মান্যবরেষু
অবশেষে তিন মাসের প্রতীক্ষার শেষ। ১৫ মার্চ ২০১৫, ভোর পাঁচটা। সুইচ অন করে বসে পড়লাম কম্পিউটারের সামনে। সার্চ ‘জয়ঢাক’। নতুন সাজে স্ক্রিনের পর্দায় ভেসে উঠল পত্রিকাটি। দিনটি (রবিবার) আমার শুরু হয়েছিল এই ভাবেই।
ভালবাসা ও নিষ্ঠা না থাকলে এমন একটি সুন্দর পত্রিকা উপহার দেওয়া সম্ভব নয়। তাই সম্পাদক এবং সম্পাদকমণ্ডলীর সকল সদস্যকে জানাই আমার আন্তরিক অভিনন্দন। আমার মতো একজন অখ্যাত লেখকের লেখা নিবন্ধটি (মহাকাশে আমরা কোথায়) প্রকাশ করার জন্য আমি সকলের কাছে কৃতজ্ঞ।
অনেকদিন ধরেই একটা কথা বলবো বলে ভাবছিলাম। আমাদের যা কিছু যোগাযোগ তা বৈদ্যুতিন মাধ্যমে। সামনাসামনি আলাপের সুযোগ এখনও হয়ে ওঠে নি। যদিও আপনাদের সঙ্গে আমার পরিচয় মাত্র তিন-চার মাসের। বঙ্গীয় বিজ্ঞান পরিষদে প্রতি মাসের একটি নির্দিষ্ট দিনে লেখক-পাঠক আড্ডা বসে। সেই আড্ডায় যে কেউ যোগ দিতে পারেন। এই ধরনের আড্ডা বা নিজেদের মধ্যে দেখাসাক্ষাৎ কি আপনাদের হয়?
পুরো পত্রিকাটি এখনও পড়া হয় নি। তবে যে কটা গল্প ও প্রবন্ধ পড়েছি সে সম্পর্কে কয়েকটা কথা বলছি। সূচীপত্রে আমার প্রবন্ধটির শিরোনাম লেখা হয়েছে, ‘মহাবিশ্বে মহাকাশে মহাকাশে আমরা কোথায়’। আমার মনে হয় ‘মহাবিশ্বে মহাকাশেঃ মহাকাশে আমরা কোথায়’। এই ভাবে লিখলে বোধ হয় ভালো হত। ভেবে দেখতে অনুরোধ করছি। কারণ নিবন্ধটির প্রকৃত শিরোনাম ‘মহাকাশে আমরা কোথায়’।
অঙ্কের বিচিত্র জগৎ বিভাগে প্রাচীন ভারতের একজন গণিতবিদকে নিয়ে একটি প্রবন্ধ প্রকাশিত হয়েছে। লেখক— বৈজ্ঞানিক। সম্ভবত ছদ্মনাম। আমার ভুলও হতে পারে। তা্র জন্য আগাম মার্জনা চেয়ে নিচ্ছি। গণিতবিদের নাম লেখা হয়েছে ‘আর্যভট্ট’। হওয়া উচিত ‘আর্যভট’। পরিতাপের বিষয় অনেক পত্র-পত্রিকায় এবং বইয়ে ‘আর্যভট্ট’ এই ভুল নামটিই দেখা যায়। এই ভুলের পিছনে দুটি কারণ থাকতে পারেঃ (১) নামের সঙ্গে ‘ভট্ট’ যুক্ত অনেক নাম পাওয়া যায়। যেমন, ব্রহ্মবিদ্যাবিদ, সিদ্ধান্ত-তন্ত্র গণিত-ফলসঙ্ঘিতার সুপণ্ডিত কুমারিল ভট্ট, স্মৃতি চণ্ডিকা গ্রন্থের লেখক দেবলভট্ট, সুবিখ্যাত যদুভট্ট প্রভৃতি। (২) ‘ভট্ট’-এর সঙ্গে আমরা অধিক সরগর। তাই ‘ভট’ উচ্চারণে অস্বস্তি হয়। যা হোক, উল্লিখিত গণিতবিদের নাম ‘আর্যভট্ট’ না হয়ে ‘আর্যভট’ কেন হবে তার কারণটি ডঃ নীহার রঞ্জন রায়ের ‘বাঙালীর ইতিহাস’ গ্রন্থ থেকে উদ্ধৃত করলামঃ “ব্রহ্মবৈবর্তপুরাণেই ভট্ট ব্রাহ্মণ নামে আর এক নিম্ন বা ‘পতিত’ শ্রেণীর ব্রাহ্মণের খবর পাওয়া যাইতেছে; সূত পিতা এবং বৈশ্য মাতার সন্তানরাই ভট্ট ব্রাহ্মণ এবং অন্য লোকদের যশোগান করাই ইহাদের উপজীবিকা। ইহারা নিঃসন্দেহে বর্তমান কালের ভাট ব্রাহ্মণ।”
এই প্রসঙ্গে গণিতপাদের প্রথম শ্লোকটি নীচে উল্লেখ করলাম—
“ব্রহ্মকুশশিবুধভৃগুরবিকুজগুরুকোণ ভগণান্ নমস্কৃত্য
আর্যভটস্ত্বিহ নিগদতি কুসুমপুরেহভ্যচিতং জ্ঞানম্ ।।”
প্রাচীন ভারতীয় গণিতের ইতিহাসে আমরা তিনজন ‘আর্যভট’ নামে গণিতবিদকে পাই। প্রথম আর্যভটের জন্ম ৪৭৬ খ্রিস্টাব্দে। এটা ছিল গুপ্তযুগের শেষের দিক। কুসুমপুরের সঙ্গে তাঁর সম্পর্কের কথা তিনি তাঁর নিজের গ্রন্থে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করে গেছেন। তাই তাঁকে অনেক সময় কুসুমপুরের আর্যভট বলা হয়ে থাকে। দ্বিতীয় আর্যভটের জন্ম আনুমানিক ৯৫০ খ্রিস্টাব্দে (বিতর্ক আছে)। প্রথম আর্যভটের আগে আরও একজন আর্যভট ভারতের মাটিতে জন্মেছিলেন। ইনি ‘বৃদ্ধ আর্যভট’ নামে পরিচিত। তবে এঁর সম্পর্কে বিশেষ কিছু জানা যায় না। তাই প্রবন্ধে উল্লিখিত গণিতবিদকে প্রথম আর্যভট বা কুসুমপুরের আর্যভট নামে উল্লেখ করাই কাম্য।
শুভেচ্ছান্তে,
কমলবিকাশ বন্দ্যোপাধ্যায়,
ভাইস প্রেসিডেন্ট , বঙ্গীয় বিজ্ঞান পরিষদ,আজীবন সদস্য, এশিয়াটিক সোসাইটি,আজীবন সদস্য, সাহিত্য পরিষদ,আকাশবাণী
সম্পাদকের দফতর থেকেঃ
অনেক ধন্যবাদ আপনাকে স্যার। “মহাবিশ্বে মহাকাশে” সংক্রান্ত গত সংখ্যার ত্রুটিটি ঠিক করে দেয়া হয়েছে। এই সংখ্যা থেকে “অঙ্কের বিচিত্র জগত” এ আর্যভটের নাম সংক্রান্ত ত্রুটিও সংশোধন করে দেয়া হল। চিঠিটা আমরা একটি তথ্যের উৎস হিসেবেই প্রকাশ করলাম আমাদের পাঠকদের কাজে লাগবে এই আশায়। আপনাদের মত মানুষদের কাছ থেকে না চাইতেই এত সাহায্য পাওয়া জয়ঢাকের কমবয়েসি পাঠকদের কাছে সৌভাগ্যের ব্যাপার বলে মনে করি। আমাদের তরফ থেকে কৃতজ্ঞতা জানবেন। আড্ডার ব্যাপারে বলি, জয়ঢাকের যে দলবল পত্রিকা তৈরিতে অংশ নেন তাঁদের অধিকাংশই ছড়িয়ে রয়েছেন ভারত ও বিশ্বের নানান এলাকায়। কাজ এবং আড্ডা দুটোই তাই হয় যন্ত্রপথেই বেশি। তবে বছরে দুবার, যখন প্রবাসীরা ঘরে ফেরেন, সেই পুজো আর বইমেলার সময় আমরা দুবার একত্র হই মহা আড্ডায়। একটি হয় আমার বাড়িতে (পুজোর আগে) আর অন্যটি বইমেলা প্রাঙ্গনে জয়ঢাকের বিভিন্ন হার্ড কপি প্রকাশনার উদ্বোধনকে উপলক্ষ করে। সেই দুই আড্ডায় আপনাকে স্বাগত জানাই।

1 thought on “চিঠিপত্র”