প্রাচীন ও মধ্যযুগের রাশিয়াতে “বিলিনি” নামের লোকগাথা ছিল একটা প্রচলিত গল্প বলার পদ্ধতি। বিলিনি শব্দটার অর্থ “ আগে যা ছিল। ” গায়করা গান করে করে শোনাতেন লোকগল্পের নায়কদের রোমাঞ্চে ভরা জীবনের কথা, তাদের অ্যাডভেঞ্চার, রাজারানিদের গল্প, রোমাঞ্চ , সমুদ্রযাত্রা আর যুদ্ধের রঙিন কল্পগল্প। এইসব বিলিনিদের মধ্যে সবসেরাদের একটা হল সাদকোর এই গল্প। সম্ভবত ১১৬৭ সালে নোভোগর্দ শহরের সবচেয়ে বড়ো গির্জাটার প্রতিষ্ঠা যিনি করেছিলেন সেই ব্যবসায়ী সোতকো সিতিনিচ-এর জীবন অবলম্বনেই এই গল্পের জন্ম। তবে সে সব কথা থাক। এসো গল্পটা শুনি।
অনেক অনেক দিন আগে নোভোগোর্দের বন্দর শহরে থাকত সাদকো নামে এক বাজনদার। প্রত্যেকদিন শহরের কোন না কোন রইস সাদকোর বাড়িতে নেমন্তন্ন করে পাঠাত, তাদের বাড়ির অনুষ্ঠানে তাকে গাইতে হবে। সাদকোও অমনি তার বারো তারের গুসলিটা হাতে করে ছুট দিত রইসের বাড়ির দিকে। সেখানে তার তারের বাদ্য শুনে সব অতিথরা ভারী আনন্দে নাচ জুড়ত। তারপর, বাড়ির কর্তা তাকে পেট ভরে ভালোমন্দ খাইয়ে কয়েকটা রুবল গুঁজে দিত তার হাতে। সেইটুকু টাকাতেই সংসার চলত তার।
মাঝেমধ্যেই বন্ধুরা তাকে জিজ্ঞাসা করত, “অতটুকু আয়ে চলে কী করে তোর?”
“যাই বলিস ভাই ও টাকা আমার কাছে কম কিছু নয়,” সাদকো জবাব দিত, “তাছাড়া রোজ রোজ ভোজসভায় খেতে পাওয়া, বাজনা বাজিয়ে অত লোককে আনন্দফুর্তি দেয়া, নাচানো—কজনের ভাগ্যে হয় বল?”
তার শহরকে নিয়ে সাদকোর গর্বের শেষ ছিল না। ভরভরন্ত বাজারের মধ্যে দিয়ে যখন হেঁটে যেত সে তখন সবসময় শুনতে পেত নানান দেশের কতরকম বুলি। তাতে নরওয়ে থেকে পারস্য সবজায়গার ভাষা আছে। বন্দরে গেলেই তার চোখে পড়ত, কাঠ, হাঁড়িকলসি, মশলা আর সোনারূপো নিয়ে পাল তুলে জাহাজেরা চলেছে পৃথিবীর কোণে কোণে। কখনো ভলকভ নদীর ওপরের বিরাট সেতুটা পেরোতে গেলে তার চোখে পড়ত দূরে সাদা সাদা গির্জাদের সোনালি চূড়ো রোদে চকচক করছে।
“এমন শহর দুনিয়ায় আর দুটো আছে নাকি?” নিজের মনেই বলত সে, “এমন ভালো জায়গায় ক’জন থাকতে পায়?”
তবু কখনো কখনো ভারী একলা লাগত সাদকোর। এ শহরে সবাই কত বড়োলোক। কোন মেয়েই যে তার দিকে ফিরে তাকায় না। তার বন্ধু নেই কোন।
একদিন এমনি একটা একলা একলা সন্ধেবেলা সাদকো ভলকভ নদীর ধারে ঘুরছিল। ঘুরতে ঘুরতে নিজের প্রিয় একটা জায়গায় এসে সে তার গুসলিটা হাতে করে বসল। সন্ধের হাওয়ায় নদীতে হালকা ঢেউ উঠছিল। চাঁদের আলোয় তার জল চিকচিক।
বসে থাকতে থাকতে সাদকো গুসলির একটা তারে সুর তুলল একটুখানি। প্রথমে দুঃখের সুর, তারপর শান্তির সুর, আর শেষকালে ভারী আনন্দের একখানা সুর। নদীর চাঁদ-ছলছল জলের ধারায় তার গুসলির সুর ভেসে ভেসে যাচ্ছিল।
হঠাৎ করেই নদী যেন জেগে উঠল। বড়ো বড়ো ঢেউ এসে আছড়ে পড়তে শুরু করল পাড়ের কাছে। তারপর তার মধ্যে থেকে একটা বিরাট লোক মাথা জাগাতে আরম্ভ করতে সাদকো ভয়ে চিৎকার করে উঠে চোখ বুঁজে ফেলল। চোখ খুলে সে দেখে তার সামনে একজন লম্বা চওড়া মানুষ দাঁড়িয়ে। তার গালে সমুদ্রশ্যাওলার লম্বা দাড়ি আর মাথায় মুক্তোর মুকুট।
“ওহে বাজিয়ে,” বলে উঠল লোকটা, “আমি সমুদ্রের সম্রাট। এই নদীতে এসেছিলাম আমার এক মেয়ে, রাজকন্যা ভলকভার বাড়িতে। জলের তলা থেকে তোমার বাজনা শুনে ভারী পছন্দ হয়েছে আমাদের। ”
“ধন্যবাদ মহারাজ,” কোনমতে বলল সাদকো।
“আমি শিগগিরই আমার প্রাসাদে ফিরে যাব। আমি চাই তখন তুমি সেখানে একটা ভোজসভায় এসে বাজাও। ”
“মহারাজের আদেশ শিরোধার্য,” সাদকো জবাব দিল, “কিন্তু জায়গাটা কোথায়? যাবই বা কেমন করে?”
“সমুদ্রের তলায়। আর কোথায় হবে? আর রাস্তা তুমি ঠিকই খুঁজে নেবে। তবে বাজানোর পুরষ্কারের জন্য অবশ্য তোমায় অপেক্ষা করতে হবে না। এই যে—”
বলতে বলতেই জল থেকে লাফ মেরে একটা সোনার আঁশওয়ালা মাছ এসে পড়ল সাদকোর পায়ের কাছে। তারপর তার চোখের সামনেই সেটা জমে গিয়ে একটা নীরেট সোনার মাছ হয়ে গেল।
“আপনি ভারী দয়ালু, মহারাজ। ”
“অমন কথা বোলো না,” সম্রাট জবাব দিলেন, “ভালো বাজনা সোনার চেয়েও দামি। দুনিয়াটা যদি ভালো হত তাহলে তুমি এতদিনে অনেক বড়োলোক হয়ে যেতে হে। ” এই বলে সম্রাট এক লাফে জলের ভেতর ঝাঁপিয়ে পড়ে হারিয়ে গেলেন।
পরদিন সক্কাল সক্কাল বাজারের দোকানপাট খুলতে না খুলতেই সাদকো সেখানে এসে হাজির। এক স্যাকরার দোকানে গিয়ে সে সোনার মাছটা বেচে দিল। তারপর টাকাপয়সা গুণে নিয়ে তাড়াতাড়ি বন্দরে এসে সেই দিনই নোভোগোর্দ থেকে রওনা হবার জন্যে জাহাজে একটা টিকিট কেটে ফেলল।
ভলকভের ভাঁটি বেয়ে জাহাজ তো চলল পাল খাটিয়ে। দেখতে দেখতে পেরিয়ে গেল লাদোগা হ্রদ, তারপর ফিনল্যান্ডের উপসাগর পেরিয়ে এসে পড়ল একেবারে বালটিক সাগরে। সমুদ্রের নীল জল কেটে তরতরিয়ে জাহাজ ছোটে আর সাদকো তার রেলিঙের পাশে দাঁড়িয়ে জলের দিকে তাকিয়ে থাকে।
দেখতে দেখতে হঠাৎ সে নিজের মনেই বলে, “এতবড়ো সমুদ্রটায় রাজপ্রাসাদ খুঁজে পাই কী করে?”
অমনি ছুটতে ছুটতে জাহাজ গেল এক্কেবারে থেমে। হাওয়ায় তার পালে টান লাগাচ্ছে, কিন্তু তাকে যেন কোন দৈত্য এসে চেপে ধরে আছে জলের সাথে। মোটেই সে নড়েনা একচুল। জাহাজের লোকজন তো ভয়েই অস্থির। এ আবার কী বিপত্তি হল। হঠাৎ ক্যাপ্টেন চিৎকার করে বলে, “এ নিশ্চয় সমুদ্র সসম্রাটের কাজ। বোধ হয় আমাদের মধ্যে কাউকে তিনি চান। ”
“ভাববেন না ক্যাপ্টেন,” হঠাৎ সাদকো বলে উঠল, “আমি জানি সম্রাট কাকে চান। ” এই বলে গুসলিটা হাতে ধরে সে রেলিং বেয়ে উঠতে শুরু করল।
“ধরো ছোঁড়াকে,” ক্যাপ্টেন হাঁক পাড়ল।
কিন্তু তাকে কেউ এসে ধরবার আগেই সাদকো রেলিঙের মাথায় উঠে ঝাঁপ মেরেছে সমুদ্রে, আর সঙ্গেসঙ্গেই তলিয়ে গেছে তার অতলে।
ডুবতে, ডুবতে,ডুবতে—সাদকো গিয়ে পৌঁছোল সমুদ্রের একেবারে তলায়। মাথার ওপর জলের ভেতর দিয়ে অনেক উঁচুতে সূর্যের হালকা লালচে আলো দেখা যায়, আর তার সামনে জলের নিচে দাঁড়িয়ে আছে বিরাট এক পাথরের প্রাসাদ।
প্রবালের তৈরি তার সিংদরজা পেরিয়ে ভেতরে ঢুকে এল সাদকো। রাজপ্রাসাদের দরজার কাছে পৌঁছোতে নিজেনিজেই খুলে গেল সেই বিরাট দরজার পাল্লাদুটো। পেছনে তার এক হলঘর। সেখানে হাজারো অতিথ জড়ো হয়েছে। রয়েছে হেরিং, স্প্র্যাট, কড, ফ্লাউন্ডার, গবি, স্টিকলব্যাক, স্যান্ড ইল, সাগরবিছের দল। রয়েছে কাঁকড়া আর গলদা চিংড়ি, তারামাছ আর স্কুইড, সমুদ্র কাছিম আর বিরাট স্টার্জনেরাও।
সেই অতিথিদের মাঝখানে ভিড় করে ছিল নদীর জলকন্যার দল, তারা সব এ রাজ্যের রাজকুমারী। হলের একধারে ঝিনুকের বিরাট সিংহাসনে বসে ছিলেন সম্রাট আর সাম্রাজ্ঞি।
“একেবারে ঠিক সময়ে এসে পৌঁছে গেছ হে,” সম্রাট তাকে দেখে বলে উঠলেন, “এসো এসো, আমার পাশে বোসো দেখি। নাচ শুরু হোক। ”
সাদকো জুত করে বসে গুসলিতে ধরল এক মজাদার সুর। তার তালে তালে সব অতিথি মাছের দল নেচে নেচে সাঁতার জুড়ল তার চারপাশে। তাদের রূপ বলে বোঝানো যাবে না। সাগরতলের বালিতে যাদের বাস তারাও মেঝের ওপর নাচ জুড়ে দিয়েছে ততক্ষণে। আর তালে তালে তুড়ুক লাফে পাক খাচ্ছে রাজকুমারী জলকন্যারা।
“চমৎকার সুর তো রে,” বলতে বলতে এইবার সম্রাট উঠে নাচের দলে ভিড়ে গেলেন। হাত দুলিয়ে, চুল উড়িয়ে, রাজপোশাক ফাঁপিয়ে পা ঠুকে ঠুকে সে কী নাচ তাঁর।
“আরো তাড়াতাড়ি” সম্রাট বলে উঠলেন এবারে, “বাজাও বাজাও হে—”
অমনি সাদকো বাজনার তাল দিল দুগুণ করে। তারপর তাল বাড়াল চারগুণ –আটগুণ গতিতে। সম্রাটের নাচের গতিও বেড়ে উঠল সেই সঙ্গেসঙ্গে। আরো জোরে জোরে লাফ দিয়ে , পাক খেয়ে তিনি নেচে চলেছেন। বাকি সবাই তখন নাচ থামিয়ে তাই দেখছে শুধু হাঁ করে।
হঠাৎ সাম্রাজ্ঞি কাঁপা কাঁপা গলায় বললেন, “বাজনা থামাও বাজনদার। ভাবছ বুঝে সম্রাট শুধু এইখানেই নাচছেন? ও নাচের তালে তালে বাইরের সমুদ্রে তুফান উঠেছে। বড়ো বড়ো রাক্ষুসে ঢেউ খেলনার মত লোফালুফি করছে মানুষদের জাহাজ নিয়ে। পাড়ে আছড়ে পড়ছে পাহাড়ের মতন সব ঢেউ। ”
ভয় পেয়ে সাদকো করল কি , গুসলির একটা তার ধরে এমন জোরে টানল যে সেটা গেল পটাং করে ছিঁড়ে। সে তখন মুখটা করুণ করে বলে, “সম্রাট, আমার যন্ত্রের তার ছিঁড়ে গেছে। ”
“ভারী লজ্জার কথা,” নাচ থামাতে থামাতে রাজা বলে উঠলেন, “এমন বাজনা হলে আমি দিনের পর দিন একটানা নেচে যেতে পারি, বুঝলে? তবে তুমি বড়ো ভালো ছেলে হে সাদকো। ভাবছি আমার একটা মেয়ের সঙ্গে তোমার বিয়ে দিয়ে এইখানেই রেখে দেব তোমাকে। ”
“সম্রাট,” সাদকো সাবধানে বলল, “জলের নীচে আপনার কথাই আইন। কিন্তু এ তো আমার নিজের দেশ নয়। আমি তো আমার নোভোগোর্দকেই সবচেয়ে বেশি ভালোবাসি। ”
“ও কথা আর মোটেই মুখে এনো না,” বললেন সম্রাট, “এখন মনের মত একটা কনে বেছে ফেলো দেখি বাপু। কই হে আমার রাজকন্যেরা, একটু এগিয়ে এসো দেখি এদিকে। ”
অমনি নদীর জলকন্যারা সাদকোর সামনে এসে হাজির। তাদের একজনের চেয়ে আরেকজন বেশি সুন্দর। রূপের ঝলকে চোখ ঝলসায়। কিন্তু সাদকো কেবল মুখ গোমড়া অরে বসে থাকে। কারো দিকে চোখটি তুলে তাকায় না।
“কী হল হে বাজনদার?” রাজা হাসিহাসি মুখে জিজ্ঞাসা করলেন, “কনে বাছা ভারী কঠিন ঠেকছে নাকি? তাহলে আমি আমার যে কন্যেটি তোমায় পছন্দ করে তার সাথেই তোমার বিয়েটা দিই , কী বলো? এই যে তাকিয়ে দেখো দেখি—এ হল রাজকন্যা ভলকভা। ”
অমনি রাজকন্যার ভিড় থেকে সবচেয়ে সুন্দরটি বের হয়ে এল সামনে। তার সবুজ চোখে পান্নার ঝিলিক। মিষ্টি হেসে বলল, “তুমি যখন নদীর ধারে বসে বাজাও, আমি তখন কতদিন জলে ভেসে ভেসে তোমার বাজনা শুনেছি তুমি জানো? এইবারে আমরা একসঙ্গে থাকব। ”
সাদকো তার দিকে চোখ তুলে তাকাল। রূপের বন্যা বইছে রাজকন্যার অঙ্গে। খানিক বাদে কথা খুঁজে পেয়ে সে বলে, “ভলকভা। তুমি তোমার নদীর মতই সুন্দর। ”
সাম্রাজ্ঞি তখন সাদকোর কাছে মুখ ঝুঁকিয়ে নরম গলায় বললেন, “তুমি বড়ো ভালো ছেলে সাদকো। তাই তোমায় আগেভাগেই বলে দিই, একবার তুমি যদি রাজকন্যাকে ছোঁও, তাহলে আর কোনোদিন কিন্তু তোমার মাটির দেশে আর ফিরতে পারবে না এই জলের দেশ ছেড়ে। ”
সেদিন রাতে সাগর শ্যাওলার বিছানায় শুয়ে শুয়ে সাদকো ভাবছিল, “আমার স্বপ্নের মতন সুন্দর রাজকন্যা–”
কিন্তু তক্ষুণি তার মনের ভেতর ফিরে এল সাম্রাজ্ঞির সেই সাবধানবাণী। আর ভয়ে তার বুকের ভেতরটা জমে বরফ হয়ে গেল যেন।
ঠিক তক্ষুণি রাজকন্যা এসে তার পাশটিতে বসে হাত বাড়িয়ে দিয়ে বলল, “মুক্তোর বাগানে ঘুরতে যাবে না আমার হাত ধরে?”
“না গো,” নিজের হাতটা তাড়াতাড়ি সরিয়ে নিয়ে মাথা নাড়ল সাদকো, “আমার দেশের নিয়ম হল বিয়ের আগে মুক্তোর বাগান দেখা যাবে না। ”
“তবে তুমি আর কোনদিন সে বাগান দেখতে পাবে না,” দুঃখু দুঃখু গলায় এই কথা বলে রাজকন্যা চলে গেল।
সকালবেলা ঘুম ভেঙে সাদকো দেখে তার মুখে রোদ পড়েছে এসে। চোখ খুলে দেখে কোথায় রাজকন্যা? ভলকভ নদীটাই বয়ে চলেছে তার পাশ দিয়ে। আর, পেছনে সকালের আলোয় হাসছে তার প্রিয় নোভোগোর্দ শহর।
“আমার নিজের বাড়ি,” বলতে বলতে বাড়ি ফেরার সুখে, রাজকন্যাকে হারানোর দুঃখে সাদকোর চোখে জল এল।
এরপর সাদকোর জীবনে আর বেশি দুঃখকষ্ট রইল না। সোনার মাছ বেচে যত টাকা পেয়েছিল সে তাই দিয়ে একটা জাহাজ কিনে সে হয়ে উঠল নামজাদা এক ব্যবসায়ি। কালে কালে
সাদকোই হয়ে গেল নোভোগোর্দের সবচেয়ে বড়ো রইস। বিয়ে করল। ফুটফুটে ছেলেমেয়ে হল অনেকগুলো। আর, প্রতি রাত্রেই সে বড়ো বড়ো ভোজ দিত আর সেখানে তার গুসলিটা বাজিয়ে শোনাত সকলকে।
তবু মাঝে মাঝে কোন এক শান্ত সন্ধেবেলা একলা একলা ভলকভ নদীর ধারে যখন হাঁটতে যেত সে, তখন একলা একলা নদীর পাড়ে বসে তার গুসলিতে মিঠে সুর তুলে ছড়িয়ে দিত ভলকভের ছুটন্ত জলের ওপর দিয়ে। কখনো হয়ত তার চোখে পড়ত, ভারী সুন্দর ফুলের মতন একটা মুখ জল থেকে বের হয়ে এসে সেই বাজনা শুনছে প্রাণ ভরে। সে কি সত্যিই কারো মুখ ছিলো, নাকি শুধুই ছিল জলের বুকে চাঁদের আলোর ঝলক? কে জানে।

1 thought on “বিদেশী গল্প- রাশিয়ান-সাদকো আর সাগর রাজকন্যা আর্নল্ড শেপার্ডের ইংরিজি ভাষ্য থেকে বাংলা রূপান্তর দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য”