জয়ঢাকি বোল সম্পাদক বসন্ত ২০১৭

এসে গেল বসন্ত। পরীক্ষা শেষ। বেড়াতে যাবে তো? বাবা মায়ের সাথে তো বটেই, কিন্তু সে ছাড়াও আরো একরকমের বেড়ানো হয় শীতকাল থেকে শুরু হয়ে বসন্তের প্রথম অংশটা পর্যন্ত।

সারা দেশ জুড়েই এমন অনেক দাদাদিদি রয়েছেন তোমাদের যাঁরা বড়ো হয়ে গেলেও, কী আশ্চর্য, আজও ভালোবাসেন পাহাড় চড়তে, লম্বা পথে পিঠে ঝোলা চাপিয়ে একলা একলা যেতে যেতে আকাশবাতাসের সঙ্গে গল্প করতে, পাখি দেখতে অথবা চিনে নিতে আকাশের তারাদের।

 এই দাদাদিদিরা গোটা এই সময়টা জুড়েই বাড়ি থেকে দূরে আকাশ-বাতাস-পাহাড়-নদীর কাছে ঘুরে বেড়াবার ডাক দেন সব ছোটোদের। নির্জন কোন পাহাড়ের ঢালে ম্যাজিকের মত গজিয়ে ওঠে ক্যাম্পের তাঁবু। তারপর তোমাদের একটা বড়ো দলকে নিয়ে তিনচারদিনের ক্যাম্পজীবনের পালা। পাখি চেনা, গ্রামজীবনকে চেনা, লম্বা হাঁটার আনন্দ, রাতের অন্ধকারে তারা চিনে ফিরে এসে গল্পের আসর, আর সবচেয়ে জরুরি, পাহাড় চড়বার গোড়ার শিক্ষা।

একটা ম্যাজিক বলে দি চুপিচুপি। যদি তুমি একবার জেনে ফেল, কেমন করে পাথরের খাঁজ আঁকড়ে ধরে আকাশে মাথা উজিয়ে উঠে যাওয়া যায় একটা পাহাড়ের মাথায়, তাহলে যেদিন তুমি সেইটে করে ফেলতে পারবে সেদিন থেকে জীবনের সব ভয় তোমায় ছেড়ে পালাবে। পরীক্ষা হোক কি রাগী বাবা, কাউকেই আর ভয় লাগবে না তখন দেখে নিও। ভয়গুলো আসলে সবচেয়ে ভয় পায় পাহাড়কে। তাকে যে জয় করে তাকে তাই ভয়ও ভয় পায় জানবে। যেমন এবারের জয়ঢাকের মলাটের ওই ছোট্টো মেয়েটাকে। পুরুলিয়ার গজাবুরুতে যেদিন সে ওই লম্বা পাথরটার মাথায় নিজে নিজে চড়ে গেল, সেদিন থেকে সে একজন বেজায় সাহসী মানুষ।

যাবে নাকি? এই বসন্তে পাহাড় চড়তে? না পার যদি তাহলেও পরের শীতবসন্ত তো রইলই। ম্যাজিকটা একবার পরখ করে দেখতে হবে তো!

ভালোবাসায়,

তোমার জয়ঢাকি দাদাদিদিরা

1 thought on “জয়ঢাকি বোল সম্পাদক বসন্ত ২০১৭

Leave a Reply