সুরঢাক আলোর পানে প্রাণের চলা সন্দীপন গঙ্গোপাধ্যায় বর্ষা ২০১৮

আলোর পানে প্রাণের চলা পর্ব-১,  পর্ব-২

[এই দেশের বহুত্বের স্বর বহুধাবিস্তৃত নানা ভাষা, ধর্ম, আচারের বে-নি-আ-স-হ-ক-লা’র মতো এই দেশের সঙ্গীতের বহতা ইতিহাসের ধারাও নানা বাঁকে বাঁকে নিজেকে পুনরাবিষ্কার করেছে জয়ঢাকের এই প্রবন্ধমালায় আমরা সেই বিরাট শ্রুতির ধারার কয়েকজন পুরোধার জীবনের সংক্ষিপ্ত ইতিবৃত্ত বয়ান করব]

তৃতীয় পর্ব

ওস্তাদ আব্দুল করিম খান

১৯৩৭ সাল। সেই সময়কার মাদ্রাজ প্রেসিডেন্সি থেকে গানের দল নিয়ে ট্রেন আসছে, গন্তব্য মহারাষ্ট্র বা তখনকার বোম্বে প্রেসিডেন্সির কোলহাপুরের কাছে মীরজ। মাঝে এক অখ্যাত স্টেশন সিঙ্গাপেরুমল কোইলে ট্রেন দাঁড়াল। প্রৌঢ় গায়ক সেই অবেলায় যেন শুনতে পেলেন নিসর্গের ওপার থেকে অন্য এক সুরলোকের ডাক। তাঁর শাগরেদদের তাড়াতাড়ি ওই স্টেশনেই নেমে বিছিয়ে দিতে বললেন একটা কাপড় যার ওপরে বসে তিনি পশ্চিম প্রান্তে মক্কার দিকে মুখ করে প্রার্থনা জানাতে পারেন ওঁর ভেতর ঘরের ঈশ্বরকে।

রাগ দরবারীতে নিবদ্ধ গভীর সেই প্রার্থনার আকুলতা  হয়তো বা শুনতে পেলেন সৃষ্টির অপার রহস্যের আড়ালের সেই অনামা কারিগর। আলাপ শেষে সেই স্টেশনেই লুটিয়ে পড়লেন গায়ক। সমকালীন ভারতের এক শ্রেষ্ঠতম কন্ঠ আফতাব-এ-মৌসিকী ওস্তাদ ফৈয়াজ খান এই মৃত্যুর খবর জানতে পেরে মন্তব্য করেছিলেন যে আজ হিন্দুস্তান থেকে সুর মরে গেল। যাঁকে ঘিরে ছিল সুরের এই জ্যোতির্বলয় সেই মহান শিল্পীর নাম ওস্তাদ আব্দুল করিম খান।

ভারতীয় মার্গ সঙ্গীতের কিরানা ঘরানার স্থপতি হিসেবে ওস্তাদ আব্দুল করিম খান প্রাতঃস্মরণীয়। তার সাথে ওস্তাদ আব্দুল ওয়াহিদ খানকেও এই ঘরানার অন্যতম পুরোধা বলে স্বীকার করেছে সঙ্গীতমহল। ওস্তাদজির অন্যতম প্রধান শিষ্য পন্ডিত বালকৃষ্ণবুয়া কপিলেশ্বরীর লেখা প্রামাণ্য মারাঠি জীবনীগ্রন্থ ‘সঙ্গীতরত্ন আব্দুল করিম য়াঞ্চি জীবনচরিত্র’ থেকে ওঁর জীবনের অনেকটা দিক সম্বন্ধে জানতে পারি আমরা।

উত্তরপ্রদেশের পশ্চিমপ্রান্তে মুজ:ফরনগরের কিরানা বা কৈরানা ছিল এক প্রাচীন জনপদ যা এখন শামলি জেলার অন্তর্গত। এই কিরানা গ্রামেই ১৮৭২ সালে জন্ম হয়েছিল আব্দুল করিম খান সাহেবের। ওঁর বাবা কালে খাঁ এবং জ্যাঠা আবদুল্লা খাঁ ছিলেন মধ্যম মাপের গায়ক। তাঁদের কাছেই ওঁর তালিম মানে স্বর পরিচয় ইত্যাদি শুরু হলেও সম্পর্কে এক কাকা ওস্তাদ ননহে খান সঙ্গীতের রাজ্যে ওঁর প্রাথমিক শিক্ষার ভিত মজবুত করেন, যিনি নিজে ছিলেন একজন দক্ষ গায়ক এবং সেইসময় হায়দ্রাবাদের নিজামের সভার অন্যতম সঙ্গীতজ্ঞ। এই পরিবারের বংশতালিকা প্রায় আমীর খসরুর সময়সাময়িক কিংবদন্তী ধ্রুপদীয়া গোপাল নায়ক পর্যন্ত বিস্তৃত।

আব্দুল করিম খান সাহেব ছিলেন একজন ‘প্রডিজি’। ছোটবেলা থেকেই তাঁর অতুলনীয় সঙ্গীত প্রতিভার পরিচয় পাওয়া গেছিল। বীণ, সেতার, তবলা, সারেঙ্গী, নাকাড়া ইত্যাদি নানাবিধ যন্ত্রে পারদর্শী হওয়া সত্ত্বেও প্রাথমিকভাবে তিনি সারেঙ্গী শিল্পী হিসেবেই পরিচিত হয়েছিলেন। কিন্তু কিছুদিনের মধ্যেই সারেঙ্গী ছেড়ে কণ্ঠসঙ্গীতকেই তিনি মান্যতা দিলেন জীবনে। এর অবশ্য আর একটা কারণ ছিল যে সেই সময় সারেঙ্গী শিল্পীদের খুব একটা উঁচু জায়গা ছিল না সমাজে। তাদের ব্যঙ্গ করা হত ‘মিরাসী’ বলে।

খান সাহেবের প্রথম অনুষ্ঠানের উল্লেখ পাওয়া যায় মীরাঠে যখন ওঁর এগারো বছর বয়স, সাথে ছিলেন এক ভাই লতিফ। সেই আসরে মূলতানী এবং পূরবী রাগে দুই কিশোর কন্ঠে দ্রুত তান এবং সরগম শুনে উপস্থিত গুনীজনেরা উচ্ছ্বসিত প্রশংসা করেছিলেন। মনে রাখা দরকার যে সেই সময় সাধারণত সরগমের তেমন প্রচলন ছিল না খেয়ালে।

এর ছয় বছর বাদে খান সাহেব তাঁর এক ভগ্নীপতি হায়দার বখশের সাহায্যে মাইসোর রাজার প্রবর্তিত দশহরা উৎসবে গান গাইবার ডাক পেলেন। সেই সময় মাইসোর বা মহীশূরের রাজদরবার ছিল সাঙ্গীতিক ভাবে এক অনন্য বৈশিষ্ট্যের অধিকারী কারণ তাতে উত্তর ভারতীয় হিন্দুস্থানী এবং দক্ষিণের কর্নাটকি সঙ্গীতের সমাবেশ ঘটেছিল একই সঙ্গে।

যাইহোক, সেই দশহরা উৎসবে যুবক আব্দুল করিম খুবই খ্যাতি লাভ করেন। তিনি সকালের আসরে উত্তরাঙ্গ ভূপালী বা ‘দেশকার’ রাগে এক নতুন ধাঁচের তান ও সরগম শুনিয়ে দক্ষিণী শ্রোতাদের মোহিত করে দিয়েছিলেন। ওঁর গলায় স্বর এবং শ্রুতির সূক্ষ্ম ছোঁয়া এক নতুন আবেশ নিয়ে এসেছিল সেই আসরে। বাস্তবিকভাবে স্বরের সূক্ষ্মতার ক্ষেত্রে আব্দুল করিম খানের সিগনেচার টোনাল কোয়ালিটির সূত্রপাত ধরা যেতে পারে ওঁর জীবনের ওই পর্যায়কে। কর্ণাটকী শ্রুতির বৈশিষ্ট্যও সেসময় তিনি আত্তীকৃত করেন তাঁর গায়নভঙ্গীতে। পরবর্তীতে তিনি সাঙ্গীতিকভাবে আরো স্থিতধী হয়েছেন। দ্রুত তানের আকর্ষণ ছেড়ে সুরের শুদ্ধতার ক্ষেত্রে নিজেকে সঁপে দিয়েছেন পরিপূর্ণভাবে। কিছুটা গুরুজনদের পীড়াপীড়িতে সেই কৈশোরেই আব্দুল ওয়াহিদ খানের জ্যাঠতুতো বোন গফুরনের সাথে করিম খান সাহেবের বিয়ে হয়। এরপর পরই তিনি বেরিয়ে পড়েন ঘর ছেড়ে। সেই সময় কাথিয়াওয়াড়ের অন্তর্গত ভাওনগর, জুনাগড় ইত্যাদি দেশীয় রাজার দরবারে ওঁদের গানের খুবই সুখ্যাতি হয়। কিছুদিন পরে ওঁর সাথে জুড়িদার হিসেবে লতিফের জায়গা নেন ছোটভাই আব্দুল হক।

সেই সময় বরোদা রাজ্যের রাজা সয়াজী রাও গাইকোয়ার তাঁর দরবারে শিল্প সংস্কৃতির এক নতুন জোয়ার এনেছিলেন। বিবিধ শাসন সংস্কার এবং প্রজাদরদী পদক্ষেপ নেয়ার সাথে সাথে গরীব প্রজাদের দুঃখ দুর্দশা সরাসরি জানার জন্য শোনা যায় যে রাজা ছদ্মবেশে তাঁর রাজ্যের বিভিন্ন অংশে ঘুরে বেড়াতেন রাত্রিবেলা। এমনই এক রাতে ঘোরার সময় আব্দুল করিম খান আর আব্দুল হকের রেয়াজ কানে আসে মহারাজার, যারা সেই সময় বরোদার এক মহল্লায় বাস করছিলেন। ওঁদের গান শুনে মোহিত হয়ে যান মহারাজা যিনি নিজেও ছিলেন সঙ্গীতের এক সমঝদার। দরবারে একটা স্থায়ী চাকরি হয় দুই ভাইয়ের।

কিন্তু আসল ঘটনা ঘটেছিল এর কদিন পরে। দুর্ধর্ষ তানবাজ গায়কদ্বয় আলি বখশ এবং ফতে আলি যাদের আলিয়াফত্তু বলা হত, পাতিয়ালার রাজার ভূয়সী প্রশংসাভরা চিঠি নিয়ে এলেন বরোদাতে। তাঁদের গানের এক বড়ো আসরের ব্যবস্থা হল। রাগ বসন্তে দ্রুত তানের খেয়াল (রেজাখানী) ‘গেইলি গেইলি এন্ডি এন্ডি’ শুনিয়ে তাঁরা প্রায় পুরো আসর মাত করে দিয়েছিলেন।

বরোদা স্টেটের অন্যান্য বয়স্ক মানী গায়কেরা এর মোকাবিলা করার সাহস পাচ্ছিলেন না। সেই সময় যুবক আব্দুল করিম এগিয়ে এলেন। ফের বসন্ত রাগে বিলম্বিত আলাপের পর তাঁর গলা দিয়ে বেরোল সেই একই দ্রুত বন্দিশ। নামী গায়কের সামনে তাঁর সবে গাওয়া গানই আবার গাওয়া মানে যাকে নিতান্ত প্রতিস্পর্ধা বলা যায়। সাথে অতি দ্রুত তান কিন্তু যার মধ্যে মাধুর্য এবং সৌন্দর্যময়তা আরো বেশি। বলাবাহুল্য সেই মেহফিল জয় করলেন খান সাহেব। এর ফলে বরোদা স্টেটে ওঁর জায়গা আরো পাকা হয়। 

শুধু সঙ্গীতই নয়। ঘোড়ার চড়া, শিকার ইত্যাদিতে নিজের নৈপুণ্য দেখিয়ে মহারাজার মন জয় করেছিলেন খান সাহেব। মহারাজা সয়াজি রাওয়ের  ইচ্ছে হয় বিদেশের মতো বরোদায় মিউজিক স্কুল খোলার যেখানে বিদেশী নোটেশনের মতো পদ্ধতিতে ভারতীয় শাস্ত্রীয় সঙ্গীত শেখানো হবে। এই ব্যাপারে কিছুটা নিমরাজি ছিলেন খান সাহেব। তাঁর মত ছিল যে ভারতীয় মার্গ সঙ্গীত গুরুমুখী বিদ্যা। পাশ্চাত্য স্টাফ নোটেশন যা শুধু স্ট্যাটিক বা স্থিত স্বরের প্রকাশ করে তার মধ্যে দিয়ে আমাদের মীড়, গমক বা শ্রুতির প্রকাশ অসম্ভব।

যাইহোক, মহারাজার আদেশে বরোদার রাজমাতার ভাইয়ের মেয়ে তারাবাইয়ের ওপর ভার পরে খান সাহেবের গানের স্বরলিপি লেখার। কিছুদিন পরে এই তারাবাইকেই বিয়ে করেছিলেন খান সাহেব। অবশ্য সেই সময় তিনি বরোদা ছেড়ে চলে এসেছেন । এই পর্বে তিনি কিছু ছোটখাটো দেশীয় রাজ্য বা রিয়াসতে আশ্রয় নিয়েছিলেন। কোলহাপুর, সাতারা, সাংলি ঘুরে তাঁর স্থায়ী ঠিকানা হয় মীরজ। শোনা যায়, যে মীরজের সুফি সাধক খ্বাজা শামনা মিরার দরগায় গান করে খান সাহবের এক দুরারোগ্য ব্যাধির উপশম হওয়ার অলৌকিক ঘটনাও এই সিদ্ধান্তের একটা বড়ো কারণ।      

এই সময় গোয়ালিয়র ঘরের কিংবদন্তী গায়ক হদ্দু খাঁর ছেলে রহমৎ খাঁর গান শোনেন আব্দুল করিম খান। যার মুগ্ধতা এবং প্রভাব ওঁর নিজের গায়কীতেও গভীরভাবে পড়েছিল। মানুষ হিসেবেও আব্দুল করিম ছিলেন অত্যন্ত উদার চরিত্রের। অভ্যস্ত ছিলেন সাত্ত্বিক জীবনযাপনে। তিনি অভঙ্গ্‌ বা মারাঠি ভজন গাইতেন, বিখ্যাত দত্তাত্রেয় মন্দিরে ধর্মসঙ্গীত শুনিয়েছিলেন, বিভিন্ন দরগায় গান গেয়েছেন এমনকি দেশনেতা বাল গঙ্গাধর তিলক আর মহাত্মা গান্ধীর সামনে ‘হরি ওম্‌ তৎসৎ’ আর রামধুন গেয়ে মুগ্ধ করেছিলেন তাঁদের। শোনা যায় আধ্যাত্মিক সাধক তাজউদ্দিন বাবা এবং  সিরডির সাঁইবাবা ওঁর গানের গুণগ্রাহী ছিলেন এবং তাঁদের আশীর্বাদ বর্ষিত হয়েছিল খান সাহেবের জীবনে।

আব্দুল করিম খানের রেকর্ডে বিখ্যাত ভৈরবী ঠুংরি ‘যমুনা কে তীর’

ওঁর যে কটা গানের রেকর্ডিং পাওয়া যায় মধ্যে দিয়ে তাঁর থেকে করিম সাহেবের বিভিন্ন সাঙ্গীতিক পর্যায়ের ছবি উঠে আসে।  মানে বরোদা পর্বে প্রথম যুগের অতি দ্রুত তানের গান আর পরবর্তীতে মানে তিনের দশকের সেই শান্ত, সমাহিত ভাবের গানগুলো যার মধ্যে ছিল সেই বিখ্যাত রেকর্ড যার একদিকে ভৈরবীর ‘যমুনা কে তীর’ আর অন্যদিকে ঝিঁঝিটের ‘পিয়া বিন নেহী আবত চ্যান’। এই রেকর্ড সারা ভারতে খান সাহেবের বিরাট পরিচিতি দেয়। কলকাতার রসিক মহলেও ওঁর পরিচিতি হয় দিলীপ কুমার রায়ের সৌজন্যে। স্বয়ং রবীন্দ্রনাথ নানা সময়ে খান সাহেবের গায়কীর ভূয়সী প্রশংসা করেছিলেন। ধ্রুপদী চাল বা কৌম সিলসিলা থেকে কিছুটা বেরিয়ে এলেও সুরের প্রতি ওঁর শুদ্ধতা বা পারফেকশন্‌ মুগ্ধ করেছিল বিশ্বকবিকে। বিলম্বিত খেয়ালে রাগালাপ এবং বিস্তার এর ঢং সম্পূর্ণভাবে ওঁর নিজের সৃষ্টি যাতে খানদানী ঐতিহ্যের মধ্যে স্থিত থেকেও উনি ঐতিহ্যকে পালটেছিলেন বা বলা যায় আরো সুসংহত করছিলেন। এর সাথে যোগ হয়েছিল ওঁর অসামান্য কন্ঠ যা তারসপ্তকেও ছিল ছুঁচের মতো তীক্ষ্ণ। এই কারণে শ্রুতির প্রয়োগ খুব অনায়াসে করতে পারতেন খান সাহেব।

কিরানা ঘরানার পরবর্তী প্রজন্মের মধ্যে ওঁর এই গায়কীর সৌকর্যের স্পষ্ট প্রভাব পড়েছিল। যার মধ্যে ছিলেন ওঁর সন্তানেরা যেমন বড়োমেয়ে হীরাবাই বরোদেকড় (যদিও হীরাবাই ওয়াহিদ খাঁর কাছেও বহুদিন শিক্ষা পেয়েছিলেন), ছেলে সুরেশবাবু মানে, ছোটমেয়ে সরস্বতীবাই রানে এছাড়া শিষ্য-শিষ্যাদের মধ্যে রামভাও কুন্দগোলকর (যিনি তাঁর কন্ঠমাধুর্যের জন্য ‘সওয়াই গন্ধর্ব’ নামে পরিচিত ছিলেন), ভাই আব্দুল হকের মেয়ে রোশনারা বেগম সহ আরো অনেকে। প্রজন্মান্তর বেয়ে সেই সাচ্চা সুর এবং শ্রুতির ধারার মন্দাকিনী বয়ে চলেছে কিরানা ঘরানার মধ্যে দিয়ে।

আজ এই নতুন করে ধর্ম নিয়ে হানাহানির যুগে কানে ভেসে ওঠে খান সাহেবের গাওয়া ‘হরি কে ভেদ না পায়ো রামা, কুদরৎ তেরা রঙ্গি – বিরঙ্গী’। মানুষে মানুষে মিলনের অমলিন শ্রুতি যার প্রাণ হয়ত চলে গেছে ওস্তাদ আব্দুল খানের মৃত্যুর সাথেসাথে।     

চলবে

গ্রাফিক্‌স্‌- ইন্দ্রশেখর

Leave a Reply