উমা ভট্টাচার্য সব লেখা একত্রে
সিমা চোয়েন (Sima Qian)
উমা ভট্টাচার্য
আজ যে মানুষটির কথা লিখছি তিনি ছিলেন দু’হাজার বছর আগেকার চিনের মানুষ। তাঁর সময়ে চিনে রাজত্ব করছিলেন হান রাজবংশ। পৃথিবীর সব দেশে সব কালে রাজা, জমিদার ও শাসকেরা প্রজাদের শ্রমে, তাদের দেওয়া রাজস্বে ধনী হলেও তাদের কথার বা জীবনের বিশেষ দাম দেয়না। এমনকি নিজেদের অনুচিত কাজের জন্য শাসিতের কাছ থেকে প্রতিবাদ বা সমালোচনাও মেনে নিতে পারে না। উপকারী হলেও তাদের শাস্তি দিতেও শাসকদের মনে দ্বিধা দেখা যায় না। তেমনটিই হয়েছিল হানবংশের রাজত্বকালে, রাজদরবারের এক আমাত্য, রাজজ্যোতিষ ও চীনদেশের সর্বকালের শ্রেষ্ঠ ঐতিহাসিক সিমা চোয়েনের সঙ্গে।
সময়টা ৯৯ খ্রিস্টপূর্বাব্দ, দেশটা প্রাচীন মহাচীন। বিশাল দেশের শাসন সামলাতে হিমসিম হানবংশের রাজারা। সঙ্গে উটকো অশান্তি ছিল বিদেশি বর্বর দস্যুদের লাগাতার আক্রমণ। মাঝেমাঝেই তারা রাজ্যের নানা দিক দিয়ে চিনের নানা অঞ্চলে ঢুকে এসে, লুটপাট করে জনজীবন, রাজপাট বিপর্যস্ত করে দিত। অবিরত যুদ্ধ করতে করতে সেনাদলও ক্লান্ত। বহু কঠিন যুদ্ধে জয়ী সেনাপতিরাও আর পেরে উঠছিলেন না। একবার চিনের উত্তরসীমা দিয়ে বর্বর দস্যুদের আক্রমণের কাছে হেরে গিয়েছিল রাজার সৈন্যদল। রাজসভায় খবর পৌঁছেছিল সেনাপতিরা বর্বর শত্রুদের কাছে আত্মসমর্পণ করেছেন। রাজা তো রেগে আগুন, রাগে গর্জাচ্ছেন সেনাপতির উদ্দেশ্যে, এই পরাজয় মেনে নিতে পারছেন না কিছুতেই, ভুলে গেছেন তাঁদের আগেকার সব বীরত্বের কাহিনী। রাজার তোষামুদে পার্ষদেরাও রাজার সাথে গলা মিলিয়ে দোষারোপ করছে সেনাপতিকেই। এমন সময় রাজার কথার প্রতিবাদ করতে উঠে দাঁড়ালেন একজন স্পষ্টবক্তা আমাত্য, রাজজ্যোতিষী।
তিনি উঠে দাঁড়িয়ে দ্ব্যর্থহীন ভাষায় বললেন, “এই সেনাপতিরা দুজনেই বীর, আগে বহু যুদ্ধে তাঁরা দেশের স্বার্থরক্ষা করেছেন, নিজের জীবন বিপন্ন করে বারাবার দেশের মানুষকে, রাজত্বকে রক্ষা করেছেন। এবারই হয়তো কোন কারণে পরাজিত হয়েছেন, হয়ত আরও জনক্ষয় রোধ করতে বাধ্য হয়ে আত্মসমর্পণ করেছেন। তাঁরা বীর যোদ্ধা, ভাগ্যের কারণে হয়ত এবার পরাজিত হয়েছেন, সে কারণে তাঁদের পূর্বেকার সব জয়ের কথা ভুলে তাঁদেরকে দোষারোপ করা ঠিক হবে না রাজামশায়। তাঁদেরকে সাহায্য করার জন্য আরও সেনা পাঠানো দরকার। আমি তাঁদের দুর্ভাগ্যের জন্য মনে খুবই দুঃখ পাচ্ছি।”
প্রকাশ্য রাজসভায় রাজার মুখের সামনে এতবড় কথা। সেনাপতিরা যুদ্ধে হেরে গিয়ে যত না অপরাধ করেছেন, এই আমাত্য তাঁর থেকেও অধিক অপরাধ করেছেন বলে ঘোষণা করলেন রাজা, তাঁর সঙ্গে গলা মেলালেন তোষামুদে পারিষদের দল। সেই ব্যক্তি যে একজন গুরুত্বপূর্ণ আমাত্য, সে কথা মনেও রাখলেন না রাজা। তাঁর পূর্বেকার সব অবদানের কথা, সামাজিক অবস্থানের কথা, পদমর্যাদার কথা, সব ভুলে রাজা তাঁর মৃত্যুদন্ড ঘোষণা করলেন। তাঁর বন্ধু বা সহকর্মীরা কেউই তাঁকে সমর্থন করলেন না, তাঁর পক্ষে দাঁড়ালেন না। কারণও ছিল, দেশে রাজার কথাই যে ছিল শেষ কথা, রাজাই সর্বেসর্বা আর সেই রাজার সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধাচরণ করা তো নিজেদের মরণকে ডেকে আনার সামিল। অভিযুক্ত মানুষটি নীরবে বিচারের দন্ড মাথা পেতে নিতে বাধ্য হলেন। রাজার বিচারে প্রাণদন্ড হলেও একটা জিজ্ঞাসাবাদের সুযোগ দেওয়া হল তাঁকে। তিনি, তাই প্রাণে বেঁচে গেলেন, কিন্তু জীবমৃতের মত বেঁচে থেকেই তিনি নিজের আরব্ধ কাজ করে গিয়েছিলেন।
দন্ডাদেশের কয়েকদিন পরে তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য রাজসভায় ডেকে পাঠানো হল। তাঁর সামনে দুটি অপশন অর্থাৎ পছন্দের সুযোগ রাখা হল, যে দুটিই ছিল মৃত্যুর সমান। কিন্তু তবুও এই জ্ঞানী মানুষটি মৃত্যুদন্ডের বদলে দ্বিতীয় অপশনটিই বেছে নিলেন। সেটি ছিল ক্যাসট্রেশন-খোজা করে দেওয়া। তিনি মনভরা গ্লানি নিয়ে সেই পথটিই বেছে নিলেন, কারণ তাঁর যে তখনও এক মহৎ কাজ অসমাপ্ত। মৃত্যুদন্ড মকুব করার অন্য ব্যবস্থাও ছিল, প্রচুর পরিমানে অর্থদন্ড দিলে অনেক ক্ষেত্রে মৃত্যুদন্ড রদ হত। সিমা চোয়েনের কাছে এত অর্থ ছিলনা, যা দিয়ে তিনি মুক্ত হতে পারতেন। তাই তিনি দ্বিতীয় পথটি বেছে নিতে বাধ্য হলেন। বেঁচে থাকতে পারলে মৃত্যুপথযাত্রী পিতাকে দেওয়া সেই প্রতিজ্ঞা তো তিনি রাখতে পারবেন না।
তিনি আত্মীয়স্বজন, বন্ধুবান্ধব, আর পড়শিদের নিন্দামন্দকে উপেক্ষা করে অঙ্গহীনের গ্লানিকর জীবন নিয়ে বেঁচে রইলেন শুধু তাঁর লেখার কাজটি শেষ করার জন্য। গৃহবন্দী থেকে তিনি নিজের কাজ সম্পূর্ণ করলেন, নিজের দেশের ভাবী প্রজন্মের আর পৃথিবীর মানুষের হাতে তুলে দিয়ে যেতে পারলেন মহাচিনের সুপ্রাচীন ইতিহাস। এই চীনা ঐতিহাসিক সিমা চোয়েন হাত ধরেই চিনদেশে প্রকৃত অর্থে ইতিহাস রচনার সূত্রপাত হল। ইউরোপের ক্ষেত্রে পঞ্চম শতাব্দীর “গ্রীসের ইতিহাসের জনক” যেমন হেরোডোটাস, তেমনি “চীনের ইতিহাসের জনক” হলেন সিমা চোয়েন।
তিনি যে ভবিষ্যত প্রজন্মের জন্য ২০০০ বছরের প্রাচীন চিনের ইতিহাস লিখে চলেছেন, সে কাজ সমাপ্ত করতে হলে তো তাঁকে বেঁচে থাকতে হবে। তাই সভ্যতার স্বার্থে, ভাবী প্রজন্মের স্বার্থে বেছে নিলেন ঘৃণিতভাবে বেঁচে থাকার জীবন। এক বন্ধুকে তিনি চিঠিতে লিখেছিলেন, “আমি একজন রক্তমাংসের মানুষ, আমারও প্রাণ আছে, উপলব্ধি আছে। মৃত্যু মানুষের জীবনে একবারই আসে, প্রাকৃতিক নিয়মেই তা একদিন আসবে আমার জীবনেও। মৃত্যু হতে পারে “পর্বত” এর মত ভারী বা হাঁসের পালকের মত হালকা, যে যেভাবে নেবে তার ওপর নির্ভর করে মৃত্যুর আস্বাদ। মৃত্যু তো স্বাভাবিক নিয়মে লঘুচরণে আসবেই মানুষের জীবনে। তাই আমি চাপিয়ে দেওয়া মৃত্যু, যা আমার কাছে মনে হয়েছে পর্বতের মত ভারী তা মেনে নিলাম না। তাই আমি লজ্জা, অপমান, সঙ্কোচের তোয়াক্কা না করে দৈহিক ও মানসিক কষ্ট সহ্য করে ক্যাসট্রেশনই মেনে নিলাম । বেঁচে থেকে দেশের জন্য একটা বড় কাজ করে যেতে পারলাম। বাবাকে দেওয়া প্রতিজ্ঞা অনুযায়ী আমার দেশের ইতিহাস লেখা শেষ করতে পারলাম।”
তিনি কিন্তু কোথাও লিখলেন না ক্যাসট্রেশনের অসীম কষ্টের কথা, কারণ তাঁর ইচ্ছে তো ছিল আরও মহৎ। সেই অতীতে চিকিৎসার তত উন্নতি হয়নি। তাছাড়া সাজাপ্রাপ্ত বন্দীর ক্ষেত্রে অঙ্গছেদের পরে কোন চিকিৎসার ব্যবস্থা রাখা হত না। অধিকাংশ ক্ষেত্রেই অত্যধিক রক্তপাতে, ক্ষত বিষিয়ে গিয়ে ভিক্টিমের মৃত্যুই হত। অঙ্গছেদের পর কিছুদিন সেই মানুষটিকে রাখা হত এক স্যাঁতস্যাঁতে, স্বল্পালোকিত কুঠুরিতে, লোকচক্ষুর আড়ালে। ঘুপচি ঘরে, ভ্যাপসা গরমে সেই ক্ষত বিষিয়ে মৃত্যু ঘটাই ছিল স্বাভাবিক ঘটনা, কিন্তু অসম্ভব মানসিক বলের অধিকারী এই জ্ঞানী মানুষটি বেঁচে গেলেন। তিনি লিখেছেন “চেনাজানা মানুষের বিদ্রুপ শুনে আর অঙ্গছেদের বিভীষিকার স্মৃতি মনে করে, আমি ঘেমে নেয়ে উঠতাম, লজ্জা এলেও প্রশ্রয় দিইনি কারণ আমার এক মহৎ কাজ তখনও বাকী। আমার এই কাজ যদি দেশের গ্রাম শহরের সকল মানুষের হাতে, শিক্ষার্থীদের হাতে পৌঁছোয় তবে আমি এরকম ১০০০ বার অঙ্গহানি স্বীকার করতে রাজী।” কী অসামান্য মনোবল আর কর্মের প্রতি নিষ্ঠা থাকলে দু”হাজার বছর আগেকার একজন মানুষ এমন কথা বলতে পারেন তা ভাবলেই অবাক হতে হয়। এমনই ছিলেন সিমা চোয়েন।
সে সময়ের চীনে কনফুসিয়াসের পরে তিনিই ছিলেন একমাত্র ঐতিহাসিক। চীনে হানবংশের সময় রাজসভার পন্ডিত ও বিখ্যাত জ্যোতির্বিদ ছিলেন সিমা চোয়েনের বাবা সিমা চ্যান। ইতিহাস সচেতন বাবা যে কাজ শুরু করেছিলেন, মৃত্যুশয্যায় পুত্রকে দিয়ে প্রতিজ্ঞা করিয়ে নিয়েছিলেন যে বাবার আরব্ধ কাজ যেন তিনি শেষ করেন। প্রায় ২৬০০ বছর আগেকার কিংবদন্তীর “ইয়েলো এম্পায়ার” অর্থাৎ পীতসাম্রাজ্যের রাজা হুয়াঙ দি-র সাম্রাজ্যকাল থেকে শুরু করে হানবংশের রাজত্ব পর্যন্ত, প্রায় ২৬টি রাজবংশের সময়ের চিনদেশের ক্রমোন্নতি, শিক্ষাসংস্কৃতি, নানা পরিবর্তনের ইতিহাস ধারাবাহিকভাবে লিখে গেলেন তিনি। রচিত হল “শিজি”- চীনের ধারাবাহিক ইতিহাস। পরবর্তীকালে ঐতিহাসিকেরা বিচার করে দেখেছেন, “শিজি” শুধুমাত্র সময়ের ধারাবাহিক বিবরণ নয়, বিভিন্ন রাজবংশের সত্যিকারের ইতিহাস লিখেছেন তিনি। খ্রিস্টপূর্ব ৮৬ অব্দে তাঁর মৃত্যুর আগেই শেষ করেছিলেন সেই ইতিহাস গ্রন্থ। কনফুসিয়াস যে ধারায় সাময়িক ঘটনাবলী লিপিবদ্ধ করা শুরু করেছিলেন সেখান থেকেও সিমা চোয়েন তথ্য নিয়েছিলেন গবেষণার কাজে, কিন্তু নিজে সেগুলি বিচার বিবেচনা করে আরো নিখুঁত তথ্য সংগ্রহ করে এক নতুন ধারায় ইতিহাস রচনা করেছিলেন। এক কথায় যাকে বলা চলে হিস্টরিওগ্রাফি-অর্থাৎ ইতিহাস রচনার ধারার প্রবর্তন করেছিলেন তিনি। তাঁরা লেখায় এক বিস্তৃত সময়ের সঠিক ইতিহাস অনেক কম্প্যাক্ট ফর্মে, ডাইজেস্টের মত নথিবদ্ধ হয়েছিল। সময়ক্রমানুসারে, বিজ্ঞানসম্মত পদ্ধতিতে বিবৃত সেই ইতিহাস হয়ে উঠেছিল এক কালানুক্রমিক, সুগ্রন্থিত সুখপাঠ্য কালপঞ্জী।
সেই সময়ে, যখন লেখার মাধ্যম কাগজের আবিষ্কার হয়নি, সে সময়ে এত বিস্তৃত ইতিহাস তিনি কিসে লিখেছিলেন সেটা জানার ইচ্ছা সবারই হতে পারে। জানা গেছে তিনি লেখার জন্য ব্যবহার করেছিলেন বাঁশের পাতলা চটি বা স্লিপ(পাতলা করে কাটা বাঁশের পাত)। সেগুলির ওপর কালিতে লেখা হয়েছিল এই বিস্তৃত সময়ের ইতিহাস। সে কি সামান্য কথা। সাকুল্যে ৫,২৬,০০০ চীনা অক্ষর নিয়ে লেখা এই পুঁথি-”শিজি” ওল্ড টেস্টামেন্ট ও থুকিডাইডিসের লেখা “পেলোপোনেশিয়ান যুদ্ধে”র ইতিহাস বইয়ের থেকেও দীর্ঘ ছিল। এতে ছিল ১৩০টি অধ্যায়। দীর্ঘ এ কারণে যে, বাঁশের পাতড়াগুলি ছড়িয়ে রাখলে এতটাই দীর্ঘ হত। এক একটা পাতায়, মানে বাঁশের স্লিপে ২৪ থেকে ২৬টি অক্ষর লেখা ছিল। প্রায় ৩০টির মত স্লিপ একত্র করে এক একটি বান্ডিল তৈরি হত। সম্পূর্ণ বইটিতে ছিল প্রায় ৭০০ বান্ডিল বাঁশের পাতড়া। ওজনও ছিল বেশ ভারী। এক একটি বান্ডিলের ওজন দাঁড়াত ৪০ থেকে ৬০ কেজির মত। ভাবা যায় যে একটা বইয়ের এত বিরাট বপু, সহজে কোথাও নিয়ে যাওয়া যাবে না, কেউ চুরি করতেও পারবে না।
পাঁচটি ভাগে বিভক্ত সেই বইটিতে ছিল বেসিক অ্যানালস, জেনেরোলজিকাল টেবল, বিভিন্ন ঘটনাবলীর সাময়িক বৃত্তান্ত, উত্তরাধিকারসূত্রে প্রাপ্ত প্রাসাদ, বাড়িঘরের বিবরণ, শিল্পসাহিত্য, শিক্ষাসংস্কৃতি, আমাত্য ও পদাধিকারীদের পদক্রমিক বিবরণ। এককথায় আধুনিক ইতিহাসের সব শর্তগুলি মেনেই লেখা হয়েছিল সেই ইতিহাস। “চাইনিস হিস্টোরিওগ্রাফি”র স্রষ্টা হিসাবে সিমা চোয়েন বিখ্যাত হয়ে রইলেন, তাঁর লেখা “রেকর্ডস অফ গ্রান্ড হিস্টোরিয়ান”এর মধ্যে দিয়ে।
ছেলেবেলা থেকেই সিমা চোয়েন ছিলেন মনোযোগী, একাগ্র পাঠক। অত্যন্ত মেধাবী ছেলেটির পরিবারের পূর্বজরা প্রায় সবাই ছিলেন বিভিন্ন রাজবংশের আমলের রাজসভার সঙ্গে যুক্ত। তাঁদের লেখা বিভিন্ন সময়ের নানা নথি তিনি পাঠ করার সুযোগ পেয়েছিলেন। ১২৬ খ্রিস্টাপূর্বাব্দে কুড়ি বছর বয়সে তিনি দেশভ্রমনে বেড়িয়েছিলেন। সারা দেশের নানা স্থানে গিয়েছিলেন, দেখেছিলেন, অভিজ্ঞতা সঞ্চয় করেছিলেন প্রচুর। তাছাড়া তাঁর পিতার মত তিনিও ছিলেন রাজজ্যোতিষ। এঁদের কাজ ছিল পাঁজি সংশোধন করা, শুভসময় নির্ধারণ করা, রাজার সঙ্গে পরিভ্রমণ করা ও দৃষ্ট বিবরণ লিপিবদ্ধ করা। তাঁর পিতাও এই পদেই ছিলেন, পিতার মৃত্যুর পর রাজসভায় সেই পদটিই তিনি পেয়েছিলেন। ৯৯ খ্রিস্টপূর্বাব্দে তাঁর শাস্তি হয়, আর মুক্তি পেয়েছিলেন ৯৬ খ্রিস্টপূর্বাব্দে। বন্দিকালীন অবস্থায়ও তাঁর লেখার কাজ বন্ধ হয়নি। আর তাঁর লেখা সেই ইতিহাস পরবর্তী কালের চিনে “গ্র্যান্ডেস্ট হিস্ট্রি”র মর্যাদা পেয়েছিল।পৃথিবীর মানুষ জেনেছিল চীনের প্রাচীন ইতিহাস।
তাঁর মৃত্যুর পর তাঁর কন্যা সেগুলি সযত্নে রক্ষা করেছিলেন। এরপর তাঁর পুত্র, অর্থাৎ সিমা চোয়েনের নাতি সেই পান্ডুলিপি প্রকাশ্যে এনেছিল।