, আর ‘টিক’ (ticks) নামে একধরনের ছোটো রক্তচোষা পোকা। জনবিরল অঞ্চলে এই পোকাগুলো এনকেফেলাইটিস রোগের সংক্রমণ ছড়ায়, যা সরাসরি মস্তিষ্কে প্রভাব ফেলে।
এই পথে কাদিকাচান (Kadykchan) নামে এক শহর পড়ে, যাকে ‘ফ্রন্তেরাস’ নামের এক ব্লগ ‘ভূতুড়ে শহর’ বলে আখ্যা দিয়েছে। একসময় এই শহর গুলাগের বন্দিরা তৈরি করেছিল মাটির তলা থেকে কয়লা তোলার জন্য। সোভিয়েত ইউনিয়নের পতনের পর ১৯৯২ সালে এখানকার কয়লা খনি বন্ধ করে দেওয়া হয়। ১৯৯৬ সালে কোন এক অজানা কারণে শহরে এক বিস্ফোরণ ঘটে ও বেশ কিছু লোক মারা যায়। সরকার এই শহরকে নিষিদ্ধ ঘোষণা করে যে কয়েকজন বাসিন্দা অবশিষ্ট ছিল, তাদের শহর থেকে সরিয়ে দিয়ে শহরের অধিকাংশ বাড়িঘর গুঁড়িয়ে দেয়। ২০১০ সালে জনশূন্য হয়ে যায় বন্দিদের তৈরি খনি শহর। এখানকার শেষ বাসিন্দা তাঁর কুকুরদের নিয়ে এখানে থাকতেন। এই খনিতে গুলাগের বন্দি হিসেবে শালামভ কাজ করেছেন ও তাঁর লেখায় সেই খনিতে কাজ করার ভয়ংকর দিনগুলোর কথা উল্লেখ করেছেন এইভাবে—
‘বন্দি শিবির থেকে কয়লা খাদানের দূরত্ব অনেকটাই। বরফের ওপর দিয়ে বন্দিদের প্রায় তাড়িয়ে নিয়ে যেত রক্ষীর দল। দলের শেষে যে থাকত, তাকে পায়ে দড়ি বেঁধে বরফের ওপর দিয়ে টানতে টানতে পাহাড়ের ঢালের কাছে নিয়ে গিয়ে ওপর থেকে ছুড়ে ফেলে দেওয়া হত, যাতে কেউ ধীরে চলার সাহস না দেখায়।’
কেউ না থাকলেও ‘রোড অফ বোনস’-এর ধারে কাদিকাচান শহরে এখনও অক্ষত ইনডোর বাস্কেটবল কোর্ট, স্কুল ভবন, ‘হাউজ অফ কালচার’ সিনেমার হল—যার সাইনবোর্ডে লেখা রয়েছে সেদিনের প্রদর্শনীর নাম, আবাসিক ভবন – যার ফ্ল্যাটগুলো এখনো দৈনন্দিন ব্যবহারের জিনিসপত্রে ভরা, খাবারের দোকান সহ শত শত পরিত্যক্ত গাড়ি। কিন্তু জনহীন শহরে নাকি এখনও মাঝে মাঝে লোকের কোলাহল শোনা যায়।
এই সড়কের পাশেই আছে ‘গুলগ দে দনেপ্রভস্কি’—সোভিয়েত আমলের অন্যতম বন্দি শিবির। যার ধ্বংসাবশেষ আজও টিকে আছে; বাকি বন্দি শিবিরগুলো সোভিয়েত ইউনিয়নের পতনের আগেই প্রায় সম্পূর্ণভাবে ভেঙে ফেলা হয়েছিল।
একসময় কোলিমা হাইওয়ে ধরে যাত্রা করার অর্থ ছিল নির্বাসন তথা কারাবাস। যদিও বর্তমানে এটি পৃথিবীর অন্যতম প্রত্যন্ত অঞ্চল সাইবেরিয়ার অর্থনৈতিক ও সামাজিক যোগাযোগ রক্ষাকারী ধমনী।
১৯৩০-এর দশকে সে-সময়কার রাশিয়ান কর্তৃপক্ষ চিরতুষারের দেশের মাটির তলায় সোনা, রূপা, টিন, ইউরেনিয়াম, হিরের ভাণ্ডার ইত্যাদি থাকার বিষয়ে নিশ্চিত হয়ে, প্রকৃতির মূল্যবান সম্পদ আহরণ ও পরিবহনের জন্য রাস্তা তৈরির উদ্দেশ্যে ইতিহাসের বৃহত্তম বন্দিশালা ওরফে শ্রম শিবিরের নেটওয়ার্ক গড়ে তোলার সিদ্ধান্ত নেয়। বনজঙ্গল, পাহাড়-পর্বত, খাড়া উপত্যকা, হিমবাহ ও বালির সাম্রাজ্যের মাঝে পথ তৈরি সহজ ছিল না। সোভিয়েত সরকার ভালোভাবেই জানত, এই পথ তৈরি ও প্রাকৃতিক সম্পদ খুঁড়ে বের করতে যাদের লাগানো হবে তারা প্রায় আর কেউই বেঁচে থাকবে না।
২০১৬ সালে ফরাসি শিল্পী তথা সাংবাদিক মেরি দে লা ভিল বোজে ২,০০০ কিলোমিটার লম্বা পথে ধরে যাত্রা করেন স্তালিনবাদী নিপীড়নের শিকার মানুষদের স্মরণ করে, যাঁরা এই সড়কটি নির্মাণের সময় প্রাণ হারিয়েছিলেন। এই পুরো যাত্রাপথে তিনি কথা বলেছিলেন সোভিয়েত সময়কালে ভালো মজুরির আশায় এই অঞ্চলে পাড়ি জমানো শ্রমিক, ট্রাক চালক, নেকড়ে শিকারি ও এই অঞ্চলে বসবাসকারী নানা পেশার মানুষজনের সঙ্গে। কথা বলেছিলেন গুলাগে বন্দি থাকা মানুষদের বেশ কিছু নাতি-নাতনিদের সঙ্গে। জেনেছিলেন ‘রোড অফ বোনস’-এর দু-ধারের জীবনধারার কথা। তাঁর কথাতেই শোনা যাক এই অঞ্চলে কথা।—
‘মনে হচ্ছিল আমি যেন ইতিহাস বইয়ের পাতায় ডুব দিতে চলেছি। প্রথমে ভেবেছিলাম মস্কো থেকে আটটি টাইম জোন পার হয়ে মাগাদান পর্যন্ত গাড়ি করে যাব, কিন্তু এতে প্রায় ৯,০০০ কিলোমিটার পাড়ি দিতে হবে ও কম করে দুই থেকে তিন সপ্তাহ সময় লাগবে জেনে আমি প্লেনে চেপে মাগাদান পৌঁছনোর সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম।
‘উড়ানের শেষ সময়কালে কোলিমা অঞ্চলের ওপর দিয়ে ওড়ার সময় মুগ্ধ হয়ে দেখেছিলাম সুবিশাল তাইগার দৃশ্য, হিমবাহ, সাদা বালিয়াড়ি, পাইনের অরণ্য আর জমে থাকা নদী।’
১৯৩০ সালে মাগাদান ছিল গুলাগে পাঠানোর প্রধান ট্রানজিট শহর। স্তালিনের মৃত্যুর পর যখন এই বন্দি শিবিরগুলো ‘দালস্ত্রয়’ (Dalstroi) ব্যবস্থায় একে একে ধ্বংস করা হয়, তখন কিছু বন্দি এই অঞ্চলে থেকে যান ও পরবর্তীতে সোভিয়েত ইউনিয়নের নানা প্রান্ত থেকে আসা বেতনভুক কর্মীরাও এঁদের সঙ্গে যোগ দিয়ে বংশানুক্রমে এখানে বসবাস শুরু করেন। ১৯৯০ সালে মাগাদানের জনসংখ্যা বেড়ে প্রায় পাঁচ লাখে পৌঁছায়, কিন্তু সোভিয়েত ইউনিয়নের পতনের সঙ্গে সঙ্গে স্থানীয় অর্থনীতি ভেঙে পড়ে ও শহর ছেড়ে লোকজন অন্য জায়গায় চলে যেতে শুরু করে।
এই হাইওয়ে এমন এক অঞ্চলে অবস্থিত যেখানে আন্টার্কটিকার বাইরে সবচাইতে কম তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে। স্তালিন-জমানা শেষ হবার পর এই হাইওয়ে দীর্ঘদিন অবহেলার কারণে চলাচলের অনুপযুক্ত হয়ে পড়েছিল। ২০০৮ সালের পর এই হাইওয়ে ফেডারেল হাইওয়ের মর্যাদা পায় ও নুড়ি-পাথর বিছিয়ে সব ঋতুতে চলাচলের উপযোগী করে গড়ে তোলা হয়।
লেনা নদীর পূর্বদিকে অবস্থিত এই হাইওয়ে ধরে চলা ভীষণ বিপদজনক। এখানে শীতকাল টানা দশ মাস স্থায়ী। কম দৃশ্যমানতায় বরফের ওপর দিয়ে গাড়ি চালানো সহজ নয়। এই অঞ্চলের মাটির গভীর স্তর স্থায়ীভাবে জমে থাকার জন্য (পারমাফ্রস্ট) এখানে পিচঢালা রাস্তা করা সম্ভব নয়। আবার গরমকালেও প্রবল বৃষ্টির ফলে কাদার কারণে এই রাস্তায় প্রবল যানজট হয়।
কোলিমা হাইওয়ের সঙ্গে আর একটি সংযোগকারী হাইওয়ে তৈরির কাজ শুরু হয়েছে। চুকোতকা (Chukotka) থেকে এই সড়ক ইলিরনি, ওমোলন ও ওমসুকচান হয়ে যাবে এবং এগভেকিনো ও বিলিবিনোর দিকে। শাখা পথ-সহ মোট ১,১০০ মাইল পথ অতিক্রম করবে। পুরো পথটাই হবে বরফের মরুর মধ্যে দিয়ে নুড়ি বিছানো। এই পথ ২০১১ সালে তৈরি শুরু হয়ে ২০২৫ সালে শেষ হবার পরিকল্পনা থাকলেও ২০২৬-এর সেপ্টেম্বর পর্যন্ত এই কাজ শেষ হয়নি।
গুলাগে দণ্ডপ্রাপ্তদের ট্রান্স সাইবেরিয়ান রেলপথ ধরে সোভিয়েত ইউনিয়নের নানা প্রান্ত থেকে ভ্লাদিভোস্টকে (Vladivostok) নিয়ে যাওয়া হত। সেখান থেকে মালবাহী জাহাজে করে চালান করা হত নাগায়েভ উপসাগরের মাগাদানে। সপ্তাহ খানেক কাটত বন্দিদের জাহাজের খোলে। সেখানে বন্দিদের নামানো হত পন্টুন বা ভাসমান ঘাটে। এই ঘাটের ভয়াবহ-সব অভিজ্ঞতার কথা লিখে গেছেন গুলাগ থেকে বেঁচে ফেরা ভারলাম শালামভ ও ইভজেনিয়া গিনজবার্গের মতো ব্যক্তিরা। বছরে পর বছর ধরে উপসাগরের বরফের আঘাতে বর্তমানে ঘাটটি ব্যবহারের উপযোগী নেই। ইয়াগোদনোয়ে গ্রামের গুলাগ যাদুঘরের কিউরেটর ইভান পানিকারভের মতে, মাগাদানের ট্রানজিট ক্যাম্পে কিছু সময় কাটানোর পর বন্দিদের এই অঞ্চলের বিভিন্ন স্থানে ছড়িয়ে দেওয়া হত।

মাগদান শহরের বাইরে এক পাহাড়চূড়ার ওপর যেখানে একসময় গুলাগের ট্রানজিট ক্যাম্প ছিল, সেখানে গুলাগের বন্দিদের স্মৃতিতে তৈরি হয়েছে এক স্মৃতিস্তম্ভ যা ‘মাস্ক অফ সরো’ নামে পরিচিত। এটি হয়তো একটি সাধারণ স্মৃতিস্তম্ভ, কিন্তু এটি এমন এক দেশে প্রস্তুত করা হয়েছে, যে-দেশ ভুলে যেতে চাইছে অতীতের এক ভয়াবহ কলঙ্কময় অধ্যায়। কত মানুষ মারা গিয়েছিল সেখানে? সঠিক তথ্য কোনোদিন জানা যাবে না, কারণ কোনও নথি রাখা হয়নি। তবে কমিউনিস্ট সোভিয়েত ইউনিয়ন হিসেব দিয়েছিল, সেখানে লোক মরেছে ১০,২৫১ জন। সি.আই.এ একটা আন্দাজ লাগিয়েছিল ১৯৫০-এ। সে-হিসেব বলেছিল, সংখ্যাটা ৩০ লাখ। সেখানকার মানুষজনের সাধারণ বিশ্বাস হল, এ-রাস্তার প্রতি এক মিটার তৈরিতে একজন মানুষের প্রাণ গিয়েছিল। সেই হিসেব মোতাবেক মৃত্যুর সংখ্যা ১০ লাখ। আবার সম্প্রতি, সে-সময়কার শিপিং ও ক্যাম্প রেকর্ড ঘেঁটেঘুঁটে নর্ম্যান পামার ও মার্টিন বলিঞ্জার সিদ্ধান্তে পৌঁছেছেন যে ওতে মৃত্যু হয়েছিল মোট ১,৩০,০০০ জনের।
মেরি দে লা ভিল বোজের বর্ণনাতে চেনা যাক ‘রোড অফ বোনস’-কে।—
‘যে পথের তলায় চাপা পড়ে হাজার হাজার সে পথই নির্মাণকারী ‘জেক’ বা বন্দি শ্রমিকের দেহ, সে পথ দিয়ে যতই এগোচ্ছিলাম ততই শরীরে শিরশিরানি বেড়ে যাচ্ছিল। অদ্ভুত অনুভূতি। পিচ-ঢালাইহীন হাইওয়েতে গাড়ি চলাচল প্রায় নেই। দু-দিনের মধ্যে চোখে পড়েছে মাত্র ৩০টি ট্রাক, ডজন খানেক গাড়ি, দুটো বাস আর কয়েকটি গ্রিটার (বরফ সরানোর গাড়ি)। আর অদ্ভুত যে জিনিসটা চোখে পড়েছে, তা হল বিচিত্রসব রঙের আভা। গাঢ় নীল, পেট্রোল ব্লু, ধূসর-নীল কিংবা উত্তরের সোনালি আলোয় ঝিকমিক করা রুপালি-নীল—কত কত রঙ। বাতাস বইতে শুরু করলেই রাস্তার ওপর হালকা সূক্ষ্ম অর্গানজা কাপড়ের মতো রঙের আবরণের খেলা শুরু হয়, যা দূর থেকেই দেখা যায় আর কাছে এলেই মিলিয়ে যায়।
‘পথের দু-পাশে ছড়িয়ে বন্দি শিবিরের ছোঁয়া। ক্রুশ চিহ্ন দেওয়া গণকবরের স্থান, কিছু ব্যক্তিগত যাদুঘর, আর গুলাগের বন্দি ও মৃত মানুষদের পরবর্তী প্রজন্মের বাস। দেখা হয়েছিল এলেনার সঙ্গে। সে আমাদের কোলিমা নদীর ধারে এক জলবিদ্যুৎ কেন্দ্র দেখাতে নিয়ে গেছিল। তার কাছেই শুনেছিলাম তার পারিবারিক ইতিহাসের কথা। এলিনার দাদু-ঠাকুমা ও দাদু-দিদা সবার স্থান হয়েছিল এই গুলাগে। এলিনার বাবার বাবাকে এখানে পাঠানো হয়েছিল রাজনৈতিক বন্দি হিসেবে আর ঠাকুমার স্থান হয়েছিল একটি যৌথ খামারে কাজ করার সময় বস্তা খানেক ধান চুরির দায়ে। ‘সমাজতান্ত্রিক সম্পত্তি চুরি’-র অভিযোগে ৫ থেকে ১৫ বছরের সশ্রম কারাদণ্ডে দণ্ডিত এই ‘উজাকনিকি’ বা দণ্ডপ্রাপ্তরাই ছিল মোট বন্দিদের অর্ধেক। এলেনার দাদু-ঠাকুমা আর দাদু-দিদার পরিচয় হয়েছিল এই বন্দি শিবিরে। শিবিরগুলো বন্ধ হয়ে যাওয়ার পরও তাঁরা এই অঞ্চলে থেকে গিয়ে কাজ চালিয়ে যান। সেই সময়টিতেই প্রাক্তন বন্দি, প্রাক্তন কারারক্ষী এবং নতুন কর্মীদের মধ্যে মেলামেশা ও সহাবস্থান গড়ে উঠেছিল।
‘সিনেগোরি শহর ১৯৭০ সালে তৈরি হয়েছিল কোলিমা জলবিদ্যুৎ কেন্দ্রকে ভিত্তি করে। লারিসা নামের এই জলবিদ্যুৎ কেন্দ্রের এক কর্মী ভ্লাদিভোস্টকে থাকার সময় ছিলেন ক্লাসের সেরা ছাত্রী। পুরস্কার-স্বরূপ তাঁকে ১৯৯০ সালে এখানে পাঠানো হয়েছিল জলবিদ্যুৎ কেন্দ্রে। সে-সময়টা ছিল এই শহরের স্বর্ণযুগ। শাশলিক কাবাব, উৎসব-পার্বণ, নাচ-গানে মেতে থাকত শহর। কিন্তু তা সত্ত্বেও যেন গুলাগের ছায়া চেপে বসে ছিল শহরের মাঝে। বাতাসে মাঝে-মাঝেই শোনা যেত যাদের হাড় বিছানো রাস্তার নীচে, তাদের আর্তনাদ। সবাই একে একে শহর ছেড়ে চলে গেছে। লারিসারও চলে যাবে পিটার্সবার্গে। অচিরেই পরিত্যক্ত হয়ে যাবে ‘রোড অফ বোনস’-এর ধারের আর এক শহর।’
এই হাইওয়েতে গাড়ি চালানো মোটেই সহজ নয়। শীতকালে এই রাস্তার গড় তাপমাত্রা থাকে হিমাঙ্কের ৪০ ডিগ্রি সেন্টিগ্রেডের নীচে। তাপমাত্রা এর নীচে নেমে গেলে গাড়ির ইঞ্জিন বিকল হয়ে যাওয়া খুব স্বাভাবিক ঘটনা। একবার কোনও ট্রাক বা গাড়ি বন্ধ হয়ে গেলে বসন্তের আগে তা চালু করা সম্ভব হয় না। তাই রাস্তার ধারে কোনও গাড়িকে থেমে থাকতে দেখলে অন্য গাড়ির চালকদের সেখানে দাঁড়াতেই হবে। এটা এই পথের অলিখিত নিয়ম। শীতকালে এখানে সবসময় গাড়ির ইঞ্জিন চালু রাখতে হয়। একবার এই রাস্তায় একটা গাড়ি বিকল হয়ে পড়েছিল তাপমাত্রা হিমাঙ্কের ৫৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস নীচে নেমে যাওয়ায়। ড্রাইভার ইয়াকুস্ক থেকে ‘বার্ণি’ বিস্কুট আর মরক্কোর কমলালেবু নিয়ে যাচ্ছিলেন ‘রোড অফ বোনস’-এর ধারের নানা জনপদে বিক্রি করার জন্য। যদিও গাড়ির ড্রাইভার ঘাবড়ে যাননি। তিনি জানতেন কোনও না কোনও গাড়ির ড্রাইভার তাঁকে উদ্ধার করবেন। শুধু তাঁর কাজ হচ্ছে গাড়ির ভেতর ধৈর্য ধরে অপেক্ষা করা। এখানকার গাড়ির রেফ্রিজারেশন সিস্টেম এমনভাবে তৈরি যে বাইরের তাপমাত্রা -৫০ ডিগ্রি হলেও গাড়ির ভেতরের তাপমাত্রা থাকে ৫ ডিগ্রি। কিন্তু সমস্যাটা হল, গাড়ির ইঞ্জিন বন্ধ হয়ে গেলে রেফ্রিজারেশন সিস্টেমও কাজ বন্ধ করে দেয়।
ঠান্ডা নিয়ে ঠাট্টা চলে কোলিমা অঞ্চলের বাইরের অংশের ঘুরতে যাওয়া মানুষদের মধ্যে। ‘এখানে বেশ ঠান্ডা, তাই না? আজ তাপমাত্রা -৫৩ তো দু-দিন পর সেটা দাঁড়াতে পারে -৫৮-তে। কোলিমা এক মায়াবী গ্রহ, এখানে মাত্র ১২ মাস শীত আর বাকিটা গ্রীষ্মকাল।’ এখানে -৪৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রায় স্কুল খোলা থাকে, বন্ধ হয় -৫০-এর নীচে হলে। এ-পথে প্রতি ২৫০ কিমি পরপর একটি করে জ্বালানি ভরার জায়গা ও ক্যাফে।
‘রোড অফ বোনস’-এর ভিডিও দেখা যাবে সঙ্গের কোড স্ক্যান করলে–
ছবি: ইন্টারনেট থেকে সংগৃহীত
বিচিত্র দুনিয়া- আরো পর্ব–>
ভালুকের খপ্পরে, বড়োদিনের বারবেলা, একটি ঈগলের কাহিনি, আকাশের ‘ডাক’, পাইথন শিকার অভিযান, বল্গাহরিণের খোঁজে, চাই গো আমি রাজা হতে, বামনের দেশ , হীরক জ্বর, পোষ্যের অন্তিম যাত্রা , খেদাই বাগদির বেঁচে ফেরা , তিমির গান , চামপ্লিন হ্রদের দানো , মই ছাড়া বলদ দৌড় , ফ্রাঙ্কলিন সাহেবের ট্রেন, কাদার ফাঁদ, আটহাজার বছর প্রাচীন পদ্ধতির মধু শিকার কি শেষের পথ্ ভারতের মিস্টার ভ্যাকসিন কৃষ্ণমূর্তি এল্লা, ঘুড়ির টানে্সমাধিপুরী আস্তানা, হোইয়া-বাকু্, নিষিদ্ধ স্নেক আইল্যান্ড , ঈশ্বর পর্বতের মৃত্যু হ্রদ্, চিয়েঙ্গির বোমা ঘেরা গ্রাম্, ঝাড়ুদারি কারচায় লেক,মাকড়শা সাপ্, লম্বা চুলের দেশ , মরুভূমির লেক-এ মাছ ধরা , লম্বা গলার গ্রাম , জুতা আবিষ্কার, ভূতুড়ে রেডিও স্টেশন, মোবাইল ফোন বিশ্বের সবচেয়ে উঁচু রেলপথ, হোলো বান্দর, ডাইনি গ্রাম, কোলম্যানস্কপ – বালিতে তলিয়ে যাওয়া হিরের শহর, মানুষ যখন দাবার ঘুঁটি, জীবাণু অস্ত্রের দ্বীপ