আজব খাতা হুমোর ডায়েরি২ তপোব্রত মুখার্জি বর্ষা ২০১৭

আগের পর্ব এই লিংকে

 

জানিনা বাপু কে কী বলবে, আমি এর মধ্যে আবার হুমোর চিঠি পেয়েছি। সে আসেনি বটে তবে আমার জন্য কিছু কড়া কড়া হুংকার নাকি পাঠিয়েছে। সে চিঠি যে উদ্ধার করেছে তার অবিশ্যি ছবি দেওয়ার ইচ্ছে ছিল, কিন্তু সে ভয় পাওয়ার আধঘণ্টার মধ্যে তার অর্ধেক চুল পেকে গেল আর বাকি অর্ধেক কাঁচাপাকা। সেই দুঃখে সে ন্যাড়া হয়ে গেল বলে আর ছবি দিলাম না।

যাক গে, চিঠিতে নাকি লেখা ছিল ছানাকে না পাঠালে গোটা গ্রীষ্ম আমায় দিয়ে ভুরিভোজ হবে। ও, এর মাঝে আবার শুনলাম হুমো কীভাবে খায়। করে কী, যার উপর রাগ, তাকে এনে আগে রোদ্দুরে ঝলসায় (হ্যাঁ, রোদ্দুরে), তারপর ভেড়ার চর্বি মাখিয়ে রাখে (ওদের ঘি নেই কিনা, ওইভাবেই ঘিয়ের কাজ সেরে নেয়)।
তারপর প্রতি সকালে কিউমিসের সাথে (হ্যাঁ হে, এখানাও লেখা ছিল। ও খাবারটা আবার ওদের বিশেষ রুশী ফিরিওলা এসে পৌঁছে দিয়ে যায় নাকি! ব্যাপারই অদ্ভুত!) একটু একটু করে খায়।

তো, আমি তো বলেইছি যে এই ইয়েতিছানা এখানে এসে এমন মানুষ মানুষ হয়ে গেছে যে আর চেনাই যায় না। কিন্তু সে কথা দাদুকে কে বোঝাবে। ঘর ছাড়ুক আর যাই হোক, বংশের ছানা তো বটে! এই তো, সেদিন দেখি খচাখচ ছবি তুলছে। স্মার্ট ছানা। বিশেষ ইয়েতি ক্যামেরায় তোলা ছবি। এক ভেবলুর ছবি তুলেছিল, তাকে চেনাই গেল না এত দারুণ লাগছে! যাক, এ সব মানুষের কম্মো নয় বটে।

হ্যাঁ, তো যা বলার জন্য এখানে এসব লিখে যাচ্ছি তা বলি। আমায় গরম অব্দি সময় দিয়েছে। এখুনি আসতো, নেহাত একটু ঠাণ্ডা পড়ে গেল তাই আসছে না। ঠাণ্ডা হলে মানুষের সর্দি লাগে আর তখন তন্দুরি করলেও মানুষগুলো ঝোল ঝোল খেতে লাগে। হুমোরা আবার বেশি ঝোল খায় না। ওইজন্যে গরমকাল অব্দি আছি। তারপর…

যাক গে। এর আগে তো ভয়ে কদিন খাটের তলায় লুকিয়ে ছিলাম। তারপর মনে পড়ল,এই যাঃ, কীরকম দেখতে হুমোকে তা-ই তো লেখা হল না। হ্যাঁ হে, এদের অবশ্য বিশেষরকম দেখতে বটে। দুম করে সামনে পড়লে প্রথমে মনে হবে সান্তাক্লজ, তারপর মনে হবে সাদা-পাগড়ি মনমোহন সিং নয়তো? আরও সামনে এলে দেখবে, নাঃ, মনমোহন নয়, বরং বেশ ক্যাবলাথেরিয়ামের মত দেখতে। কেন যে একটু দূর থেকে ওরকম অদ্ভুত মনে হচ্ছিল সে কথা বুঝতেই পারবে না। অবশ্য বোঝার সময় দিচ্ছে কে? তোমায় সামনে পেলে সে আগে হাত, পা, নাকের ফুটো এসব দেখবে। হাত পায়ে মাংস থাকলে ভালো, শুধু হাড় হলে আরও ভালো। আর নাকের ফুটো দিয়ে এক্স-রে ফেলে হুমোরা মানুষ কেমন বুঝতে পারে। হুমোদের দেখলেই দেখতে পাবে (মানে যখন তোমায় ধরে ওরা উল্টেপাল্টে দেখবে আরকি) মাথার ঠিক মাঝখানে একটা বড় আব আছে। ওখানা ওদের এক্সরে মেশিন। অবশ্য তোমার হাত পা ভাঙলে তুমি বাতিল। ওই যেভাবে বার্ডফ্লু ওলা মুরগি বাতিল করে দেওয়া হয় তেমনি আরকি। তবে ওরা ঘাড় মটকায় না। তুলে নিয়ে শুধু টুপুস করে গড়িয়ে দেবে। তারপর এই শীতকালে ওদের নাতি নাতনি, মানে ওই ইয়েতিছানারা আরকি, তারা জ্যান্ত স্নোম্যান পেয়ে খেলবে। সে খেলার রকম আর বললাম না, শেষে লোকজন ভয় পেয়ে পাহাড়ে যাওয়াই বন্ধ করুক আর হুমোর পাশাপাশি আরও সব্বাই আমায় খুঁজে বেড়াক আর কি!

আসল কথা আরও একখান আছে, শোন বলি। যদি সব্বাই আমায় ভালোটালো বাসোটাসো, তবে সেই ছানাকে খুঁজেপেতে ধরে দিয়ে যাও তো বাপুসকল! ঘরের নাতিপুতি ঘরে যাক! কী কেলো করেছিলাম বল দিকিনি, এই বুড়োবয়েসে এখন ভেগে বেড়াতে হচ্ছে!… যাক গে, কথাখান মনে রেখো কিন্তু...

পরের পাতা পরের জয়ঢাকে

অলঙ্করণঃ ইন্দ্রশেখর

জয়ঢাকের গল্পঘরে সমস্ত গল্প একসাথে পড়ো

Leave a Reply