দেবাশিস সেনের আরেক অ্যালবাম–চলো যাই ঘুরে
জয়ঢাক পুজো স্পেশাল ২০১৭ সব লেখা একত্রে

এক নয় দুই নয় দশ নয়, কুড়ি নয়, গুনে গুনে সাঁইত্রিশ বছর পর যাচ্ছি শৈশব, কৈশোরের শহর, আসামের উত্তর-পূর্ব সীমানার ছোট্ট তেলের শহর, অয়েল ইন্ডিয়া লিমিটেডের হেডকোয়ার্টার দুলিয়াজানে। সপরিবারে, সঙ্গে ওই শহরে ক্লাস ওয়ান থেকে একসঙ্গে পড়া এক বন্ধু, দুই বান্ধবীও রয়েছে। ওদের বাড়ির লোকও রয়েছে।
পরবর্তী প্রজন্ম আমাদের নস্টালজিয়া কতটা অনুভব করবে জানি না, তাই দুলিয়াজান পৌঁছোনর আগে রয়েছে আসামের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য উপভোগ করবার খানিক প্রয়াস।
তাই গুয়াহাটি, কাজিরাঙা, জোরহাট হয়ে আমরা এখন নিমাতিঘাটে। এখান থেকে লঞ্চে চেপে আমরা যাব মাজুলি—পৃথিবীর বৃহত্তম নদী দ্বীপে।

নিমতিঘাট থেকে উথালিপাথালি ঢেউ কেটে আধঘন্টার কম সময়ে পৌঁছে যাই মাজুলির জেটিতে ।

লঞ্চ বোঝাই মানুষ, গাড়ি, মোটরসাইকেলে। লঞ্চের ভেতর রয়েছে বসবার ব্যবস্থা।


তবে ওপরে বসে যাওয়ার মজাই আলাদা। নদীর বুকে বসে তীরের বালুচরের দৃশ্য সত্যি মনোরম।
মাজুলি পৃথিবীর বৃহত্তম নদী দ্বীপ। বিংশ শতাব্দির সূচনায় মাজুলির আয়তন ছিল ১২৫০ বর্গ কিলোমিটার। বন্যা, ভূমিকম্প, আস্তে আস্তে গিলে নিচ্ছে মাজুলিকে। ২০১৪র সমীক্ষায় মাজুলির আয়তন ৩৫২ বর্গ কিলোমিটার।
পৌরাণিক বহু কাহিনি জড়িয়ে আছে মাজুলির সঙ্গে। পরশুরাম, কৃষ্ণ সকলেই নাকি এসেছিলেন এখানে। পৌরাণিক কাহিনির সত্য-মিথ্যার বিতর্কে না জড়িয়ে নজর দিই মাজুলির প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে।
ছোট্ট দ্বীপ মাজুলি নিজেকে সাজিয়েছে অপরূপ সৌন্দর্যে। ব্রহ্মপুত্রের তীরে বালির চরা, শরবন।





দ্বীপের বুকে হলুদ সর্ষের ক্ষেত,
চারপাশে গাছপালায় ঢাকা রাস্তা,
রয়েছে পুকুর, পাখি উইঢিবি ।

আর ভোরের মাজুলি তো অপূর্ব।
ছোটোখাটো জমজমাট বাজারও রয়েছে।

যে রিসর্টে ছিলাম সেটিও অপূর্ব। বাঁশ-বেতের সমারোহে তৈরি বাড়ি,টেবিল, চেয়ার, বিছানা, গৃহসজ্জা একই জিনিসে তৈরি

পঞ্চদশ শতকে শঙ্করদেব এবং তাঁর শিষ্য মাধবদেব মাজুলিতে বৈষ্ণবধর্ম প্রচারে সত্র সংগঠন শুরু করেন। সত্র শুধু ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান নয়, সমাজ ও সংস্কৃতির প্রতিচ্ছবি। অজস্র সত্র ছড়িয়ে আছে মাজুলির চারপাশে। তিনটি সত্রে আমরা গিয়েছিলাম। নামঘর মিউজিয়াম, মুখোশ তৈরির নানান ছবি রইল এখানে।

মাজুলির অধিবাসীদের মধ্যে রয়েছেন অরুণাচল থেকে আসা মিসিং উপজাতির মানুষ। রয়েছেন অসমিয়ারা। অরুণাচলের নানা কাজে জড়িয়ে আছেন ওঁরা। তাঁত বোনা, মুখোশ তৈরি, এমন কত কী! খুব গরিবরা কচুরিপানা সরিয়ে কুঁচো মাছ ধরেন পেটের জ্বালা মেটাতে।



কলমেঃ দেবাশিস সেন। ক্যামেরায়ঃ দেবাশিস সেন, সাগ্নিক কুমার সেন। শীর্ষে লেখকের রেখাচিত্রঃ রাহুল মজুমদার
Ashadharon………well written…….. &……. lovely photography……