বৈজ্ঞানিকের দপ্তর-মহাবিশ্বে মহাকাশে-গ্রহে গ্রহে নানা বিস্ময়– কমলবিকাশ বন্দ্যোপাধ্যায়

বুধের আকাশে সূর্যোদয়ঃ

 bigganmahabishwe01 (Small)বুধ সূর্যের সবচেয়ে কাছের গ্রহ। ছোট্ট গ্রহটা সূর্যের চারপাশে ঘুরপাক খায় একটা ছোট্ট উপবৃত্তাকার কক্ষপথে। মজার কথা সূর্য বুধের কক্ষপথের মাঝখানে নেই। আছে একটা ধারে। ফলে ঘুরপাক খাবার সময় বুধ কখনো সূর্যের কাছে চলে যায়, আবার কখনো অনেকটা দূরে সরে আসে। গ্রহটি যখন সূর্যের কাছে থাকে তখন সূর্য থেকে এর দূরত্ব থাকে ৪ কোটি ৬০ লক্ষ কিলোমিটার। আর যখন দূরে থাকে তখন সূর্য থেকে এর দূরত্ব দাঁড়ায় ৬ কোটি ৯৮ লক্ষ কিলোমিটার। ফলে এর আবর্তনের গতিবেগেও হেরফের হয়। কাছে থাকার সময় এর গতিবেগ থাকে সেকেন্ডে ৩৭ কিলোমিটারের মত, আর দূরে গেলে সেটাই দাঁড়ায় সেকেন্ডে ৫৬ কিলোমিটারের মত। সূর্যের চারপাশে ঘুরতে বুধের যত উৎসাহ নিজের অক্ষের চারপাশে ঘুরতে ততটাই আলস্য। পৃথিবীর হিসাবে সূর্যকে এক পাক দিতে বুধ সময় নেয় মাত্র ৮৮ দিন। সেখানে নিজের অক্ষের চারপাশে একবার ঘুরতে গ্রহটি সময় নেয় ৫৯ দিন। বুধের অক্ষ নিজের কক্ষপথের সঙ্গে ২° হেলানো অবস্থায় আছে। শুধু তাই নয় সূর্য অক্ষের মাঝ বরাবর নেই, আছে একটা ধার ঘেঁষে। এরফলে বুধের আকাশে সূর্যোদয় অদ্ভুতভাবে হয়। প্রথমে দিগন্তরেখায় সূর্য দেখা দেয়। প্রভাত শেষ হতে না হতেই সে আবার লুকিয়ে পড়ে। কিছু সময় পরে আবার সে পূব আকাশে দেখা দেয়। এবারে সে ধীরে ধীরে পৌঁছায় মধ্য গগনে। সেখানে খানিক বিশ্রামের পর সূর্য আট দিন ধরে পিছোতে থাকে। হঠাৎ-ই কী মনে করে আবার সে এগোতে থাকে। চলে আসে মধ্য আকাশে। এরপর ধীরে ধীরে নেমে যায় দিগন্তরেখার দিকে। সন্ধ্যার পর নেমে আসে রাত। আরও একটা মজার ঘটনা ঘটে। পরবর্তী সূর্যোদয়ের ফাঁকে বুধ সূর্যকে দু’বার পাক খেয়ে ফেলে। অর্থাৎ, পৃথিবীর হিসাবে বলা যায় বুধ গ্রহে একটা দিন (এক সূর্যোদয় থেকে অপর সূর্যোদয় পর্যন্ত) হতে দু’টো বছর পেরিয়ে যায়।

(সম্পাদকীয় সংযোজনঃ কেমন দেখতে হয় বুধের আকাশের সূর্যের এই বিচিত্র গতিকে? বিজ্ঞানিরা যন্ত্র দিয়ে তার এক অসামান্য ভিডিও বানিয়েছেন। সেইসঙ্গে উপরি পাওনা হল, পৃথিবী যদি অমন করে ঘুরতো তাহলে আমাদের আকাশের সূর্যের সেই বিচিত্র নাচ কেমন লাগতো দেখতে তারও একটা চলচ্ছবি রয়েছে এই ভিডিওতে। সঙ্গে লিংক দেয় থাকল। দেখে নাও। দারুণ মজারঃ https://www.youtube.com/watch?v=nPprOO2u1gk)

যেখানে বছরে দু’বার সূর্যোদয় হয়ঃ

bigganmahabishwe02 (Small)সূর্য থেকে দূরত্বের বিচারে শুক্র হল দ্বিতীয় গ্রহ। সন্ধ্যায় এবং ভোরে পশ্চিম এবং পূর্ব আকাশে যে উজ্জ্বল জ্যোতিষ্কটিকে আমরা দেখতে পাই সেটাই হল শুক্রগ্রহ। যদিও ভুল করে আমরা ‘সন্ধ্যাতারা’ এবং ‘শুকতারা’ বলে থাকি। আসলে আর কোনো গ্রহকে পৃথিবী থেকে এত উজ্জ্বল দেখায় না। এই গ্রহটি আকারে আকৃতিতে প্রায় পৃথিবীর মত। তাই পৃথিবী এবং শুক্রকে যমজ বোন বা সিস্টার প্ল্যানেট (Sister Planet) বলা হয়। পৃথিবী বড়, শুক্র ছোট। দুটি গ্রহের মধ্যে ব্যাসের তফাৎ মাত্র ৬৫২ কিলোমিটার। দুটি গ্রহের মধ্যে মিল যেমন আছে তেমন কিছু কিছু অমিলও আছে। যেমন পৃথিবী পশ্চিম থেকে পূর্ব দিকে ঘোরে। তাই আমরা সূর্যোদয় এবং সূর্যাস্ত দেখতে পাই যথাক্রমে পূর্ব এবং পশ্চিম দিগন্তে। শুক্রের ক্ষেত্রে ঠিক উল্টোটা অর্থাৎ, গ্রহটি পূর্ব থেকে পশ্চিমে ঘোরে। তাই এখানে সূর্যোদয় হয় পশ্চিম দিগন্তে আর অস্ত পূর্ব দিগন্তে। সৌরজগতে একমাত্র এই গ্রহটিই নিজের অক্ষের চারপাশে পূর্ব থেকে পশ্চিম দিকে ঘোরে। কেন? এখনও জানা যায়নি। পৃথিবী নিজের অক্ষের চারপাশে বন বন করে ঘোরে। চব্বিশ ঘন্টায় একটা পাক দেয়। শুক্রের নিজের চারপাশে একটা পাক দিতে সময় লেগে যায় ২৪৩ দিনের মতো। এর কারণ গ্রহটি ২.৭° হেলানো অবস্থায় সূর্যের চারপাশে ঘোরে। এই কারণে শুক্রগ্রহের কোনো অঞ্চলে একবার সূর্যোদয় হওয়ার পর ১১৭ দিনের মাথায় পুনরায় সূর্যোদয় হয়। তাই বলা যায় শুক্রগ্রহে বছরে দু’বার সূর্যোদয় ও সূর্যাস্ত হয়। সূর্যকে একবার প্রদক্ষিণ করতে গ্রহটির সময় লাগে ২২৫ দিনের মতো। একটা মজার কথা বলি। শুক্রগ্রহ নিজের অক্ষের চারপাশে ধীর গতিতে ঘুরলেও এর উপরের বায়ুমণ্ডল বন্‌ বন্‌ করে ঘুরছে। প্রতি চারদিনে পূর্ব থেকে পশ্চিমে একবার পাক খাচ্ছে। কেন? সে রহস্য এখনও জানা যায়নি।

 মঙ্গলে সবুজঃ

bigganmahabishwe03 (Small)মঙ্গলগ্রহকে আমরা লাল গ্রহ বলেই চিনি। খালি চোখে একে একটু লালচে দেখায়। তবে শক্তিশালী দূরবীক্ষণের সাহায্যে দেখলে এর কিছু কিছু অঞ্চলে সবুজের রেখা দেখতে পাওয়া যায়। ঋতু পরিবর্তনের সাথে সাথে এই রঙ পাল্টাতে থাকে। শীতে কিছুটা ফ্যাকাসে হয়ে যায়। বসন্ত এলে আবার গাঢ় সবুজ রঙ ফিরে আসে। কিন্তু গরম পড়লেই রঙটা কালচে হয়ে যায়। গ্রীষ্মের শেষে হলদে বা ধূসর। এই ভাবে প্রতি বছরই চক্রাকারে ঐ বিশেষ এলাকার রঙের পরিবর্তন হতে থাকে। সবুজ রঙের রহস্য ব্যাখ্যায় বিজ্ঞানী মহলে তিন ধরনের মতবাদ আছেঃ-

১) ঐ অঞ্চলে জল আছে। তাতে আলোর প্রতিফলন ও প্রতিসরনের জন্য সবুজ রঙের সৃষ্টি   

২) শ্যাওলা বা লাইকেন জাতীয় উদ্ভিদ আছে। বসন্ত কালে সামান্য জল ও অক্সিজেন পেয়ে সজীব হয়ে ওঠে। তখন ঐ এলাকা গাঢ় সবুজ দেখায়।

৩) কোনোটাই নয়। সবটাই চোখের ভুল।

বৃহস্পতির লাল চোখঃ

bigganmahabishwe04 (Small)বুধ, শুক্র, পৃথিবী ও মঙ্গল- সৌরজগতের এই চারটি গ্রহ কঠিন বস্তু দিয়ে তৈরি। এর পর গ্রহাণুদের বিস্তীর্ণ এলাকা পেরিয়ে গেলে প্রথম যে গ্রহটির সঙ্গে দেখা হবে সেটা হল বৃহস্পতি। সৌরজগতের সবচেয়ে বড় গ্রহ। তবে এর কঠিন কেন্দ্রীয় অংশটি তুলনায় খুবই ছোট। বাকিটা সবই গ্যাসীয়। কেন্দ্র অঞ্চলটি ছোট হলেও এর ভর ও মাধ্যাকর্ষণ শক্তি পৃথিবীর তুলনায় অনেক গুণ বেশি। ফলে গ্রহটিতে হাইড্রোজেন ও হিলিয়ামের মত হাল্কা গ্যাস বাঁধা পড়ে আছে। গ্রহটির উপরিতল বলে কিছু নেই। উপরের গ্যাসীয় অংশ সর্বদাই অস্থির। যেন সর্বক্ষণ ঝড় বইছে। পূর্ব থেকে পশ্চিমে ধেয়ে চলা এই ঝড় কয়েক দশক থেকে কয়েক শতাব্দী পর্যন্ত এক নাগাড়ে হতে থাকে। গ্রহটিতে কোনো পাহাড়-পর্বত না থাকায় ঝড়ের কোনো দিক পরিবর্তন হয় না। এই অস্থিরতার দরুন গ্রহটির উপরিভাগের লক্ষণ ও চিহ্নগুলি অনবরত পাল্টাতে থাকে।

তবে কিছু কিছু চিহ্ন কখনই পালটায় না। এরকমই একটা চিহ্ন আছে বৃহস্পতির দক্ষিণ গোলার্ধে। প্রকান্ড আকারের এই লাল দাগটি  পৃথিবীর মানুষ গত একশ বছর ধরে একই জায়গায় দেখে আসছে। এটা কত বড় বোঝাতে গেলে বলতে হয় যে এর মধ্যে তিনটে পৃথিবী স্বচ্ছন্দে ঢুকে যেতে পারে। এই দাগটাকেই বলা হয় বৃহস্পতির লাল চোখ। এই বিরাট লাল চোখের উৎপত্তির কারণ ব্যাখ্যা করতে গিয়ে বিজ্ঞানীরা বলছেন, গত একশ বছরেরও বেশি সময় ধরে এখানে বয়ে চলেছে বিপরীতমুখী এক প্রলয়ঙ্কর ঘূর্ণি ঝড়। কবে থামবে জানা নেই। কারণ কোনো ঝড়কে দুর্বল করে দেবার মত ঘর্ষণবল গ্রহটিতে নেই। বৃহস্পতির চোখের রঙ মূলত লাল হলেও মাঝেমাঝে এই রঙের পরিবর্তন ঘটে- কখনো কখনো হাল্কা গোলাপি বর্ণ ধারণ করে। এই লাল রঙের কারণ এখনও রহস্যে ঘেরা।

 রহস্যে ঘেরা শনি

biggan06 (Small)সৌরজগতে যে কটা গ্রহকে পৃথিবী থেকে খালি চোখে দেখা যায় তাদের মধ্যে দূরতম গ্রহ হল শনি। আকৃতিগত বৈচিত্র্যের জন্য শনি প্রাচীনকাল থেকেই মানুষকে আকর্ষণ করে আসছে রহস্যে ঘেরা এই গ্রহটি সৌরজগতের দ্বিতীয় বৃহত্তম গ্রহ। যুগ যুগ ধরে একে ঘিরে মানুষের মনে রয়েছে নানা সংস্কার, কুসংস্কার ও ভীতি। পৃথিবী থেকে শনির দূরত্ব ১৬০ কোটি কিলোমিটার। গ্রহটি কত বড় জান? একটা দুটো নয়, প্রায় ৭০০ পৃথিবী এর পেটের মধ্যে ঢুকে যেতে পারে। এই বিরাট গ্রহটার ভর তাহলে বিশাল হওয়া উচিত? কিন্তু ঠিক উল্টো, পৃথিবীর ভরের মাত্র ৯৫ গুণ। তাই বিজ্ঞানীরা ঠাট্টা করে বলেন, যদি শনিকে ভাসিয়ে দেবার মত বিরাট একটা সমুদ্র পাওয়া যায়, তাহলে শনি তাতে ভাসতে থাকবে। শনির আকাশে পৃথিবীর মতই মেঘমন্ডল আছে। সেখানে আর আছে প্রচুর হাইড্রোজেন, তুলনায় কম হিলিয়াম, কিছু অ্যামোনিয়া এবং মিথেন।

     আর্য ঋষিরা এই বিশাল গ্রহটার নাম দিয়েছিলেন ‘শর্পৈশ্চর’। শর্পৈ শর্পৈ অর্থাৎ ধীরে ধীরে গমন করে বলেই গ্রহটির ওই নামকরণ করা হয়েছিল। এর গতিবেগ কত, শুনলে অবাক হয়ে যাবে। পৃথিবীর গতিবেগের তিন ভাগের এক ভাগ। শনি সূর্যকে ধীর গতিতে প্রদক্ষিণ করলেও নিজের অক্ষের চারপাশে ওই বিশাল বপু নিয়ে লাট্টুর মত ঘোরে। আমাদের যেখানে দিন-রাত্রি হয় ১২ ঘন্টা ব্যবধানে সেখানে শনির কোনো অঞ্চলের দিন-রাত্রি হয় মাত্র ৫ ঘন্টা ব্যবধানে। হিমশীতল(-১৮০ ডিগ্রি সেলসিয়াস) এই গ্রহে প্রাণের অস্তিত্ব একরকম অসম্ভব বলেই মনে করেন বিজ্ঞানীরা। মজার কথা হল এই যে গ্রহটি সূর্য থেকে যে পরিমাণ তাপশক্তি গ্রহণ করে তার প্রায় দ্বিগুণ পরিমাণ শক্তির বিকিরণ ঘটায়।

     শনির সবচেয়ে আকর্ষণীয় অংশ হল তার বলয়। পৃথিবী থেকে মাত্র তিনটে বলয় দেখতে পাওয়া যায়। ১৬৬৬ সালে ডাচ্‌ পদার্থবিজ্ঞানী ক্রিশ্চিয়ান হাইজেনস্‌(১৬২৯-১৬৯৫) প্রথম বুঝতে পারেন যে একটি বিশাল বলয় শনিকে ঘিরে রয়েছে। হাইজেনস্‌ একটি মাত্র বলয় দেখতে পেয়েছিলেন। এরপর উইলিয়াম হার্শেল আবিষ্কার করেন যে একটি নয়, শনির দুটি বলয় আছে। ইতালির জ্যোতির্বিজ্ঞানী গিয়ান ডোমিনিকো ক্যাসিনি(১৬২৫-১৭১২) বললেন যে এই বলয় দুটির মাঝখানে একটা ব্যবধান(gap) আছে। ক্যাসিনির নামানুসারে এই ব্যবধানকে বলা হয় ক্যাসিনি ডিভিসন। শনির তৃতীয় বলয়টি আবিষ্কার করেন জ্যোতির্বিজ্ঞানী বন্ড।

     ‘শনির তিনটি বলয়’-বিজ্ঞানীদের এই ধারণা উল্টেপাল্টে দিল ভয়েজার-১ মহাকাশযান। শনির কাছে গিয়ে উঁকি মেরে ক্যামেরায় ধরে ফেলল বলয়ের ছবি। তারপর সেই ছবি পাঠিয়ে দিল পৃথিবীর বিজ্ঞানীদের কাছে। ছবি দেখে বিজ্ঞানীরা অবাক। কোথায় শনির তিনটে বলয়? এ যে হাজারেরও বেশি। শুধু তাই নয়, বলয়গুলির মধ্যবর্তী যে অঞ্চলগুলি ফাঁকা বলে মনে হচ্ছিল, সেখানে রয়েছে একগুচ্ছ(৫০ টির মত) সরু সরু বলয়। সবকটি বলয়ই অমসৃণ এবড়োখেবড়ো কঠিন পদার্থ দিয়ে তৈরি।

     এখন প্রশ্ন হল, এই বলয়গুলি তৈরি হল কী ভাবে? কোনো উপগ্রহকে সুশৃঙ্খল ভাবে মহাকাশে বিচরণ করতে হলে তাকে গ্রহটি থেকে একটি নির্দিষ্ট দূরত্বের বাইরে থাকতে হবে। এই দূরত্বের পরিমাপ হল উপগ্রহটির আড়াই গুণ। এই দূরত্বের মাপকে ‘রখের সীমা’ (Roches limit) বলা হয়। কোনো কারণে উপগ্রহটি এই সীমা লঙ্ঘন করে যদি গ্রহটির দিকে এগিয়ে আসে তা হলেই দুম্‌ ফটাস্‌। বিশেষজ্ঞদের ধারণা শনির কোনো একটি উপগ্রহের এরকমই দশা হয়েছিল। শনির বলয় বলে যা আমরা এখন দেখতে পাই সেগুলি হতভাগ্য উপগ্রহটির দেহাবশেষ। উপগ্রহটা তো ভেঙে গেল। টুকরোগুলির কী হল? সেগুলি শনি এবং গ্রহটির অন্যান্য চাঁদের অভিকর্ষ বলে আটকে গিয়ে শনির চারপাশে উপবৃত্তাকার পথে অনন্তকাল ধরে ঘুরতে থাকল। শনি ছাড়াও বৃহস্পতি এবং ইউরেনাসেরও বলয়ের খোঁজ পাওয়া গেছে। তবে শনির মত এত সুন্দর বলয় সৌরজগতে আর কোনো গ্রহের নেই।

      অপরূপ বলয়গুলির জন্যই শনির এত শোভা। এগুলি উবে যাক নিশ্চয়ই আমরা চাইনা। কিন্তু মহাকাশযান ক্যাসিনির পাঠানো ছবিগুলি থেকে বিজ্ঞানীরা যে তথ্য পেয়েছেন তা বেশ উদ্বেগের। শনির বলয় নাকি ধীরে ধীরে উবে যাচ্ছে। আর বলয়কে ঘিরে গড়ে উঠছে জমাট বাঁধা অক্সিজেনের ভান্ডার।

শুয়ে শুয়ে পাক খায় নীলচে সবুজ গ্রহ ‘ইউরেনাস’-

 biggan07 (Small)    সৌরজগতের তৃতীয় বৃহত্তম গ্রহ ইউরেনাসও বৃহস্পতি ও শনির মত গ্যাসের গোলক। তাই এই গ্রহেরও উপরিতলে কোনো মানুষের পক্ষে দাঁড়ানো সম্ভব নয়। গ্রহটি খুব ধীর গতিতে সূর্যকে প্রদক্ষিণ করে। পৃথিবী যে গতিতে ঘোরে ইউরেনাস ঘোরে তার ১/৫ ভাগ গতিতে। আরও একটা মজার কথা হল গ্রহটির অক্ষ তার কক্ষতলের সঙ্গে প্রায় ৯৭.৮৬ ডিগ্রি হেলে আছে। অর্থাৎ বলা যায় ইউরেনাস যেন শুয়ে শুয়ে সূর্যকে প্রদক্ষিণ করছে। সৌরজগতের আর কোনো গ্রহের অক্ষ তার কক্ষতলের সঙ্গে এতটা হেলে নেই। এতটা হেলে থাকার ফলে একটা মজার ঘটনা ঘটে। পৃথিবীতে সূর্যকিরণ সবচেয়ে কম পড়ে দুই মেরু অঞ্চলে। ইউরেনাসে ঘটে ঠিক উল্টোটা। এখানে সূর্যকিরণের প্রায় সবটুকুই পড়ে দুই মেরু অঞ্চলে। নিরক্ষীয় অঞ্চলে পড়ে সামান্য। তাই এখানে দিন রাত হয় মূলত মেরু অঞ্চলে। উত্তর মেরুতে দিন শুরু হলে তা চলে টানা ২১ বছর ধরে। তখন দক্ষিণ মেরুতে ঐ একই সময় ধরে চলে রাত। এর পরে সেটা ঘুরে যায়। অর্থাৎ দক্ষিণ মেরুতে দিন এবং উত্তর মেরুতে রাত- ঐ ২১ বছর ধরে। পৃথিবী থেকে ইউরেনাসের নিরক্ষীয় অঞ্চলটি নিয়মিতভাবে দেখা গেলেও মেরু অঞ্চল দুটি পর্যায়ক্রমে দেখা যায় ৪২ বছর অন্তর।

 নেপচুনে কালো চোখঃ

 সৌরজগতের চতুর্থ বৃহত্তম গ্রহ নেপচুন ইউরেনাসের থেকে সামান্য ছোট। পুরো গ্রহটাই বরফে ঢাকা। তাই একে বলা হয় বরফের দৈত্য (ice giant)। এখানে সূর্যের আলো পৌঁছায় না বললেই চলে। তাই গ্রহটি অন্ধকারে মিলেমিশে আছে। নেপচুনের দক্ষিণ গোলার্ধে বৃহস্পতির মত একটি বিশাল আকারের চোখ রয়েছে। তবে এটার রঙ লাল নয়, কালো। বৃহস্পতির লাল চোখের আয়তন গ্রহটির আয়তনের সঙ্গে যে অনুপাতে আছে নেপচুনের কালো দাগের আয়তনও গ্রহটির আয়তনের সঙ্গে প্রায় সেই একই অনুপাতে আছে। এটা একটা উচ্চ-চাপযুক্ত এলাকা এবং ঘড়ির কাঁটার বিপরীত দিকে ঘুরছে।

1 thought on “বৈজ্ঞানিকের দপ্তর-মহাবিশ্বে মহাকাশে-গ্রহে গ্রহে নানা বিস্ময়– কমলবিকাশ বন্দ্যোপাধ্যায়”

Leave a Reply