“কাল আমরা সবাই পাখির ছবি আঁকব,কেমন?” ক্লাস ছেড়ে চলে যাবার আগে আর্ট টিচার সুজাতা ম্যাম সবাইকে বলে গেলেন। সকলেই সমস্বরে ঘাড় নাড়ল,“হ্যাঁ।” এক ঋষভ ছাড়া। ও তখন বেঞ্চের এক কোণে মাথা নিচু করে বসে।
এছাড়া আর কীই বা করার ছিল ঋষভের। ছবি আঁকার সময় হয় পেনসিল,নয় রঙ,নয় ওর কল্পনাশক্তি – কোনও না কোনও একটা ঠিক বিগড়ে যায়। যেমন আজকেই কী হল দ্যাখো না। সুজাতা ম্যাম ফুলের ছবি আঁকতে বলেছিলেন। তো ঋষভ কত যত্ন করে কী সুন্দর একটা ফুলের ছবি আঁকল,তাতে লাল টুকটুকে প্যাস্টেল ঘষে জীবন্ত করে তুলল। অথচ যেই না সুজাতা ম্যামের হাতে খাতাটা পড়ল, ম্যাম গম্ভীর স্বরে ডাকলেন,“ঋষভ,এটা কীসের ছবি এঁকেছ?”
ঋষভ দাঁত বের করে বলেছিল,“গোলাপ ফুল ম্যাম।”
“এটা গোলাপ ফুল!” সুজাতা ম্যামের গলায় অতল বিস্ময়। খাতাটা সবার সামনে তুলে ধরে বললেন, “এটা কি তোমাদের গোলাপ ফুল বলে মনে হচ্ছে নাকি একটা আনটাইডি লাল রঙের হিজিবিজিবিজ?”
ক্লাসশুদ্ধ বাচ্চারা হো হো করে হেসে উঠেছিল আর ঋষভ লজ্জায় লাল হয়ে মাটির সাথে মিশে গিয়েছিল। না। কাল ও স্কুলেই আসবে না, ঠিকই করে নিল ঋষভ। কাল সকালে উঠেই মাকে বলবে,“পেট ব্যথা করছে।”
মনটা এমন খিঁচড়ে গেল ঋষভের যে, বিকেলে বুবাইরা ওকে খেলতে ডাকল যখন, ইচ্ছেই করল না ওর বেরোতে। সন্ধেবেলা অঙ্ক করতে বসে দীপ্তি আন্টির কাছে চারটে অঙ্ক ভুল করল ও। ইংরেজির পাঁচটা ‘অপোজিটস’ লিখতেই পারল না। দীপ্তি আন্টি বলে গেলেন,“তোমার পড়াশুনোয় আজকাল একদম মন নেই। মাকে বলতে হবে।”
রাতে রুপাদিদি রুটিতরকারি আর এক গ্লাস দুধ সামনে এনে রাখল ঋষভের। ঋষভ ক্লান্ত স্বরে বলল, “খেতে মোটে ইচ্ছে করছে না দিদি।” রুপাদিদি রাগ করে বলল,“মার ফিরতে দেরি হবে,অফিসে মিটিং আছে। খেয়ে নাও। নয়তো মা খুব রাগ করবে।” প্রচণ্ড বিরক্তিতে,বেজার মুখে কোনও মতে একটা রুটি চিবিয়ে, আধগ্লাস দুধ নাক বন্ধ করে গিলে নিয়ে বিছানায় গিয়ে উপুড় হল ঋষভ।
ভয় পেয়ে গিয়ে ঋষভ ঘরের বড়ো টিউবলাইটটা জ্বালাতে যাচ্ছিল,পাখিটা তড়িঘড়ি কট কট করে বলে উঠল,“আরে-রে-রে-রে আলো জ্বালো কেন! আলো জ্বালো কেন! আলোয় এখন আমার বড়ো কষ্ট হয়।ভালো করে চোখটা একটু কচলে নাও। এই আলোতেই আমায় দেখতে পাবে।”
ভালো করে চোখ কচলে নিয়ে ঋষভ তাকাল পাখিটার দিকে। পায়রার মতো দেখতে নিরীহ একটি পাখি। লেজ আর ডানা ছাড়া উপরের অংশ ধূসর কালো। মাথাটিতে সবুজাভ বেগুনী রঙ। তাতে কেমন যেন রামধনু রঙের ছোঁয়া। ঘাড়ের কাছটা চকচকে সোনালি সবুজ। ছোট ফুরফুরে ডানা দুটি নীলাভ সবুজ আর ঘন নীলে ঢাকা লেজের ওপরের অংশটুকু উজ্জ্বল হলদে সবুজ। বুক ও পেটের কাছে ছড়িয়ে আছে সবুজ বেগুনী আভা। চোখ দুটি ঘন নীল আর ঠোঁটটি যেন সবুজে হলুদে মাখামাখি। গাঢ় লাল পা দুটিতে চনমনে তাড়া।
পাখিটা এবার কক্ কক্ করে বলে উঠল,“আমায় চিনতে পারছ না তো? আমি হলুম গিয়ে বনিন উড পিজন, অর্থাৎ কিনা বনিন কাঠ পায়রা। আমার আদি বাস হল জাপান। তোমায় একা একা কাঁদতে দেখে ভারী কষ্ট হল। তাই ভাবলুম তোমাকে একটু সাহায্য করি। এবার আমাকে ভালো করে দেখে নাও দিকিনি। এই দেখো না কেমন আমার ঘন নীলাভ সবুজ ডানা, কেমন নীল চোখ, কেমন রঙের খেলা চলছে আমার সারা দেহে। আচ্ছা এক কাজ করো না কেন? খাতা পেনসিল নিয়ে বসে যাও। এই আমি স্থির হয়ে বসছি। একটু প্র্যাকটিস করে নাও না কেন?”
টেবিলের উপর ছোট্ট টেবিল ল্যাম্পটার সুইচের ওপর টুক্ করে গিয়ে বসল পাখিটা। ল্যাম্পের হলদে আলোয় ছবি আঁকতে গিয়ে ঋষভ ভীষণ অবাক হয়ে দেখল,পেনসিল বা রঙ,কোনওটাই আজ আর বেগড়বাঁই করছে না। পাখিটার লেজের হলদে সবুজ রঙটা ঘষে ছবিটা শেষ করতে যাচ্ছে, চঞ্চল পাখি ছটফট করে উঠল,“ঋষভ,এবার আমার যাবার সময় হয়ে এল। দেখবে,কাল তোমার আঁকায় আর কোনও ভুল হবে না।”
পাখিটা উড়ে যাবার মুহূর্তে ঋষভ চিৎকার করে উঠল,“তোমার সাথে আবার কোথায় দেখা হবে গো, চিড়িয়াখানায়?”
জানালার বাইরে আবছা অন্ধকারে মিলিয়ে যেতে যেতে পাখিটা বলে গেল, “না ঋষভ, আর তোমার সাথে আমার দেখা হবে না। মানুষের হিংসা, চোরাশিকারির অত্যাচার, অহেতুক গাছ কেটে সাফ করে দেওয়া – এ সবের কারণে উনিশ শতকের গোড়া থেকেই আমি হারিয়ে গেছি। অবলুপ্ত হয়ে গেছি মানুষের হিংসার কারণে। এরকম কত শত পাখি হারিয়ে যাচ্ছে যে বন্ধু। ঋষভ, আমায় ভুলো না, ভুলো না…”
সকালের উজ্জ্বল, হলুদ সূর্যটা তেরছাভাবে ঋষভের চোখে পড়তেই ও চোখ খুলল। দিনের ঝলসানো আলোয় কাল রাতের স্বপ্নটা মনে পড়তেই ওর হাসি পেল, কী সব যে আবোলতাবোল স্বপ্ন দেখছে ও আজকাল! কিন্তু… কিন্তু ওটা কী? টেবিলের ওপর ঐ পাখির ছবিটা, ওটাই কাল রাতে এঁকেছিল না ও?
স্কুলে ছবি আঁকার ক্লাসে শেষে সুজাতা ম্যাম ঋষভকে কাছে ডাকলেন,“ঋষভ,এটা কী এঁকেছ?” দুটি চোখে অপরিসীম উচ্ছ্বাস ছড়িয়ে দিয়ে ঋষভ হাসল,“ম্যাম,এটা হল বনিন উড পিজন। এক সময়ে জাপানে দেখা যেত। মানুষের হিংসা,গাছ কেটে ফেলা এসব নানা কারণে এরা হারিয়ে গেছে ম্যাম,অবলুপ্ত!” এই নতুন শব্দটার মানে কাল রাতেই প্রথম জেনেছে ঋষভ।
সুজাতা ম্যাম অবাক হয়ে বেশ কিছুক্ষণ তাকিয়ে রইলেন ঋষভের দিকে। বোধ হয় ঋষভের কথাগুলো বুঝে ওঠার চেষ্টা করছিলেন। তারপর বিস্ফারিত দুই চোখে মিষ্টি হাসির ছোঁয়া বুলিয়ে দিয়ে ম্যাম বলে উঠলেন, “খুব সুন্দর হয়েছে এই ছবিটা ঋষভ। কিপ ইট আপ।”
ক্লাস ছেড়ে যাওয়ার আগে ম্যাম বলে গেলেন,“পরের দিন আমরা অ্যানিম্যাল অর্থাৎ জীবজন্তুর ছবি আঁকব, কেমন?”
ঋষভ সেদিন বেশ ভয়ে ভয়েই ঘুমোতে গেল। কাল কী জীবজন্তুর ছবি আঁকবে ও! আবার তো সেই আবোলতাবোল আঁকিবুকি – গাধার লেজটা ছাগলের মতোই এঁকে ফেলবে হয়তো। হয়তো ওর আঁকা খরগোশের ছবিটা দেখতে লাগবে জোজোদের হুমদো, বিদঘুটে বিড়ালটার মতো। আর ক্লাসসুদ্ধ সব্বাই – “হো হো হো।”
কিচ্ কিচ্ কিচ্ – অদ্ভুত একটা আওয়াজে ঘুম ভেঙে ধড়মড় করে বিছানার ওপর উঠে বসল ঋষভ। নাইট ল্যাম্পের মৃদু আলোয় ও দেখল টেবিলের ওপর ঘুরঘুর করছে ছোট্ট একটা প্রাণী। কী ওটা? কামড়ে-টামড়ে দেবে না তো? ভয়ে চিৎকার করে উঠতে যাচ্ছিল ঋষভ। প্রাণীটা গম্ভীর স্বরে বলে উঠল, “আ-হা-হা আবার চিৎকার করো কেন? আমি কি তোমায় মারছি না ধরছি? আমি কোথায় তোমার সাথে একটু গল্প করতে এসেছি, আর তুমি নাকি চেঁচিয়ে লোক জড়ো করছ!”
ঋষভ বিস্ময়ে কয়েক সেকেন্ড কোনও কথাই বলতে পারে না। প্রাণীটার দিকে তাকিয়ে থাকে নির্নিমেষ। ছোট্ট খরগোশের মতো আকারের একটা জন্তু – কুতকুত করে চকচকে চোখে তাকিয়ে আছে ওর দিকে। প্রাণীটা আপনমনে বলতে থাকে, “নাও, নাও, এবার একটা আমার সুন্দর ছবি এঁকে ফেলো দিকিনি। দেখবে কাল স্কুলে জীবজন্তুর ছবি আঁকতে তোমার একটুও কষ্ট হবে না।”
ঋষভ তড়িঘড়ি খাতা পেনসিল নিয়ে বসে যায় ছবি আঁকতে। জন্তুটা খুট করে টেবিলল্যাম্পের ওপর গিয়ে বসে। ছোট্ট ইঁদুরের মতো দেখতে লম্বা লেজ, গায়ের রঙ হালকা বাদামি। পেছনের পা দুটি ক্যাঙারুর পায়ের মতো লম্বা। ছবিটা রঙ করতে করতে ঋষভ প্রশ্ন করল, “তোমার নাম কী গো?”
প্রাণীটা কিচকিচ করে বলে উঠল,“আমি হলুম গিয়ে মরুভূমির ইঁদুর-ক্যাঙারু। আমার আদি বাস উত্তরপূর্ব অস্ট্রেলিয়া। কিন্তু কী বলব, মানুষের অহেতুক হিংসা আর লোভের কারণে আমি আজ প্রায় হারিয়ে যেতে বসেছি। থাক সেসব কথা। ঋষভ, কাল তুমি কিন্তু আমার সুন্দর ছবি আঁকবে কেমন?”
পরের দিন ঘুম ভেঙে উঠে হাই তুলতে তুলতে ঋষভ টেবিলের দিকে তাকায়। হ্যাঁ, টেবিলের ওপর আলগোছে পড়ে রয়েছে ছোট্ট প্রাণীটার ছবি,যেটা কাল রাতেই এঁকেছে ঋষভ।
ছবি আঁকার ক্লাসে সুজাতা ম্যাম যথারীতি সবার খাতা জমা নিলেন। নাঃ,ঋষভ সেদিনও কোনও ভুল করেনি। না ড্রইং-এ, না রঙে। ছোট্ট প্রাণীটার চেহারাটা যেন স্পষ্ট ভেসে উঠছিল ওর চোখের পাতায়। ছবি আঁকার ফাঁকে ফাঁকে ম্যাম এদিক ওদিক ঘুরে সবাইকে দেখিয়ে দিচ্ছিলেন। ঋষভের কাছে এসে ম্যাম থমকে গেলেন,“ঋষভ! এটা কীসের ছবি?”
“ম্যাম,এটা ডেজার্ট র্যাট ক্যাঙারুর ছবি,” বুক ফুলিয়ে বলল ঋষভ, “এই প্রাণীটিও মানুষের হিংসা ও লোভের কারণে প্রায় হারিয়ে যেতে বসেছে।”
সেদিন ঋষভ নিশ্চিন্ত হয়ে ঘুমোতে যাবে ভাবল। পরের দিন ম্যাম গাছের ছবি আঁকতে বলেছেন। গাছ আঁকা তো খুবই সোজা। একটা কাণ্ড, খানকয়েক পাতা, শিকড়… কিন্তু কীসের একটা আওয়াজ হচ্ছে না? মৃদু হাওয়ায় গাছের পাতা দোলার শনশন শব্দ! ঋষভ ঘরের চারিদিকে তাকায়। মৃদু আলোয় দেখে, ওর বিছানার দক্ষিণ দিকের খোলা জানালার ওপারে অনেকটা নারকেল গাছের মতোই দেখতে একটা গাছ।
লম্বায় প্রায় পাঁচ-ছ মিটার উঁচু হবে। জানলা দিয়ে ভেসে আসা বসন্তের মৃদু হাওয়ায় দুলছে ওর ঝাঁক ঝাঁক পাতা। ঘন সবুজ পাতাগুলো চাঁদের মৃদু আলোয় ঝলমল করছে। ঋষভ কিছু বলে ওঠার আগেই গাছটা পাতা দুলিয়ে বলে ওঠে, “কাল তুমি আমার ছবি এঁকো কেমন? যারা হারিয়ে যায়, তাদের খোঁজ কজনই বা রাখে? আমার আদিবাস ছিল দক্ষিণ আফ্রিকায়। আমি হলুম গিয়ে উডস্ সাইক্যাড। আমার মতো এরকম কত গাছপালা হারিয়ে গেছে কালের অতলে, যার পিছনে মানুষের দায়িত্ব কম কিছু নয়।”
ঋষভ ছবি আঁকতে বসার আগেই ঘরের দরজায় খুট করে আওয়াজ হয়। দরজার বাইরে মার গলা শোনা যায়, “ঋষভ! এত রাতে ঘুমের মাঝে কী বকবক করছ সোনা?” ঋষভের গায়ের ওপর পাতলা চাদরটা টেনে দিতে দিতে মা মৃদু হাসেন,“উঃ! কী বেকায়দায় ঘুমোয় না ছেলেটা !”
পরের দিন সকালের নরম, হলুদ সূর্যটা টুক করে ঋষভের ঘরে ঢুকে পড়তেই ও আড়মোড়া ভেঙে ওঠে। রোজের মতোই টেবিলের দিকে তাকায় ঋষভ। নাঃ! গতরাতে তো ছবিটা আকাঁই হয়ে উঠল না। কিন্তু ঋষভ জানে, ও পারবে, ও ঠিক পারবে, প্র্যাকটিস না করেই আজ ও ড্রইং ক্লাসে এঁকে ফেলবে সবুজ চিকন পাতার রাশি দুলিয়ে হেসে ওঠা একটা হারিয়ে যাওয়া গাছের ছবি।
সুজাতা ম্যাম সেদিনও ঋষভের আঁকা ছবিটার দিকে সপ্রশংস দৃষ্টিতে তাকিয়ে থাকেন। তারপর মিষ্টি হেসে বলেন, “তোমাদের জেনে ভালো লাগবে, তোমাদের স্কুলের অ্যানুয়াল পেন্টিং একজিবিশনে তোমাদের ক্লাস থেকে থেকে ঋষভের নাম পাঠাচ্ছি। আরও যে তিনজনের নাম তোমাদের ক্লাস থেকে পাঠাচ্ছি তারা হল…”
অ্যানুয়াল পেন্টিং এগজিবিশনে ঋষভের আঁকা ছবিটা হাতে নিয়ে প্রিন্সিপ্যাল বলে ওঠেন,“ছোটো ছোটো শিশুদের মনে প্রকৃতির সঙ্গে একাত্মভাব গড়ে তোলার এই তো প্রকৃত সময়,প্রকৃতি আর মানুষ যে একে ওপরের নির্ভরশীল – এই সত্যটা তাদের বুঝিয়ে দেওয়ার এই তো উপযুক্ত সময়।” তখন আকাশে বাতাসে সোনা রোদের ছড়াছড়ি। কৃষ্ণচূড়া,পলাশের রঙে রাঙানো বিশ্বচরাচর। গাছে গাছে পাতায় পাতায়,ফুলে ফলে হাজার পাখিদের কলকাকলি,কাঠবেড়ালির কিচিরমিচির।
ভিকট্রি স্ট্যান্ডে দাঁড়িয়ে আট বছরের ছোট্ট ঋষভ যখন বলল ও প্রাইজ মানিটা ওদের পাড়ার ‘নেচার অ্যাডোরার্স অ্যাসোসিয়েশন’-এর হাতে তুলে দেবে;সবাই উৎসাহঘন চোখে,উচ্ছ্বসিত হাসিতে মুখর হয়ে ওঠেন। কিন্তু এই বইটা,যে বইটা প্রিন্সিপ্যাল ম্যাম আজ এই মুহূর্তে ওর হাতে তুলে দিলেন,এই বইটা ও যেন কোথায় দেখেছে? ভীষণ চেনা চেনা লাগছে না? কোথায় দেখেছে ও? ছোটোমামার বাড়িতে না? ছোটোমামার পড়ার ঘরে কি? পাতায় পাতায় কত শত অবলুপ্ত পাখি, জন্তু, গাছের ছবি… আরে! এই তো বনিন উড পিজনের আর ডেজার্ট র্যাট ক্যাঙারুর ছবি। এই তো উডস সাইক্যাডের ছবি। ঋষভ অবাক হয়ে পাতা ওলটায়। অস্ফুটে বলে ওঠে – “তোমাদের আমি কক্ষনো ভুলব না… কক্ষনো না…”
1 thought on “গল্প প্রতিযোগিতার পুরষ্কৃত গল্প-হারানো সুর পথের বাঁকে -রাখী নাথ (কর্মকার)-দশম”