ভূতের আড্ডা-ভূতুড়ে বাড়ি-টেরা ভেরা

bhooterasddateravera (Small)বাড়িটাকে ভেঙে ফেলা হয়েছে গতবছর, মানে ২০১৪ সালে, কিন্তু তাকে নিয়ে গল্পের শেষ নেই। ১৯৩৪ সনে বেঙ্গালুরুর সেইন্ট মার্কস রোডে বাড়িটা বানিয়েছিলেন বম্বে হাইকোর্টের এক নামজাদা উকিল ই জে ভাজ। মৃত্যুর সময় তিনি বাড়ি দিয়ে যান তাঁর দুই অবিবাহিতা মেয়ে ডোলসে আর ভেরাকে। ভেরা ইংরিজির শিক্ষিকা ছিলেন। ডোলসে ছিলেন পিয়ানোর দিদিমণি।

 এ বাড়ির ভূতকাহিনীর শুরু  ৪ সেপ্টেম্বর ২০০২ সালের ভোররাতে। সেদিন এ বাড়িতে, বোন ভেরার চোখের সামনে ৭৫ বছরের বৃদ্ধা ডোলসে ভাজ নিষ্ঠুরভাবে খুন হন। খুনীর কোন সন্ধান মেলে নি। ডোলসেকে সে বাড়ির উঠোনেই কবর দেয়া হয়।বাড়ি ছেড়ে চলে যান ডোলসের দিদি ভেরা ভাজ। কোথায় গেছেন তিনি কেউ সঠিক জানে না। কেউ কেউ বলে ভেরা এখন অস্ট্রেলিয়ায় আছেন।

তারপর থেকে সে বাড়িতে আর কোন জনমনুষ্যের গতায়াত ছিল না। দরজা জানালা তার চোরে খুলে নিয়ে গেছে। ভেতরে ঝোপঝারজঙ্গল। গাড়িবারান্দায় একটা প্রাচীন হিলম্যান মিংক্স গাড়ি দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে জং ধরছিল শুধু। ভেতরে খাঁ খাঁ করত কিছু পুরোনো আসবাব আর ডোলসের পিয়ানোটা।

সে বাড়ির সামনে দিয়ে লোকজন দ্রুতপায়ে চলে যেতেন। ওখানে দাঁড়ালেও অশুভ নজর পড়ত নাকি তাঁদের ওপর। রাতে ভেতর থেকে কখনো কখনো ভেসে আসত পিয়ানোর বিষণ্ণ সুর। কখনো কখনো জানালায় দেখা যেত এক বৃদ্ধার বিষণ্ণ মুখটি।

ভূতগবেষকরা অনেকেই ও বাড়িতে রাতের বেলা গিয়েছেন। ফলও পাওয়া গেছে নাকি হাতেনাতে। সেখানে নাকি দানবীয় জাদুর লক্ষণ ছিল। উল্টোনো ক্রুশ, হাত ও মাথা ভাঙা যিশু ও মা মেরির মূর্তি দেখেছেন তাঁরা সেখানে। চারপাশে অদ্ভুত ব্যাখ্যাহীন সব হাড়জমানো শব্দ উঠেছে। প্রত্যেকের শুধু বারবার মনে হয়েছে কেউ যেন শীতল চোখে তাঁদের চলাফেরার ওপর নজর রাখছেন।

একবার এক চোর বলেছিল, সে নাকি এইখানে রাতের বেলা এসে ঢুকতে হাত পায়ে পোড়া ফোসকা পড়ে গেছিল তার। নিজেনিজেই। কেমন করে তা হল তা কেউ জানে না।

বেচারি ডোলসে। তার একেবারে ছোটো বোনটা সম্পত্তির লোভে তাদের দুই বোনকে জীবন্ত অবস্থায় অনেক জ্বালিয়েছে। তারপর দিদির চোখের সামনে খুন হয়েছে সে। তারপর, ভূত হয়েও যে নিজের বাড়িতে একটু শান্তিতে থাকবে তার জো-ও কি আর রেখেছে বাড়ি বানাবার ব্যবসায়ীরা? গতবছর বড়ো বড়ো যন্ত্র এনে বাড়িটাকে ঘা মেরে মেরে মাটিতে লুটিয়ে ধুলোয় মিশিয়ে দিল তারা। সুন্দর সেই বাড়ির জায়গায় এইবার হয়ত একটা ঝাঁ চকচক শপিং মল তৈরি হবে।  হয়ত কখনো গভীর রাতে তার ফাঁকা দোকানঘরগুলো পরিষ্কার করতে করতে কোন সাফাইকর্মীর চোখে পড়বে দুটো বিষণ্ণ চোখ—কে জানে-

1 thought on “ভূতের আড্ডা-ভূতুড়ে বাড়ি-টেরা ভেরা”

Leave a Reply