হুমোর ডায়েরি এক নম্বর পাতা দু নম্বর পাতা এবার পাতা নম্বর ৩ঃ->
হুমো নিয়ে এই যে এত কথা হল, এই যে এত ভয় পেলাম, তার কারণ তো বেশ কেউ কেউ অদ্ধেক বুঝেছে, আর বাকি অদ্ধেক আসলে কি কেউ জানে? জানে না তো? তবে বলি। ব্যাপার হল এই যে সবকিছু অদ্ধেক জানা হলে শেষমেশ সবটা ওই অদ্ধেকেই আটকে যায়। পুরোটা এক্কেবারে হয়-ই না!
যাকগে, কথায় আসি। হুমোরা আসলে পৃথিবীর কেউ নয়। মানে, এখন পৃথিবীরই,আগে ছিল না। হুমোদের যে দাদু-পুরুষ আর যে ঠাকুমা কি দিদিমা-হুমো, তারা আসলে এসেছিল অন্যজায়গা থেকে। এসব অবিশ্যি আমার জানার কথা ছিল না। সেবার যে সিকিম থেকে ফিরলাম, তার পরের বছর কাগজে একটা লেখা দিয়েছিল। আমি ওসব না পড়ে-টরে ফেলেই দিতাম কিন্তু বড়মামা কাগজ হাতে নিয়ে এত্তো জোরে জোরে পড়তে শুরু করেছিল যে কান না দিয়ে থাকা যায়নি। সেখানে বলেছিল যে কোন সেই ইরাকের মেসোপটেমিয়া না কোথায় সুমেরীয় সভ্যতা গড়ে টরে উঠবারও আগে পৃথিবীতে নাকি ইয়াব্বড় একটা কী এসেছিল। মানে ওরা হয়ত অন্যদিকেই যেত, কিন্তু মাঝপথে কিসব বিগড়ে যেতে পৃথিবীতে নামতে যায়, আর নামতে গিয়ে গোটাটা ভেঙে-ভুঙে এখানেই পড়ে যায়। এইবার ব্যাপার হল, ওর মধ্যে নাকি ছিল কীসব অন্যরকম কারা। তারা নাকি এই এত্তোবড় বড় খাঁচায় ধরে নিয়ে যাচ্ছিল ওই হুমোদের। তো, সেই অন্যরকম কারা যখন নেমে টেমে ব্যাপার কী দেখতে গেছে, তখন নাকি কে এক হুদো মত হুমো একটা খাঁচার দরজা খুলে ফেলেছিল।
তারপর এক এক করে নেমে এসেছিল নাকি সব। অন্যরকম কারা-রা তো তখন ভাঙাচুরো সব দেখছে আর মাথা চাপড়াচ্ছে। তার ফাঁকে হুমোগুলো নেমে এসে পটাপট হাওয়া। অন্যরকম কারা বেচারারা নাকি সেবার ফিরে এসে আর হুমোদের দেখতে না পেয়ে চাপড়ে চাপড়ে কপালই ফাটিয়ে ফেলেছিল। সেই তাদেরকেই নাকি এখনও সব কোথায় কোথায় বরফের মধ্যে কীরকম করে পোঁতা বলে মাঝে মাঝেই দেখা যায় বলে এখন খবর আসে।
তো, সে যাই হোক, হুমোরা তো নেমে গেল। ওঃ দেখেছ, বলা হয়নি। তখন নাকি খুব ঠাণ্ডা। বরফটরফ পড়ছে। তো তখন হুমোদের নাকি ওই সাদা সাদা পৃথিবী বেশ মিষ্টি লেগেছিল। ওরা গেল তো গেল এই আমাদের হিমালয় টিমালয়ের দিকে। বরফের আবার ব্যাপার স্যাপারই আলাদা। এই আমরা জমে যাই, মরে-টরে যাই। বরফে কেউ মরে না। যারা বরফ সয়ে নেয় তারা বেঁচেই থাকে। পাহাড় পাহারা দেয় অনেক অনেক বছর ধরে। বিশ্বাস না হলে গিয়ে গিয়ে দেখ গে পাহাড়ে পাহাড়ে।
হুমোরা ওই বরফে এসে ঘাঁটি গেড়ে সেই থেকে এই অব্দি আছে। এর মাঝে কত কী এল গেল, ডাইনোসর থেকে আদিম মানুষ থেকে রাজা-উজির, নেতা… আরও আসছে। এতেই নাকি হুমোরা আজকাল বড় ক্ষেপে গেছে। যদিও ইয়েতিরা অন্য জিনিস, কিন্তু তবু তাদের দাদু-স্থানীয় বলে কথা, উড়িয়ে তো দেওয়া যায় না (আর কে না জানে, ইয়েতিরা অনেক অনেক বুড়ো হলেই হুমো হয়ে যায়)।
মানুষজনের মধ্যে আমি তো এক ভুল করেই ফেলেছিলাম, এ বাদেও কত লোকের কত ভুল হিসেব নেই। হুমোদের নাকি কিসব বড় খাতা আছে। আমাদের মত নয়, অন্যরকম। তাতে সব্বার সব লেখা আছে। শেষবেলায় হুমোকুণ্ডে (হুমো-দের কোর্ট) তাদের সব বিচার হবে। (এ সব সেই আধবুড়োর থেকে শোনা যার চুলপত্তর একদিনে কিছু পাকা আর কিছু কাঁচাপাকা হয়ে গেছিল)
হাসছ তো? হাসো। নেহাত সব্বার ভালো চাই তাই আগেভাগে জানিয়ে রাখলাম। যেদিন আসবে ওরা নেমে, পালাবার কূলপাতি পাবে না কিন্তু!!
ক্রমশ অলঙ্করণঃ ইন্দ্রশেখর