ছড়ার পাতা-ছুতার ও সিন্ধুঘোটক-আবু হোসেন

মূলঃ দা ওয়ালরাস অ্যান্ড দা কার্পেন্টারঃ লুই ক্যারল

সমুদ্রে সূর্যের রোদ ঝকমকchhorawalrus2 (Small)

মহাতেজে রূপোহেন করে আলোপাত

ঢেউয়ের মাথায় রোদ হাসে চকাচক

যদিও তখন ছিল মহাঘোর রাত

চাঁদ ভারী রেগে ছিল আকাশের কোণে

দিন শেষ। মাঝরাতে কেন ফিরে আসা

হতভাগা সূর্যটা কথা তো না শোনে

 মজাটাই মাটি করে দিল ব্যাটা চাষা

সমুদ্র ছিল ভারী নোনাজলে ভেজা

বালুভরা বেলাভূমি জলহীন ড্রাই

আকশে মেঘের কেউ পাবে না তো দেখা

কারণ সহজ, সেথা কোন মেঘ নাই।

মাথার ওপরে পাখি যায়নাকো উড়ে

অতরাতে বল আর  পাখি কোথা পাই?

সিন্ধুঘোটক আর একটি ছুতার

হাতে হাতে রেখে তারা হাঁটে তালে তাল

এত বালি দেখে দোঁহে জলভরা চোখে

ভাবে কেবা করে সাফ এতো জঞ্জাল

“বলো দেখি ঝাঁটা হাতে সাতটি চাকর

যদি ঝাঁট দিয়ে যায় অর্ধেক সাল,”

সিন্ধুঘোটক বলে, “বলো হে ছুতার

সাফ হবে কিগো তাতে এত জঞ্জাল?”

“সন্দেহ আছে ভাই” বলেই ছুতার

চোখে জল এনে জোড়ে মহা চিৎকার

“এসো হে ঝিনুককূল,হাঁটি একসাথে”

জল পানে চেয়ে ডাকে সিন্ধুঘোটক

“মিঠে চলা মিঠে বলা নোনা বেলাভূমে

চার হাতে নিতে পারি চারজন তক”

মাথা নেড়ে চোখ মেরে বৃদ্ধ ঝিনুক

ইশারায় বলে দিল বাসাখানি ছেড়ে

ছুতারের সাথে যদি সিন্ধুঘোটক

তার সাথে হাওয়া খেতে যাবে আর কে রে?

chhorawalrus (Small)

কিন্তু দেশের যত তরুণ ঝিনুক

তেড়েফুঁড়ে আসে ছেড়ে পাথুরে বালিশ

বর্মেরা চকাচক, মুখেতে সাবুন

পায়ের জুতায় মাখে নতুন পালিশ

যদিও অসম্ভব, জানো তো কারণ?

ঝিনুকের একটাও ঠ্যাং নাই, ইশ!

চারটি ঝিনুক, পিছে আসে আরো চার

তার পিছে চারে চারে হাজার ঝিনুক

নোনা জল ছেড়ে আসে দিয়ে লাফে লাফ

ঝিনুকের ভিড়ে ঢাকে সাগরের মুখ

সিন্ধুঘোটক আর বন্ধু ছুতার

বেলাভূমে দুই ক্রোশ পথ দিয়ে পাড়ি

বসে এসে নিচু এক পাথরের পাশে

বেলাভূমে খাড়া থাকে ঝিনুকের সারি

সিন্ধুঘোটক বলে “এবারে সময়

আসিয়াছে, তত্ত্বের হোক আলোচনা

জুতা ও জাহাজ আর মোমবাতি গালা

বাঁধাকপি, রাজাগজা, জানে কোন জনা?

গ্লোবাল ওয়ার্মিং কী কারণে হয়

শুয়ারেরা ওড়ে কেন? জানো নিশ্চয়?”

“একটু দাঁড়ান প্রভু” ঝিনুকেরা হাঁকে,

“একটুকু দেরি হোক আলোচনাটার

হেঁটে হেঁটে পায়ে ব্যথা হয়েছে অনেক

আমরা যে মোটাসোটা গা’গতরে ভার

“তাই হোক,” মাথা নাড়ে সিন্ধুঘোটক

ঝিনুকেরা হেঁকে বলে, “থ্যাংক ইউ সার”

“চাই শুধু এইবারে গুটিকয় রুটি

গোলমরিচের গুঁড়া, থোরা ভিনিগার

সাথে যদি যায় মিলে বেরে হয় তবে

ডিনার টেবিলে তবে চাই কী বা আর?”

“প্রিয় ঝিনুকের দল, প্রস্তুতি শেষ

এইবারে শুরু হোক রাতের আহার”

“সেকী কথা প্রভুগণ, অবশেষে এই?”

ঝিনুকেরা হাঁকে ভয়ে বুক ধুকপুক

“এত ভালোবাসা তবে সবই বুঝি ফাঁকি

ও হৃদয়ে দয়ামায়া নাই এতটুক?”

“কী মধুর রাত,” বলে সিন্ধুঘোটক,

দেখে তোমাদের প্রাণে জাগেনা কি সুখ?

“দয়া করে এতখণ এলি সাথে সাথে

তোরা ভারী ভালোছেলে সেটা তো জানিস?”

ছুতোর হঠাৎ বলে, “সিন্ধুঘোটক,

আমাকেও রুটি কেটে দিবি এক পিস।

কালা নাকি? কানে খোল? চেয়েছি দুবার,

এইবারে কথা ছেড়ে  রুটিটা কাটিস”

“লজ্জার কথা ভারী ,”সিন্ধুঘোটক

জলভরা চোখে ছাড়ে ভারী নিঃশ্বাস,

“কত মেহনত করে ছুটে এল সাথে

আমাদের করেছিলো কত বিশ্বাস

ছুতোর জবাবে বলে “রুটিতে মাখন

পুরু কেন? একটুকু পাতলা মাখাস”

“তোদের ব্যাথায় আমি কেঁদে কেঁদে সারা”

সিন্ধুঘোটক বলে, “দুখে ভাঙে বুক”

কাঁদে আর খুঁজেপেতে তুলে তুলে আনে

দেখে বেছে মোটাসোটা একশো ঝিনুক

রুমালের কোণটিতে ঘনঘন মোছে

দুখে ভাঙা লাজে রাঙা জলে ভেজা মুখ।

“শোন হে ঝিনুকগণ” হাঁকিল ছুতার

“বড়ো সুখে বেলাভূমে এলে হেঁটে হেঁটে

এবারে কি ফের তবে ফিরে যাবি ঘরে?”

জবাব এলো না তার, রাত গেল কেটে।

কে দেবে জবাব তার ঘুমায় সবাই

সিন্ধুঘোটক আর ছুতারের পেটে

ছবির উৎসঃ ডেভিয়েন্ট আর্ট

1 thought on “ছড়ার পাতা-ছুতার ও সিন্ধুঘোটক-আবু হোসেন”

Leave a Reply