অণুগল্প পরিচিত রুমেলা দাস বসন্ত ২০১৯

               আগের সংখ্যার অণুগল্পগুলো

পরিচিত

রুমেলা দাস

শ্রীতমা রোজ স্কুল যাবার পথে এই ভদ্রমহিলাকে দ্যাখে। আর মনে মনে অবাকও হয়। দু-হাতে বড় বড় দুটো ক্যারি ব্যাগ নিয়ে এসে দাঁড়ান ল্যাম্পপোস্টের পাশে। তারপর একে একে বের করেন টিফিনবক্সগুলো। ওরাও লেজ নেড়ে দৌড়ে এসে সাপটে সুপটে সাবাড় করে দেয় বক্সে আনা মাখা ভাত। প্রত্যেকেরই একটা করে নামও দিয়েছেন উনি। এসব দেখতে দেখতেই স্কুলবাস এসে যায়, শ্রীতমাও জানলার ধারে গিয়ে বসে। এরপরে ঠিক কি হয় ওর আর জানা নেই। ওনার বাড়িতে কি কেউ বকেনা? ওরা যে ওনার গা ঘেঁষে এসে দাঁড়ায়। মা একদিন বলেছিল  পোকা হয় ওদের গায়ে। হাত দিলে ইনফেকশনও হতে পারে। শ্রীতমা তাই নিজের পছন্দটা বলব বলব করেও কোনোদিন বলতে পারেনি বাবা,মাকে।

স্কুলবাসে ও উঠতে আসে, একা। ওদের আদর করার ইচ্ছে হলেও বাবা, মাকে কেউ যদি বলে দেয় সেই ভয়ে আর এগোয় না।

এর মধ্যে দেখতে দেখতে পেরিয়ে গেছে দিন সাতেক। কিন্তু বেশ কিছুদিন ধরে লক্ষ করছে। কুকুরগুলো মুখ উঁচু করে এই সময়টায় বসে থাকে, আর এদিকে ওদিকে শুঁকে বেড়ায়। ভদ্রমহিলা আর আসেন না। কোথায় গেলেন উনি? আর আসেন না কেন? ওঁকে কি কেউ বকেছে?

একদিন শ্রীতমা আর থাকতে না পেরে টিফিন বক্স খুলে, স্যান্ডউয়িচ ছিঁড়ে ছিঁড়ে ওদের দিতে থাকে। ওরা সংখ্যায় অনেক। ও বুঝতে পারছিল ওদের পেট ভরছিল না। কিন্তু শ্রীতমাকে ঘিরে ওরা নাচানাচি শুরু করেছিল এমনকি পা চেটে দিচ্ছিল কুৎকুতে তুলোর বলের মত সাদা রঙের বাচ্চা কুকুরদুটো। আর ঠিক তখনই সামনের পানের দোকান থেকে বিলুকাকু বেরিয়ে এগিয়ে আসেন। ওর দিকে তাকিয়ে বলেন, “খুব ভালো কাজ করছ মা। উনি তো চলে গেছেন। এক বছর ধরে ওদের বড় আদরে রেখেছিলেন। অসুস্থ হলে সেবা পর্যন্ত করেছেন। এখন আর কে এসব ভাবে? একমাস হল উনি হার্ট অ্যাটাকে…”

শ্রীতমা কী বলবে কিচ্ছু বুঝতে পারছিল না। এই তো সেদিন ওঁকে.. অথচ বিলুকাকু বলছে একমাস আগে…

হঠাৎই বাচ্চা কুকুরদুটো কুঁই কুঁই করতে করতে দৌড়ে যায় ল্যাম্পপোস্টের দিকে। গোল গোল হয়ে ঘুরে ল্যাজ নাড়তে থাকে! বাকিরাও কিসের আনন্দে যেন ঘুরপাক খাচ্ছিল! যেন ওরা পরিচিত কাউকে দেখতে পেয়েছে…

অলঙ্করণঃ অংশুমান দাশ

জয়ঢাকের সমস্ত গল্প ও উপন্যাস

8 thoughts on “অণুগল্প পরিচিত রুমেলা দাস বসন্ত ২০১৯”

  1. চমৎকার অণুগল্প । নির্মেদ । অভীষ্ট লক্ষ্য ছুঁয়ে যায় ঠিক।

  2. Darun likhecho Rumela. Tomar protita golper ekta mojar dik ache, tumi golpo ta bachchader kothon diye lekho, tader point of view diye duniyatake dekhao. Ar sobseseshe emon ekta message chhere jao, bar bar mone hoy- ish abar jodi bachcha hote parotam.

  3. দারুণ মজাদার এবং সুন্দর মনকাড়া গল্প।

  4. গল্পটা বেশ ভালো লাগলো–পশু-পাখির প্রতি এমনি ভালোবাসার প্রয়োজন আছে। ধন্যবাদ লেখিকা।

Leave a Reply