
আমাদের দেশের উত্তরে হিমালয়। তার ভুবনমোহন রূপ। দক্ষিণে তার রয়েছে শিবালিক শৈলশ্রেণী। এই শিবালিকের বুকে বরফ-গলা নদী আর বর্ষার জলে পুষ্ট এক চিরসবুজের দেশ আছে, যার নাম তরাই। নীচু শৈলশিরা, উচুঁনীচু কাঁকরভরা জমি, গহীন জঙ্গল, বিপুল জীববৈচিত্র্য, হাজারো জলধারা… তাদের সৌন্দর্যও তুলনাহীন।
তরাই জুড়ে ভারতের অনেক বিখ্যাত সংরক্ষিত বনাঞ্চল রয়েছে। এর মধ্যে পূর্ব ভারতে আসাম-ভুটান সীমান্তে রয়েছে মানস অভয়ারণ্য। কিছুদিন আগে এই মানসকে দেখার সৌভাগ্য হয়েছিল আমার।
অনেকদিন আগে ‘যারা পরিযায়ী’ পত্রিকায় মানসের ওপরে একটা ভারি মায়াময় লেখা পড়েছিলাম। মানস আসলে কোনো এক মানুষের মানস-কন্যা, সে কথা মনে ছিল। অনেকবার তাই মানস দেখবার ইচ্ছে হয়েছিল, সুযোগ ঘটেনি।
গত শীতের শেষে হাজির হয়েছিলাম সেখানে। মাত্র দুদিনের সফর, ভ্রাতৃপ্রতিম রত্নজিতের সঙ্গী হয়ে। সে প্রকৃতিপ্রেমিক মানুষ, আবার নামী পক্ষী-চিত্রগ্রাহকও বটে।
গৌহাটি থেকে রত্নজিত তার নিজের গাড়িতে করে আমাকে নিয়ে গিয়েছিল। সে বারোমাস বনেবাদারে ঘুরে বেড়ায়, তাই তার গাড়িতে কম্বল থেকে রুম হিটার, আয়ুর্বেদিক ওষুধ থেকে শুকনো খাবার সবই মজুত থাকে। খুব যত্ন করে মানস অভয়ারণ্য দেখিয়েছিল সে আমাকে।
যেদিন গিয়েছিলাম, তার পরদিন পৌষ সংক্রান্তি, অসমিয়াদের ভোগালি বিহু, চারদিকে উৎসবের আমেজ। দোকানে দোকানে পিঠে বিক্রি হচ্ছে, নাচ গানের সুর শোনা যাচ্ছে এখান-সেখান থেকে।
মানসে গিয়ে আমরা জঙ্গলের বাইরে বনদপ্তরের গেস্ট হাউজে উঠেছিলাম। চারদিকে অনেক গ্রাম, উল্টোদিকে চা বাগান। বনের বাইরে নতুন নতুন বেশ কয়েকটা হোটেল আর রিসর্ট হয়েছে। দোকানপাট তো আছেই। রাতবিরেতে বড়ো রাস্তায় আলো জ্বলে, গাড়ি, সাইকেল, বাইকও চলে…আবার বনের সীমানায় কাঁটাতারের ফাঁকফোকর দিয়ে মাঝেমধ্যে বনের জন্তুজানোয়ারেরাও মানুষের বসতি এলাকায় চলে আসে।
ভারতের অনেক অভয়ারণ্য দেখার সৌভাগ্য হয়েছে, সবাই সুন্দর, সবাই অনন্য! রাতে পেট্রলপার্টির সঙ্গে ঘুরে বেরিয়েছি, মাওবাদী এলাকায় গভীর জঙ্গলে হাতির চলার পথ ধরে গিয়েছি, মধ্যভারতের গুরুগম্ভীর শৈলশ্রেণীর মধ্যে ভোর হওয়া দেখেছি…কিন্তু মানস অভয়ারণ্য তার সবকিছু মিশিয়ে আমাকে কেমন যেন অভিভূত করে দিয়েছিল। দূরে নীল পাহাড়, তলায় সবুজের নানা শেড, পাথরের বিছানা দিয়ে এঁকেবেঁকে চলেছে মানস ও বেকি নদী, পলিসমৃদ্ধ তৃণভূমি, অজস্র ধরণের ক্রান্তীয় চিরহরিৎ ও পর্ণমোচী গাছ, গাছে ঢাকা অন্ধকার বন, জলাভূমি, অজস্র পাখি, বড়ো ও ছোটো জন্তুজানোয়ার, সরীসৃপ ও পতঙ্গ…প্রকৃতির বিশাল ব্যাপ্তি চরাচর জুড়ে। স্বর্গ কি এরকম সুন্দর?
মানস অভয়ারণ্য সম্বন্ধে কিছু কথা
মানস ন্যাশনাল পার্ক বা মানস জাতীয় উদ্যান ইউনেস্কো স্বীকৃত একটি ঐতিহ্যবাহী প্রাকৃতিক ক্ষেত্র; একই সঙ্গে ব্যাঘ্র প্রকল্প সংরক্ষিত বনাঞ্চল, হাতি প্রকল্প সংরক্ষিত বনাঞ্চল তথা বায়োস্ফিয়ার রিজার্ভ। আসামের বরপেটা জেলার উত্তরদিকে ভুটান পাহাড়ের পাদদেশে, গৌহাটি থেকে ১৭৬ কিলোমিটার দূরে মানস অভয়ারণ্যের অবস্থান। মোট এলাকা ৩৯১০০ হেক্টেয়ার। এর উত্তরে রয়েছে ভূটানের রয়াল মানস ন্যাশনাল পার্ক।
মানসের প্রাকৃতিক শোভা তুলনাহীন, বিপন্ন প্রাণীসহ এর বিপুল জীববৈচিত্র্য ও সেইসব প্রাণীদের সহাবস্থান নজর কাড়ার মত। মানস ও বেকি নদী মানসের প্রাণভোমরা। এই নদীরা গিয়ে মিশেছে ব্রহ্মপুত্র নদীতে। বর্ষায় নদীতে বন্যা হয়, কিন্তু পাহাড়ের ঢাল থাকার জন্য জল আটকে থেকে উদ্ভিদ ও জীবকুলকে বিপন্ন করে না, জল নেমে যায়। জলবায়ু, বৃষ্টিপাত, মাটির বৈশিষ্ট্য, জমির ঢাল সব মিলিয়ে মানসে একটা দারুণ প্রাকৃতিক পরিবেশ তৈরি করে, যা ক্রমাগত সঞ্জিবনী জুটিয়ে যায়; পরিপুষ্ট থাকে উদ্ভিদ জগত, যার ওপরে নির্ভর করে বেঁচে থাকে এখানের বিচিত্র জীবকূল।
মানসে মোটামুটি ৬০ ধরণের স্তন্যপায়ী প্রাণী আছে, তার মধ্যে ২২ টি বিপন্ন প্রজাতির। পিগমি হগ, হিসপিড খরগোশ, গোল্ডেন লঙ্গুর এবং বেঙ্গল ফ্লোরিক্যান এর মতন বিচিত্র প্রাণী মানসের সম্পদ।
এছাড়া মানসে আছে ৪২ প্রজাতির সরীসৃপ, ৭ ধরণের উভচর, ৫০০-র বেশি প্রজাতির পাখি। ৮৯ জাতের গাছ, ৪৯ জাতের ঝোপঝাড়, ৩৭ জাতের মাটি-সংলগ্ন ঝোপঝাড়, ১৭২ ধরণের ভেষজ, ৩৬ ধরণের লতা, ১৫ জাতের অর্কিড, ১৮ জাতের ফার্ন ও ৪৩ প্রজাতির ঘাস আছে। বোঝাই যাচ্ছে যে এই অভয়ারণ্যের বন্যপ্রাণ ও বনসম্পদ কীরকম সমৃদ্ধ! ইউনেস্কোর বিশেষ স্বীকৃতি ছাড়াও মানসের মুকুটে আছে ছ’ ছ’খানা আন্তর্জাতিক সন্মান। তাছাড়া এই বৈভবশালী বনাঞ্চল অজস্র বনসংক্রান্ত আইন দ্বারা সুরক্ষিত রয়েছে।

উত্তর-পূর্ব ভারতের এহেন এক অনামা বনাঞ্চলের আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি পেয়ে দুনিয়া-বিখ্যাত টাইগার রিজার্ভ হবার পেছনে এক অনন্য মানুষের শ্রম, মেধা ও অনড় প্রচেষ্টার কাহিনি আছে। তাঁর নাম সঞ্জয় দেবরায়।
মানসের পিতা সঞ্জয় দেবরায় (১৯৩৪-১৯৯৯)
আসামের গৌরীপুরে বাল্যকাল কাটানো এই বিরল বঙ্গসন্তান ১৯৫৬ সালে ভারতীয় বন সেবায় (ইন্ডিয়ান ফরেস্ট সার্ভিস) যোগ দেন। সেযুগে অনেকেই ফরেস্ট সার্ভিসে চাকরি নিতেন বন্দুক দিয়ে বন্যপ্রাণী দমনের জন্য। আসলে সেইসময়ে সংরক্ষণ সম্পর্কে সবাই এত সচেতন ছিলেন না। তাঁদের মধ্যে অনেকেই কালে কালে বদলে গিয়ে হয়ে গেছিলেন প্রকৃতিপ্রেমিক, বন্যপ্রাণ-সেবী এবং সংরক্ষক। এরকম একজন কিংবদন্তীর বন সংরক্ষক ছিলেন সঞ্জয় দেবরায়।
সৎ, অকুতোভয়, আত্মমর্যাদাপূর্ণ ও বনের প্রতি সম্পুর্ণভাবে নিবেদিত মানুষটির বন ও বনাঞ্চল সম্পর্কে অসাধারণ জ্ঞান ও অভিজ্ঞতা ছিল। সোজাসুজি কথা বলতেন, কোনো অন্যায়ের সঙ্গে কখনো আপোষ করেননি, রাজনৈতিক ও অসাধু ব্যবসায়িক স্বার্থের বিরুদ্ধে সরাসরি সংঘর্ষে যেতে কখনো দ্বিধা করেননি। আবার একই মানুষ ব্যক্তিগত জীবনে ছিলেন সাদাসিধা, গ্রামবাসী থেকে নীচুতলার বনকর্মীর সঙ্গে ছিল বন্ধুত্ব, সবার সঙ্গে সমানভাবে মিশতে পারতেন।
সঞ্জয় দেবরায়কে পুরানোপন্থী ফরেস্টার বলা হয়। জঙ্গলের মধ্যে পায়ে হেঁটে হেঁটে হাতে বন্দুক নিয়ে পেট্রলে বেরোতেন।
কাজিরাঙাসহ আসামের অন্যান্য বনাঞ্চলে কাজ করে তিনি মানসে আসেন সম্ভবত সত্তরের দশকে। মানস ছিল তাঁর মানস-কন্যা। প্রায় ১৮ বছর তাঁর যত্নে ও পরিশ্রমে মানস অভয়ারণ্য এক উন্নতমানের বনাঞ্চল হয়ে ওঠে। একসময়ে প্রায় বিলুপ্ত হয়ে যাওয়া পিগমি হগদের চিহ্নিত করা ও উদ্ধার করার জন্য এক বিশিষ্ট গ্রাসল্যান্ড ম্যানেজমেন্ট শুরু করেন, যা তাদের সুস্থভাবে সংখ্যা বাড়াতে সাহায্য করেছিল। হাতি-গণনার এক বিশেষ পদ্ধতি চালু করেছিলেন, যা পরে প্রজেক্ট-এলিফ্যান্টের পরিকল্পনা কাজে সহায়ক হয়েছিল। তাঁর নিজস্ব মতামত ছিল গ্যাপ ম্যানেজমেন্টের। আশির দশক ছিল মানসের স্বর্ণযুগ, সেসময়ে যারা মানসে ঘুরতে গেছেন, তারা দেখেছেন সঞ্জয় দেবরায়ের কর্মকান্ড, দেখেছেন গাছপালা, জলধারা, বিস্তীর্ণ ঘাসের প্রান্তর আর অজস্র বন্যপ্রাণী-সমৃদ্ধ এক অসামান্য অভয়ারণ্য। অবশেষে তাঁর প্রায় একক প্রচেষ্টায় মানস ইউনেস্কো থেকে ওয়ার্ল্ড হেরিটেজ সাইটের তকমা পায়।
আমি ব্যক্তিগতভাবে সঞ্জয় দেবরায়ের এক অনুরাগী; কিন্তু আমার আশা, তাঁর মতন মানুষকে নিয়ে যথেষ্ট গবেষণা করা করবেন কেউ, তাঁর কাজ ও অবদান নিয়ে কাজ করবেন ও আমরা আলোকপ্রাপ্ত হব।
তাঁর কিছু মতামত শোনাই-
চোরাশিকারিদের প্রতি তাঁর বক্তব্য ছিল সোজা- “আমার জঙ্গলে ঢুকলে হয় তুমি মরবে, নইলে আমি মরব।” তাঁকে চোরাশিকারিরা যমের মতন ভয় পেত, তাঁর প্রচেষ্টায় চোরাশিকার বন্ধ হয়ে গিয়েছিল মানসে।
“যদি বনে বাঘ কমে যায় তো বুঝতে হবে যে তার খাদ্য কমেছে। তখন বাঘের খাদ্যশৃংখলকে প্রাকৃতিকভাবে মজবুত করতে হবে।”
“উন্নয়নের নামে স্থানীয় বাসিন্দাদের নিজস্ব জীবনধারা ও সমাজ সংস্কৃতি যেন বিঘ্নিত না হয়।”
“অবিরাম মনিটরিং করে যেতে হবে।”
মানসে সঞ্জয় দেবরায়ের সাফল্যের আরেকটি প্রধান কারণ ছিল ফিল্ড স্টাফদের আর্থ সামাজিক অবস্থার উন্নতিসাধন, স্থানীয় মানুষের সঙ্গে সরাসরি কথা বলা ও তাদের সমর্থন পাওয়া… তার ফলে মানুষ ও জন্তুর মধ্যে সংঘর্ষ অনেক কমে যায় ও চোরাশিকার প্রায় বন্ধ হয়ে যায়।
তিনি পরবর্তীকালে দিল্লিতে অনেক গুরুত্বপূর্ণ পদে ও কমিটিতে কাজ করেছেন, পুরস্কারের জন্য দুর্বলতা না থাকা সত্ত্বেও অনেক পুরস্কার পেয়েছেন। তার মধ্যে নর্মান বোরলগ পুরস্কার(১৯৮৮) অন্যতম। পুরস্কার প্রদানকালে তাঁর সম্পর্কে বলা হয়েছিল, “his work focussed much needed recognition of the ultimate linkage between ecological security and food security….His passionate devotion to the cause of protection of flora and fauna…the whole range of techniques to preserve and protect wildlife.”
১৯৯২ সালে সঞ্জয় দেবরায় অবসর নেন; কিন্তু তাঁর নানাবিধ কর্মকান্ড থেমে যায়নি। ১৯৯৯ সালে এই মানুষটি ভগ্ন হৃদয়ে মারা যান…তার কারণও তাঁর মানস-কন্যা। সে কথায় পরে আসছি।
বোরো আন্দোলন ও মানসের দুর্দশা:
আশির দশকে্র শেষভাগে আসামের বোরো আদিবাসী অধ্যুষিত অঞ্চলে শুরু হয়েছিল বোরো আন্দোলন। ধীরে ধীরে তা সহিংস ও উগ্র হয়ে উঠেছিল। তার সরাসরি কোপ পড়েছিল মানস টাইগার রিজার্ভ আর তার গাছপালা ও নিরীহ প্রাণীকুলের ওপরে। কয়েক বছরের মধ্যেই তছনছ হয়ে গিয়েছিল সঞ্জয় দেবরায় আর অজস্র বনকর্মীর সযত্নে বানানো মানসের প্রকৃতি। কী না ছিল সেই হত্যালীলায়? নির্বিচারে গাছপালা কাটা, ছ’জন ফরেস্ট স্টাফ খুন, কুনকি হাতি আর অজস্র বুনো হাতি খুন, তিরিশটি ফরেস্ট চৌকি ধ্বংস, ছোটবড় অনেক প্রাণী হত্যা, নির্বিচারে চোরাশিকার আর একশোর বেশি গন্ডার হত্যা। মানসের বিশেষ ধরণের গন্ডার নিঃশেষ হয়ে গিয়েছিল। মানস অভয়ারণ্য বন্ধ হয়ে গিয়েছিল সুদীর্ঘ প্রায় কয়েক দশক। বোরো উগ্রপন্থী সন্ত্রাস যখন তুঙ্গে, এরকম এক সময়ে ‘মানসের আত্মা’ সঞ্জয় দেবরায়ের প্রয়াণ ঘটে। অসহায়ভাবে তিনি তাঁর মানসকন্যার চরম দুর্দশার দৃশ্য দেখেছিলেন, কিন্তু তাঁর তখন করার কিছু ছিল না। মৃত্যুশয্যায় তাঁকে বেকি নদীর জল পান করানো হয়েছিল।
মানসের পুনর্জাগরণ
২০০৩ সালে বোরো আন্দোলনকারীদের সঙ্গে সরকারের শান্তিচুক্তি হয়। বোরোল্যান্ড টেরিটরিয়াল কাউন্সিল গঠিত হয়। এলাকায় ধীরে ধীরে শান্তি ফিরে আসে। কিন্তু মানসের তখন তো নাভিশ্বাস উঠেছে। রাজনীতির ডামাডোলে তার কথা তখন কে ভাবে?
কিন্তু আশ্চর্যভাবে বোরো জঙ্গীদের এক নেতা ও তার অনুগামীরা মানসের কথা ভেবেছিল। সেই নেতার নাম কাম্পা বরগায়ানি। তিনি হয়েছিলেন কাউন্সিলের পরিবেশ ও বনদপ্তরের ভারপ্রাপ্ত মন্ত্রী। মূলত তাঁর চেষ্টাতে ও অন্যান্যদের সহযোগিতায় মানস টাইগার রিজার্ভ ফের বেঁচে ওঠে, অনেক পোচারকে বনরক্ষার জন্য ফরেস্টগার্ড হিসাবে নিযুক্ত করা হয়, বন ও বন্যপ্রাণী সুরক্ষার জন্য অনেককিছু ব্যবস্থা নেয়া হয়। ২০০৬ সালে নতুন করে গণ্ডার ছাড়া হয়, তাছাড়া নতুন করে পরিকল্পিত যত্ন নেবার ফলে মানসের প্রকৃতি প্রায় আগের অবস্থায় ফিরে আসে। ফিরে আসে পর্যটকের দল। স্থানীয় মানুষেরা অবশেষে উপলব্ধি করে যে তাদের বন ভালো থাকলে তারাও ভালো থাকবে, তাদের জীবিকা থাকবে, তাদের সন্ততিও ভালো থাকবে।
আমি যা দেখলাম:
আমি মুগ্ধচোখে দেখলাম সবুজ ও অজস্র রঙের গাছপালা, ঘাসের প্রান্তর আর জলা। দেখলাম অনেক পাখি; রত্নজিতের ক্যামেরায় তাদের অপরূপ চেহারা স্পষ্টভাবে ধরা দিল। আগেও বনভ্রমণে গিয়ে পাখি দেখেছি, কিন্তু এবারে পক্ষীবিশারদ ফোটোগ্রাফার সঙ্গে থাকায় আমি বনের পাখিদের যেন নতুন করে দেখলাম। মানস তো পাখিদের স্বর্গরাজ্য! দেখলাম হাতি, গন্ডার, পিগমি হগ, বাইসন, বুনোমোষ, হরিণ, গোল্ডেন লঙ্গুর… এসবের আর বর্ণনা দিচ্ছি না। অবশ্য বনের রাজা বাঘমশাই দেখা দেননি।
দু’দফায় জিপে করে বনের শোভা দেখেছিলাম। কিন্তু সবার সেরা সুখস্মৃতি আমার মাথানগুড়ি…

স্রোতস্বিনী বেকি নদী, দূরে ভূটানের নীল পাহাড়, ছুটন্ত বুনোমোষ, নদীর জলে সাঁতার কাটা দুরন্ত ভোঁদর, নদীর জলের মাথায় উড়ে যাওয়া সারস পাখি, মাথানগুড়ির কাঠের লজ, মিউজিয়ামে সংরক্ষিত নানান দ্রষ্টব্যের মধ্যে সঞ্জয় দেবরায়ের স্মৃতিবিজরিত স্টাফ করা একটি রয়াল বেঙ্গল টাইগার, যার দৌরাত্ম্যে অতিষ্ট হয়ে তিনি বাধ্য হয়ে তাকে সামনাসামনি গুলি করে এক শটেই তার ভবলীলা সাঙ্গ করে দিয়েছিলেন।
মানসের জঙ্গল দেখে যে তৃপ্তি ও শান্তি পেয়েছি, তা আমার ব্যক্তিগত সম্পদ।