বৈজ্ঞানিকের দপ্তর বিজ্ঞানবিচিত্রা- প্রোবায়োটিক অপূর্বকুমার চটোপাধ্যায় শরৎ ২০১৮

 অপূর্ব চট্টোপাধ্যায়  সব লেখা একত্রে

বিজ্ঞানী ক্যারি মুলিস এবং Polymerase Chain Reaction আবিষ্কার

অপূর্ব চট্টোপাধ্যায়

গল্প (মনে) হলেও সত্যি ১

[বর্তমান কালে মানুষের জীবন বিজ্ঞানের আবিষ্কার এবং যন্ত্রনির্ভর। যন্ত্রযান ছাড়া আমরা চলতে পারি না। হাতে সেলফোন নেই এমন মানুষ বোধহয় খুঁজে পাওয়া যাবে না। যে সব বিজ্ঞান সাধকদের অবদানে আমরা সবাই উপকৃত হচ্ছি তাদের নাম আমরা কেউ জানি না বা মনে রাখি না। অথচ অতি সাধারণ রাজনৈতিক চরিত্র বা ক্রিমিন্যালদের নাম অনেকেই জানি। এটা ভাবতে অবাকই লাগে। ‘গল্প (মনে) হলেও সত্যি’ এই শিরোনামে আবিষ্কারের গল্পের একটি সিরিজ লেখার ইচ্ছা রইলো। আজ দেওয়া হল এর প্রথম কিস্তি।] 

আমেরিকার বিজ্ঞানী ক্যারি মুলিস ১৯৯৩ সালে নোবেল পুরস্কার পেয়েছিলেন তাঁর যুগান্তকারী আবিষ্কার Polymerase Chain Reaction (PCR) -এর জন্য। এই আবিষ্কারের ফলে ডি এন এ সায়েন্স সহ বায়ো-মেডিক্যাল সায়েন্স, ফোরেন্সিক সায়েন্স ইত্যাদি বিষয়ে গবেষণার ধারা পালটে গেছে। বিজ্ঞানীরা বর্তমান কালকে দুটি ভাগে ভাগ করেছেন, PCR-পূর্ব যুগ এবং PCR-পরবর্তী যুগ। এ হেন বিজ্ঞানীর জীবনের একটি ঘটনা আজ লিখছি। 

১৯৮৩ সালের শুক্রবারের এক রাত্রে বিজ্ঞানী মুলিস কাজ সেরে বাড়ি ফিরছেন। রাত একটু গভীর হয়েছে। উনি নিজেই গাড়ি চালাচ্ছিলেন, পাশে বসে ছিলেন ওঁর বান্ধবী। বান্ধবীও বিজ্ঞানী, একই সংস্থায় কাজ করেন। মুলিস তখন গবেষণা করছিলেন কি ভাবে ডি এন এ অণুর সংখ্যা বৃদ্ধি করা যায় তাড়াতাড়ি। কিছুতেই এই সমস্যার সমাধান করতে পারছিলেন না। সেদিন রাত্রে সমুদ্রের ধার দিয়ে গাড়ী চালাতে চালাতে হঠাৎ তাঁর মনে হল ডি এন এ অণুর দুটি তন্ত্রীর দুই প্রান্তে যদি পলিমারেজ উৎসেচক (এবং সঙ্গে প্রাইমার) জুড়ে দেওয়া যায় তাহলে একটি ডি এন এ অণুর দুটি তন্ত্রী চারটি তন্ত্রীতে রূপান্তরিত হবে। এই পদ্ধতি পুনরায় প্রয়োগ করলে চারটে তন্ত্রী থেকে আটটা হবে। এই ভাবে খুব কম সময়ে [২, ৪, ৮, ১৬, ৩২, ৬৪, … ] অনেকগুলি তন্ত্রী পাওয়া যাবে। 

বিজ্ঞানী মুলিস তাঁর ভাবনার কথা সহবিজ্ঞানী বান্ধবীকে বলতে বলতে সামনের দিকে তাকিয়ে গাড়ী চালাচ্ছিলেন। সামান্য কিছুক্ষণ পর বান্ধবীর দিকে তাকিয়ে একটু অবাক চোখেই দেখলেন বান্ধবী ঘুমচ্ছেন!! 

সেদিনের এই ভাবনা বাস্তবায়িত করে ক্যারি মুলিস PCR পদ্ধতি আবিষ্কার করেন যা আজ সারা বিশ্বকে কয়েক ধাপ এগিয়ে দিয়েছে। অথচ মুলিস-বান্ধবী এই ভাবনাকে আমল দেওয়া দূরে থাক পাশে বসে ঘুমিয়ে পড়েছেন। বান্ধবী যদি বিজ্ঞানীর ভাবনাকে অবজ্ঞা করতে পারেন তবে সারা বিশ্ব সেই পথের পথিক হবেন, এ আর বড় কথা কি !!

বৈজ্ঞানিকের দপ্তর সব লেখা একত্রে

Leave a Reply