
সেটা ২০০২ সালের শীতকাল, মনে হয় বড়দিন হবে। নিউ মার্কেটের গ্লোব সিনেমা হলে বাবা মায়ের সঙ্গে গেছিলাম একটা সিনেমা দেখতে। নাম মকড়ী। ভয়ের সিনেমা দেখতে আমার চিরকালই ভাল লাগে। সিনেমা শুরু হওয়ার খানিকক্ষণের মধ্যে মাকড়সা-টাকড়সা কিছু দেখতে না পাওয়ায় হতাশই হলাম। তারপরই সেই ডাইনির বিশাল বাড়ি, তাতে মুরগী চোর ছেলেটা ঢুকে পড়ল। ভয়ে ভয়ে অন্ধকার হলঘরে ঢুকল, তার একদিকে বিশাল একটা চেয়ার, আর ঘরের ঠিক মাঝখানে উঁচু মত একটা জায়গা। তার ওপর ভয়ে ভয়ে এসে দাঁড়াতেই ঝপাৎ করে একটা পর্দা এসে নেমে চার দিক দিয়ে ঘিড়ে ফেলল তাকে। তারপর? পর্দা উঠতেই দেখে, চোরের বদলে সেখানে দাঁড়িয়ে আছে একটা—
–সে গ্রামে থাকত চুন্নি আর মুন্নি বলে দুই যমজ বোন। বাড়িতে তাদের বাবা ও ঠাকুমা। মা মারা গেছে। দেখতে অবিকল একরকম হলে হবে কি, মুন্নি যেমনি শান্ত, ভিতু, পড়াশোনায় ভাল, চুন্নি তেমনি ডানপিটে আর ভয়ডরহীন। তার প্রিয় বন্ধু হচ্ছে মু্রগির দোকানীর পোষ্যপুত্র মুঘল-ই-আজম। ভালই আছে তারা। চুন্নি চারিদিকে দুষ্টুমি করে বেড়ায় আর কেউ ধরতে এলেই গালে একটা নকল তিল লাগিয়ে মুন্নি সেজে তাদেরকে বোকা বানিয়ে হাত ফস্কে পালায়। কিন্তু এমনই একদিন বোকা বানানোর ফলে মুন্নি তাড়া খেয়ে ঢুকবি তো ঢোক, সোজা ডাইনির বাড়িতে। চুন্নি তাকে খুঁজতে খুঁজতে সেখানে ঢুকে দেখে মুন্নি নেই, তার বদলে আছে একটা মুর্গি! তাই দেখে সে ডাইনির পায়ে পড়ল। মুন্নিকে মানুষ বানিয়ে দেওয়ার জন্য হাজার কাকুতি মিনতি করল। ডাইনি তখন রাজি হল, কিন্তু একটা শর্তে। প্রতিদিন একটা একটা করে একশোটা মুর্গি এনে হাজির করতে হবে তার কাছে। তবেই সে মুন্নিকে আবার মানুষ করে দেবে। আর সে কথা কাউকে বলা চলবে না, নইলে–
বাকিটা চুন্নির লড়াইয়ের গল্প। সারাদিন চুন্নি ও মুন্নি দুই সেজে থাকা, আর রাতের অন্ধকারে যেখান থেকে হোক, মুর্গি এনে ডাইনির হাতে তুলে দেওয়া। আর এত বড় কথাটা কাউকে না বলে বুকে চেপে রেখে দেওয়া। চুন্নির প্রায় ভেঙে পড়ার মত অবস্থা। কিন্তু সে হাল ছাড়ল না। নিজের মনের জোর, বুদ্ধি ও সাহস দিয়ে কীভাবে সে বোনকে উদ্ধার করল, আর ফাঁস করল বিশাল এক ষড়যন্ত্র – এটার গল্পই বলে ‘মকড়ী’।
শুধু রহস্যই নয়, হাসির খোরাকও আছে প্রচুর এ ছবিতে। গ্রামের মানুষ প্রত্যেকে বিচিত্র—- পাগল মুর্গিওয়ালা কাল্লু থেকে শুরু করে মোটা পুরুত প্রত্যেকেই হাসায়। তাছাড়া আছে চুন্নির নানা শয়তানী, ও মুঘল-ই-আজামের সাথে বন্ধুত্ব। কিন্তু সবশেষে আছে ওই ভয়কে জয় করবার গল্প। ছবির সুরও পরিচালক বিশাল ভরদ্বাজের নিজের দেওয়া, আর গানগুলো একেবারে জমজমাট। আমার প্রিয় অবশ্য কাল্লুর মুর্গিদের নিয়ে গাওয়া গানটা।
যারা মকড়ী দেখনি তারা শিগগিরি দেখে ফেল আর লিখে পাঠাও জয়ঢাককে কেমন লাগল।
তথ্যঃ
নাম- মকড়ী
পরিচালনা- বিশাল ভরদ্বাজ
সাল- ২০০২
ভাষা- হিন্দি
রেটিং- একা দেখা যায়, তবে ভয় লাগতে পারে। বাবা মা, বা বড়ো দাদা/দিদির সাথে দেখলে ভাল।