বর্ষার শুরুতে চলে এল নতুন জয়ঢাক। জুন মাসটা বেশ কিছু কারণে উল্লেখযোগ্য। তার কয়েকটা কথা এই সুযোগে বলে নেয়া যাক।
প্রত্যেক বছর জুন মাসের শেষের দিকে ইংল্যান্ডে শুরু হয় টেনিস খেলার সবচেয়ে পুরোনো, সবচেয়ে সম্মানিত টুর্নামেন্ট উইম্বলডন। ১৮৭৭ সাল থেকে শুরু করে এই জুনে ১৪০ বছরে পা দেবে এই টুর্নামেন্ট। অল ইংল্যান্ড ক্রোকেট অ্যান্ড টেনিস ক্লাবের শুরু করা এ টুর্নামেন্টে প্রথমে হত শুধু ছেলেদের সিঙ্গল্স্ চ্যাম্পিয়নশিপ। সাহেবরা তখনও মেয়েদের এমন খেলাধুলোকে বেশি স্বীকৃতি দিত না। দিন বদলেছে তার পর। আজ এ টুর্নামেন্টে ছেলেদের ও মেয়েদের সিঙ্গল, ডাব্ল্ এবং মিশ্র ডাবল্ এর প্রতিযোগিতা হয়। ১৪০তম বছরে সে টুর্নামেন্টের শুরুর আগে জয়ঢাকের শুভেচ্ছা। শুরু হচ্ছে ছাব্বিশ জুন, সে খেলা দেখতে ভুলো না তোমরা।
জুনের চব্বিশ তারিখটা খুব ইন্টারস্টিং। ও দিনটা বিশ্ব ‘অউব’ দিবস হিসেবে পালন করা হয়। অউব মানে হল অজানা উড়ন্ত বস্তু। ১৯৪৭ সালের চব্বিশ জুন তারিখে ওয়াশিংটনের রেনিয়ার পাহাড়ের কাছে এরোপ্লেন চালাতে চালাতে কেনেথ আর্নল্ড নামে এক বিমানচালক একসঙ্গে নটা চাকতিকে আকাশে ভাসতে দেখেন। জিনিসগুলো মধ্যে একটা ছিল চাঁদের কলার মত, সামনের দিকে উত্তল, পেছনদিকে অবতল। অন্যগুলো পাতলা চাকতির মত দেখতে। আর্নল্ড জানান, জলের বুকে একটা পাতলা প্লেট বা সসার সসার ছুঁড়ে মারলে তা যেমন এলোমেলো ব্যাংবাজি খেয়ে ঘোরে ঠিক তেমন করে আকাশে ঘুরছিল জিনিসগুলো। এই সসার শব্দটা খবরের কাগজওয়ালাদের মনোমত হয়। তাঁরা এই অজানা উড়ন্ত বস্তু(অউব বা UFO)দের নাম দেন ফ্লাইং সসার। খবরটা দুনিয়াজোড়া বেশ একটা সাড়া জাগিয়েছিল। আর্নল্ডও বেশ একটু নামডাক পেয়ে যান। ওর পর থেকেই দুনিয়াজোড়া UFO খোঁজবার ফ্যাশান শুরু হয়। আর্নল্ডের সেই নয় চাকতি দেখবার দিনটা এখন বিশ্বজুড়ে অউব দিবস। তা চব্বিশ তারিখ একটু আকাশের দিকে খেয়াল রেখ। বলা যায় না আউব দিবসেই হয়ত তোমারও চোখে পড়ে গেল কোন ভিনগ্রহী অতিথির যানটা। অউব দেখবার ভুরিভুরি ঘটনা আছে এর পর থেকে।
তাদের মধ্যে বেশির ভাগই মিথ্যে প্রমাণিত হলেও দুই একটা ঘটনবার এখনো ব্যাখ্যা সত্যিই মেলেনি। যেমন ধরো ১৯৫০ এ কানাডায় ঘটে যাওয়া এই ঘটনাটা। ইভলিন ট্রেন্ট নামে এক মহিলা তাঁর খরগোশদের খাওয়াচ্ছিলেন। হঠাৎ আকাশে চোখ যেতে তিনি অবাক। সেখানে সন্ধের বাতাসে একটা ধাতুর চাকতি দিব্যি ভেসে আছে। তাড়াতাড়ি স্বামীকে ডাক দিলেন ইভলিন। ভদ্রলোক বেরিয়ে এসে তাই দেখে ক্যামেরায় গুটি দুই ছবি তুলতে না তুলতেই হঠাৎ উধাও হল চাকতি। ইভলিনরা এ নিয়ে বিশেষ প্রচার চাননি। তবু লোকজন জেনে যায় ঠিকই। তাঁদের ছবিগুলো নিয়ে এরপর অনেক পরীক্ষাটরীক্ষা হলেও এখনো কিন্তু তাতে কোন জুয়াচুরির প্রমাণ মেলেনি। সঙ্গে সে ছবি রইল।
আরেকটা দুঃখের ঘটনার ঘটেছিল এই জুন মাসেই। ১৮৫৮ সালের এই জুন মাসে গোয়ালিয়রের যুদ্ধক্ষেত্রে আহত এক যোদ্ধাকে কারবাইনের গুলি চালিয়ে হত্যা করেছিল এক ইংরেজ সেনা। ঘোড়সওয়ার সৈনিকের পোশাকে সাজা সেই বীর মেয়েটির নাম ছিল লক্ষ্মীবাঈ। এর তিনদিন পরে সেই যুদ্ধের সমাপ্তির সঙ্গে সঙ্গে শেষ হয়েছিল ইংরেজদের বিরুদ্ধে ভারতের মহাবিদ্রোহ। এদেশ ডুবে গিয়েছিল পরধীনতার অন্ধকারে। সে অন্ধকারের বুকে উজ্জ্বল হয়ে জেগে থাকে অজস্র মানুষের আত্মদানের ছবি। তার মধ্যে অন্যতম উজ্জ্বল ছবি রানি লক্ষ্মীবাঈকে প্রণাম জানায় জুনের জয়ঢাক।
ভালো থেকো তোমরা এই বর্ষায়।
ভালোবাসায়,
তোমাদের জয়ঢাকি দাদাদিদিরা