বৈজ্ঞানিকের দপ্তর-লক্ষ করি পক্ষীকে-প্যাঁচা কয় প্যাঁচানি, খাসা তোর চ্যাঁচানি- মনস্বিনী ঘোষাল

bigganjeebjogot01 (Small)কাক, শালিক, পায়রা, চড়াই…… এই পাখিগুলি ছাড়া কলকাতা শহরের আশেপাশে আর কোন পাখি সেভাবে কোনদিন চোখেই পড়েনি কিংবা চোখে পড়লেও মনে রাখিনি।

তখন পড়তাম ক্লাস টেনে। ঘুম থেকে উঠে ঘুমের রেশ মাখা ঢুলু ঢুলু চোখে দাঁত মাজতে গেলাম। মুখে ব্রাশ নিয়েই বারান্দায় বেরিয়ে এলাম, জানালার বাইরে থেকে আসা কাকেদের কা কা আর তাদের কাঁই-কিঁচির শুনে। দেখি একদল কাক ভিড় করে “কা-কা” করে চলেছে, সামনের বাড়ির জানলার কার্নিশে বসে। পাশ থেকে আসা একটা ‘খ্যাস খ্যাস’ শব্দে তাকিয়ে দেখতেই বুঝতে পারলাম কাকগুলোর উত্তেজনার কারণ। একটি প্যাঁচা!

প্রথমবার দেখলেও চিনতে অসুবিধে হয়নি। কলকাতা শহরে তার আগে পাখিটির দেখা না মিললেও ছোটবেলার রঙিন বইয়ে এবং মা লক্ষ্মীর বাহন রূপে পাখিটি বেশ পরিচিত।

মাকে ডেকে দেখাতে মা বললেন,”পেঁচা রাতের পাখি। বেচারা কোন কারণে রাতের মধ্যে বাসায় ফিরতে পারেনি, তাই বিপাকে পড়ে গেছে। দিনের বেলা পেঁচা ভালো দেখতে পায় না। কাকেরা এখন জোট বেঁধে ওকে বিরক্ত করবে।” আমি ভয় পেয়ে বললাম, “তাহলে কী হবে, কাকেরা ওকে ঠুকরে দেবে?”

মা বললেন,”না,না,অতটা সাহস করবে না,কারণ পেঁচার নখের আর ঠোঁটের শক্তির খবর কাকেদের জানা। পেঁচাটা এইখানেই হয়তো সারাদিন চুপটি করে বসে থাকবে,তারপর সন্ধে হলে উড়ে যাবে অন্য কোথাও।”

কলকাতায় রোজ দেখা পাখিগুলোর বাইরে এই প্রথম একটি অন্যরকম পাখি দেখলাম এবং সেই থেকেই একটু-একটু আগ্রহ শুরু হল পাখি-দেখার এবং পাখি-চেনার। ওইদিন ওই পাখি এবং তার ছবি থেকেই আমার Bird watching(পাখি-দেখার শখ)-এর ক্যামেরাখড়ি। ইংরেজিতে এই পাখির নাম Barn Owl, বাংলায় ‘লক্ষ্মী প্যাঁচা’।

ফটোগ্রাফিঃ লেখক

1 thought on “বৈজ্ঞানিকের দপ্তর-লক্ষ করি পক্ষীকে-প্যাঁচা কয় প্যাঁচানি, খাসা তোর চ্যাঁচানি- মনস্বিনী ঘোষাল

Leave a Reply