প্রতিবেশী গাছ- লাল জামরুল- অপূর্ব চট্টোপাধ্যায় শরৎ ২০১৫

jamrul

এবার একটি স্বল্পখ্যাত গাছের কথা লিখছি। আমরা সকলেই রসালো মিষ্টি ফল জামরুল খেতে অভ্যস্ত। বছরের বেশ কিছুটা সময় বাজারে বা লোকাল ট্রেনে বেশ বড় বড় সাদা রঙের জামরুল বিক্রি হয়।

তবে টুকটুকে লাল রঙের জামরুল খুব কম মানুষই দেখেছেন। এই লাল জামরুল ফলটি আকার আকৃতিতে সাদা জামরুলের তুলনায় কিছুটা ছোটো। তবে দেখতে বড়ই সুন্দর। গাছে যখন লাল জামরুল ফল ধরে তা দেখতে বড়োই মনোরম। দূর থেকে লাল ফুল বলেই মনে হয়।

এই লাল জামরুল গাছটির বৈজ্ঞানিক নাম Syzygium samarangense । বাংলায় লিখলে সাইজাইজিয়াম সামারানজেনস। তবে বাংলায় লেখা সঠিক নয়। প্রাণী বা গাছপালা এক এক দেশে এক এক নামে পরিচিত। তাই বিজ্ঞানীরা সকলের বোঝার জন্য বিজ্ঞানসম্মত নাম প্রচলন করেছেন। এটি ইংরিজি হরফের বক্রলেখায় বা ইটালিক্‌স্‌-এ লেখার নিয়ম।

এই স্বল্পখ্যাত গাছটি একটি সপুষ্পক উদ্ভিদ। এই গাছটি এখনও আমাদের দেশে কমই দেখা যায়। বেশ কয়েক বছর আগে বর্ধমান-হাওড়া মেন লাইনের আদি সপ্তগ্রাম রেল স্টেশন-সংলগ্ন গুরুপুর নার্শারি ত্থেকে একটি লাল জামরুলের চারা এনে বাগানে লাগিয়েছিলাম।  আজ সেটি দশ-বারো ফুটের মত লম্বা হয়েছে।  বছরে তিনবার ফল ধরে। বর্ষার সময় ফলের সংখ্যা বেশি হয়, দুশো আড়াইশোটির মতন ফল ধরে। তবে হনুমানের উৎপাতে সেগুলি পরিপূর্ণতা লাভ করতে পারে না। পবন নন্দনরা দল বেঁধে এসে ফলাহার সারেন সকালে। বর্ষার ঠিক আগে এবং দুর্গাপূজার পূর্বে আরও দু বার জামরুল ফল ধরে। তবে ফলের সংখ্যা কিছু কম হয় তখন।

লাল জামরুল ফলটি প্রাথমিক অবস্থায় সাদা রঙের। তারপর ফলের ডগার দিকে লাল রঙের আভা দেখা যায়। পরে ফলটি বড়ো হওয়ার সাথে সাথে  পুরো ফলটিই লাল রঙের হয়ে যায়। পরিপক্কতা লাভের সাথে সাথে লাল রঙ আরও গাঢ় হয়। সেই সময় দেখতে খুবই ভালো লাগে।

এই গাছটির আদি বাসস্থান দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার মালয় দেশ এবং ভারতবর্ষের আন্দামান নিকোবর দ্বীপপুঞ্জ বলে বিজ্ঞানীরা মনে করেন। তবে আজ পৃথিবীর বহু দেশে, বিশেষত গ্রীষ্মমন্ডলের দেশগুলিতে এই গাছটি দেখা যায়। চিরহরিত পাতাগুলি চার-পাঁচ ইঞ্চি লম্বা। ছোটো অবস্থায় পাতাগুলি হালকা সবুজ। বড় হওয়ার পর গাঢ় সবুজ বর্ণের হয়ে যায়। সাদা ফুলগুলি ছোটো, চারটি পাপড়িযুক্ত। ফল ঘন্টাকৃতি। বিশেষভাবে উল্লেখ্য, গাছের কান্ডের যে কোন অংশে ফুল ফোটে এবং পরে সেগুলি ফলে রূপান্তরিত হয়।  বড়ো গাছে পাঁচ-সাতশো ফল ধরতে পারে।

এ দেশের জামরুল গাছ দক্ষিণ পূর্ব এশিয়ার দেশসমূহে বিভিন্ন নামে পরিচিত। ইন্দোনেশিয়ায় জাম্বু এয়ার, থাইল্যান্ডে চ্যাম্পু, তাইওয়ানে লেম্বু বা লিয়ান-উ। অন্যত্র ওয়াক্স অ্যাপল, লাভ অ্যাপল, জাভা অ্যাপল, বেল ফ্রুট, ওয়াটার অ্যাপল, মাউন্টেন অ্যাপল, ক্লাউড অ্যাপল, ওয়াক্স জাম্বু বা রোজ অ্যাপল।

সব দেশেই জামরুল ফল হিসেবে ব্যবহৃত হয়। তবে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয় দ্বীপপুঞ্জের কিছু স্থানে স্যালাডে এই ফলটি ব্যবহার করা হয়। এছাড়া তাইওয়ানে এই গাছের ফুল জ্বর এবং ডায়ারিয়া রোধে ব্যবহৃত হয়।