মাথে মে ট্রিকস সব পর্ব একত্রে

বৈজ্ঞানিক পদ্ধতি বিষয়ে কিছু কথা
স্কুলের মাঠে পোঁতা পতাকাদন্ডের উচ্চতা নির্ধারণ করছে একদল শ্রমিক। তাদের কাছে রয়েছে শুধু গজ ফিতে। কিন্তু কিভাবে দন্ডের আগায় ফিতেটা ধরা যায় সেটা কেউ বুঝে উঠছে না।
প্রফেসর ট্যানজেন্ট কাছেই ছিলেন। এগিয়ে এসে বললেন, “মূর্খের দল, জ্যামিতি ও ত্রিকোণমিতির সাহায্যে খুব সহজেই এর উচ্চতা বার করা যায়।”
দন্ড ও তার ছায়া নিয়ে সমকোণী ত্রিভুজটি ঠিক কিভাবে গঠন করা যায়, আকাশের দিকে চেয়ে সেটাই ভাবছিলেন প্রফেসর। কোথা থেকে বাংলার শিক্ষক অবিনাশবাবু এসে বললেন, “এতো কান্ড করেন কেন?”
এই বলে লাঠিটা মাটি থেকে তুলে জমিতে শুইয়ে দিলেন। গজফিতেয় সহজেই মাপ করে বলে দিলেন, তিরিশ ফুট!
অবিনাশবাবুকে হাত-টাত ঝেড়ে চলে যেতে দেখে প্রফেসর ট্যানজেন্ট গর্জে উঠলেন, “এটা কী হল অবিনাশবাবু? ওরা মাপছিল উচ্চতা। আর আপনি দৈর্ঘ্য মেপে দিয়ে খুব বাহাদুরি দেখালেন?”
***
প্রফেসর ট্যানজেন্ট তাঁর দুই বৈজ্ঞানিক বন্ধুর সঙ্গে আফ্রিকা সফরে গেছেন। কেনিয়ার তৃণভূমিতে হাঁটতে হাঁটতে মাঠের মধ্যে একটা সাদা ছাগল দেখতে পেলেন তাঁরা। এক বন্ধু বলে উঠলেন, “আরে, কেনিয়ার ছাগলগুলো দেখছি সাদা হয়!”
অপর বন্ধু বললেন, “উঁহু, ঠিক বললে না। বল, কেনিয়ার কিছু কিছু ছাগল সাদাও হয়!”
প্রফেসর ট্যানজেন্ট তাচ্ছিল্যের হাসি হেসে বললেন, “আর যে কবে তোমাদের কনসেপ্ট ক্লিয়ার হবে? এই ছাগলটা দেখে আমরা যা বুঝতে পারি তা হল, কেনিয়ায় অন্তত একটি ছাগল আছে, যার অন্তত একটা দিক সাদা!”
***
প্রফেসর ট্যানজেন্ট কখনো বিমানযাত্রা করেন না। কেননা সারা বিশ্বের উড্ডয়ন পরিসংখ্যান ঘেঁটে তিনি আবিষ্কার করেছেন, যেকোনো বিমানে একটি বোমা থাকার সম্ভাবনা এক লক্ষে এক। প্রফেসরের মতো বিচক্ষণ মানুষ সব জেনেশুনে এতোটা জীবনের ঝুঁকি কখনও নিতে পারেন!
একবার এক গণিত সম্মেলনে তাঁর এক পুরনো সহকর্মীর সাথে দেখা। তিনি প্রশ্ন করলেন, “কি প্রফেসর, কোন ট্রেনে এলে?”
প্রফেসর ট্যানজেন্ট স্মিত হেসে বললেন, “এবার আমি প্লেনে এসেছি।”
বন্ধুটি তো অবাক। বিস্ময়ের সঙ্গে জিজ্ঞেস করলেন,”তাহলে তোমার ঐ বোমার থিওরিটা?”
“সে থিওরিতে কোনও ভুল নেই,” প্রফেসর ব্যাখ্যা করে বললেন, “প্লেনে একটি বোমা থাকার সম্ভাবনা এক লক্ষে একই। তাহলে দু’টি বোমা থাকার সম্ভাবনা কিন্তু দাঁড়াচ্ছে মাত্র দশ বিলিয়নে এক। এটা এতোই কম যে অনায়াসে আমি তাকে ইগনোর করতে পারি, তাই না?”
“তা নাহয় পারো,” বন্ধুটির চোখ গোল, “কিন্তু দু’টো বোমার কথা আসছে কেন?”
“প্রিয় বন্ধু, এটা আমার মাথায় এতদিন আসেনি, প্রফেসর ট্যানজেন্টের সহাস্য উত্তর, ঝুঁকি কমাতে এবার এইটা আমিই সঙ্গে করে এনেছি।” পকেট থেকে সন্তর্পণে একটা বোমা বার করে দেখান প্রফেসর ট্যানজেন্ট!
***
সেনাবাহিনীর ইঞ্জিনিয়ারদের এক সেমিনারে প্রফেসর ট্যানজেন্ট প্রোব্যাবিলিটি নিয়ে বক্তৃতা করছেন। আকাশে প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার উদাহরণ দিয়ে তিনি বললেন, “খোলা আকাশে একটিমাত্র বোমারু বিমানের নিশানায় ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করলে সেটি বিমানকে আঘাত করার সম্ভাবনা শতকরা মাত্র পাঁচ।”
একজন ইঞ্জিনিয়ার শিক্ষানবিশ জানতে চাইলেন, “ক্ষেপণাস্ত্রটি শুধু সতর্ক করার উদ্দেশ্যে ছোঁড়া হয়? মানে যদি এমনভাবে ছুঁড়ি যে সেটা বিমানের গায়ে না লেগে শুধু পাশ দিয়ে যায়?”
“সেক্ষেত্রে কিন্তু ওটা বিমানে লাগবার সম্ভাবনা শতকরা পঁচানব্বই ভাগ,” প্রফেসর ট্যানজেন্টের নির্লিপ্ত উত্তর!
***
সম্প্রতি কোনও গুরুত্বপূর্ণ গবেষণার কাজে প্রফেসর ট্যানজেন্ট কিছুদিন হল গা ঢাকা দিয়েছেন। তাঁর আরও কোনও খবর পেলে জানাবো’খন।