
রিতানের আজ তাড়াতাড়ি স্কুল ছুটি হয়ে গেছে। রাস্তায় ফিরতে ফিরতে প্ল্যানটা করেই ফেলল রিতান। দিদির এখনো স্কুল ছুটি হতে প্রায় এক দেড় ঘণ্টা বাকি। আজ সে দিদির খেলনা নিয়ে খেলবে।
এমনিতে তার অনেক খেলনা তবু দিদির পুতুলগুলো দিদি তাকে ছুঁতে দেয় না। এই নিয়ে তো প্রায় প্রতিদিন ঝগড়া হয়,এমনকি অনেকবার মারপিট ও হয়েছে। যাই হোক বাড়ি ফিরতে ফিরতে প্রায় পনেরো মিনিট গেল,মা দরজা খুলে বলল “কিরে? তোর ছুটি হয়ে গেল?”
রিতান বলল “হ্যাঁ।”
“আর ফুলটুসি?”
রিতান হেসে বলল, “ওর এখনো হয়নি।”
ফুলটুসি মানে রিতানের দিদি। মায়ের আর বুঝতে বাকি রইল না রিতান এবার নিশ্চয় দিদির খেলনাগুলো আলমারি থেকে বের করতে বলবে।
“খাবি না?”
“না। খেলনাগুলো দাও, আমি খেলব।”
রিতানের মা বলল, “ঠিক আছে।” এই বলে কয়েকটা খেলনা আলমারি থেকে বের করে দিতে,তা নিয়ে রিতান চলে গেল বারান্দায়। রিতান এখন ক্লাস থ্রিতে পড়ে আর ফুলটুসি ফাইভে। রিতান ভাল করেই জানে তার দিদি নিজের জিনিস কাউকে ছুঁতে দেয় না। একবার পাশের বাড়ির বল্টুদা কি যেন একটা বই নিয়ে গিয়েছিল মাকে বলে। স্কুল থেকে ফিরে ফুলটুসি সেই নিয়ে মায়ের সাথে কথা বন্ধ খাওয়া বন্ধ করে দিয়েছিল। কি চিৎকার, “আমার জিনিস আমাকে না বলে কেন দেবে তোমরা? আজ থেকে বলে দিচ্ছি আমার জিনিস কাউকে দেবে না। এমন কি রিতানও যেন না ছোঁয় বলে দিলাম।”
সেই থেকে রিতান একটা পেন দরকার হলেও ফুলটুসির কাছে চায় না। তবে মাঝে মাঝে ওর খেলনাগুলো নিয়ে একটু নাড়াচাড়া করে। রিতানের মাও কিছু বলে না। বরং লুকিয়ে দু একটা খেলনা ওকে দিয়েছে। ফুলটুসির তো অনেক খেলনা! তাই বুঝতেও পারে নি।
সেদিন কিন্তু ফুলটুসি কখন চলে এসেছে খেয়ালই করেনি রিতান। বেশ নিজের মনেই খেলছিল হঠাৎ পিঠে বলের মতো সপাটে কি একটা লাগলো বেশ জোর। ঘুরে দেখে দিদি রুদ্রমূর্তিতে দাড়িয়ে।
“কি রে রি,” দিদি ওকে রি বলেই ডাকে, “তুই আমার খেলনাতে হাত দিয়েছিস কেন? ওঠ, ওঠ বলছি এখুনি!”
রিতান ছুটে চলে যায় মায়ের কাছে, “মা দিদি আমাকে মারল” এই বলে কাঁদতে শুরু করে। মা তার চোখের জল মুছিয়ে বলে, “তোকে তো অনেক বার বারণ করেছি। শুনিস নি।”
“কি? অনেক বার? মানে আমার খেলনা নিয়ে এঘরে অনেকবার খেলা হয়েছে আর আমি জানি না?” ফুলটুসি চিৎকার শুরু করে, “এসব কি শুরু করেছ? আমাকে একটুও ভালবাসোনা তোমরা। আমার কোনো স্বাধীনতা নেই এ ঘরে,” বলতে বলতে নিজের ঘরে চলে গেল আর দুম করে দরজা বন্ধ হয়ে গেল। রিতান এবার মুখ খুলল, “ মা, দিদির জন্য যে ম্যাগিটা বানিয়েছ সেটা আমাকে দিয়ে দাও। ও তো আজ আর খাবে না!”
মা রেগে গেল, “তোরা দুটোই সমান,” এই বলে চলে গেল রান্নাঘরে।
রিতান ফুলটুসির বন্ধ দরজায় একবার গিয়ে বলল, “তুই খাবি কি? না হলে আমি তোর ম্যাগিটা খেয়ে নিচ্ছি।”
“যা খুশি কর। খা, খেয়ে মর।”
ততক্ষণে রিতানের বাবা ফিরে এসেছেন। ঘরের আবহাওয়া বুঝে উঠতে সময় লাগলনা। রেগে বললেন, “কি রে? তোরা আবার ভাইবোনে ঝগড়া শুরু করেছিস? তোদের নিয়ে আর পারলাম না। কতবার বলেছি ভাইবোন মিলেমিশে থাক। পাশে বল্টুরাও তো আছে। ওদের দেখে শেখ।”
এমন সময় দরজার বেলটা বেজে উঠল। রিতানের বাবা বললেন, “ দেখ তো রি কে?”
রিতান দরজা খুলেই লাফিয়ে উঠল, “বাবা, বেণুমামা এসেছে। বেণুমামা মানে রিতানের মায়ের মামাতো ভাই। রিতানদের নিজের কোন মামা নেই তবে বেণুমামা ওদের খুব প্রিয়। যখনই কলকাতা আসেন বেণুমামা একবার না একবার রিতানদের বাড়িতে আসএনই। বেণুমামার মস্ত বড় গুণ হল উনি খুব ভাল গল্প বলেন আর যতবার আসেন দুজনের জন্যেই নতুন কিছু খেলনা নিয়ে আসেন।
তাকে দেখে বাবা বললেন, “আরে বেণু কেমন আছিস?”
“ভালো জামাইবাবু। তোমরা সব ভালো তো ? ফুলটুসিকে দেখছি না যে? স্কুল থেকে ফেরেনি?”
“ঝগড়া হয়েছে দুই ভাইবোনের তাই দরজা বন্ধ করেছে।” বাবা মাথা নাড়ল।
“কী নিয়ে ঝগড়া?” বেণুমামা জিজ্ঞেস করল।
“সামান্য পুতুল কে খেলবে তাই নিয়ে।”
“বুঝেছি,” বেণুমামা দরজায় গিয়ে টোকা মারল, “ ফুলটুসি আমি বেণুমামা এসেছি রে।”
কিছুক্ষণ পর দরজা খোলে ফুলটুসি।
“ও বেণুমামা কখন এলে? এবারে কী এনেছ আমার জন্য?”
“তোর জন্য না তোদের দুজনের জন্য।”
“সে তো জানিই। তবে আগে আমারটা দাও তারপর ওকে যা দেবার দিও। আমি ছুঁতেও যাব না। আমি কারো জিনিস ছুঁই না,” মুখ বাঁকিয়ে বলল ফুলটুসি।
“তাহলে তো ভারি মুশকিল হল! এটা তো একজনে খেলা যাবে না!”
“এ আবার কীরকম খেলা? ব্যাট বল এনেছ নিশ্চয়? ওসব ছেলেদের খেলা।”
“আরে না না। এটা ব্যাট বল না। এটা বুদ্ধির খেলা। যার বুদ্ধি বেশি সেই জিতবে।”
“তাহলে তো আমিই জিতবো।”
রি বলে, “হ্যাঁ তোর বুদ্ধি তো আমার জানা আছে। কত পেয়েছিস এবার অঙ্কে?”
ফুলটুসি রেগে গিয়ে বলে, “তুই নিজেরটা দেখ । আমারটা আমি বুঝবো। মামা বের করো না কী এনেছ?”
মামা ব্যাগ খুলে বার করে একটা মোটা খাতার মতো বাক্স বের করলেন। খুলতেই দেখা গেল তাতে অনেকগুলো সাদা কালো চতুর্ভুজ আঁকা।
“এটা কী মামা?” রি জিজ্ঞাসা করে।
“এটার নাম দাবা। তোরা বড় হচ্ছিস। এবার পুতুল খেলা শেষ। এই হল মন্ত্রী, রাজা, নৌকা আর বোড়ে মানে সৈন্য।”
“ধুস! এটা আমাদের না। বড়োদের খেলা,” ফুলটুসি বলে।
“কে বলল? জানিস কত ছোটো বয়সে গ্র্যান্ডমাস্টার হত্তয়া যায়?”
“গ্র্যান্ডমাস্টার মানে?”
“গ্র্যান্ডমাস্টার মানে হল সেরা দাবাড়ু। একটা খেতাব, উপাধি।”
“ও বুঝেছি। যেমন বিদ্যাসাগর,” রি বলল।
বেণুমামা একটু থেমে বলে, “উমম্ অতটা না হলেও খানিকটা তো বটেই।”
“খেলাটা তুমি শিখিয়ে দেবে?”
“নিশ্চয়।”
এবার মা বলে ওঠে, “বেণু আগে একটু চা টা খা, তারপর ওদের নিয়ে বসবি। না হলে ওরা আর ছড়বে না তোকে।”
“তাতে কী হয়েছে? তুই আননা এখানেই। আমি শেখতে শেখাতে খাব, আর হ্যাঁ সাবুর পাঁপড় কয়েকটা ভাজ তো।”
এবার একসাথে রি আর ফুলটুসি বলে উঠল, “আমার জন্যেও, আমার জন্যেও।”
“আচ্ছা বাবা তোদের জন্যেও ভাজছি।”
বেণুমামা আবার শুরু করে, “শোন, এই দাবা খেলায় আসল খেলাটা খেলে ঘোড়া।”
রি বলে, “ঘোড়া?”
বেণুমামা ঘাড় নাড়েন। “ হুম। দেখছিস না বাক্সের ওপর ঘোড়ার ছবি! দেখ একটা ঘোড়া রাখলাম একটা ঘরে। এবার বোঝাচ্ছি এটা কত দিকে যেতে পারে—”
বেণুমামা শেখাতে থাকে। ইতিমধ্যে চা পাঁপড় এসে গেছে। দুই ভাইবোন সব চাল শিখে প্রথমবার খেলার জন্য গুটি সাজায়। বেণুমামা চা আর খবরকাগজে মন দেয়।
হঠাৎ ফুলটুসি আর রি লক্ষ করল, দাবাটা যেন ধীরে ধীরে বড় হচ্ছে আর ঘরগুলো থেকে বেরিয়ে আসছে সাদা হাতি ঘোড়া আর অনেক সৈন্য। কয়েকটা সৈন্য তাদের দিকে এগিয়ে এসে বলল, “তোমরা রি আর ফুলটুসি না? আমাদের সাদা রাজা তোমাদের ডেকে পাঠিয়েছেন। তোমরা এখনি চলো।”
রি বলল, “কিন্তু মা যে পাঁপড় আনতে গেল তার কী হবে?”
“তোমরা ওখানে অনেক খাবার খাবে আর অনেক খেলনা পাবে।”
রি আর ফুলটুসি তক্ষুনি রাজি হয়ে গেল। ফুলটুসি বলল, “আচ্ছা আমরা যদি তোমাদের সাথে যাই মা রাগ করবে নাতো?”
সৈন্যরা বলল, “কেন করবে? আমরা ঠিক বুঝিয়ে দেবো তোমার মাকে।”
তারপর দুই ভাইবোন দাবার উপর বসে উড়ে চলল দাবারাজের দেশে। রাস্তায় যেতে যেতে তারা কত রকমের গাছ, কত রকমের ফুল দেখল! কয়েকটা ফুল ফুলটুসি তুলে তার স্কুল ব্যাগে ঢুকিয়ে রাখল। অনেক দূর উড়তে উড়তে শেষে তারা পৌঁছল দাবা রাজার দেশে। সেখানে তারা দেখল সবাই সাদা। হাতি ঘোড়া, সৈন্য, এমনকি নদীর ঘাটে বাঁধা নৌকাগুলোর রংও সাদা। সাদা রানি ওদের কাছে এগিয়ে আসতেই রি বলল, “আচ্ছা তোমরা সবাই সাদা কেন?”
রানি হেসে বলল, “রিতান, এটা সাদা রাজার দেশ। এখানে সবাই সাদা। আর ওই দূরে পাহাড় দেখছ, ওখানে থাকে কালো রাজা।”
ফুলটুসি জিজ্ঞেস করল, “তোমরা যুদ্ধ করো?”
এবার রাজা উত্তর দিলেন, “তা কেন করবো? আমরা খালি যুদ্ধ যুদ্ধ খেলি। কিন্তু হ্যাঁ একটা কথা মনে রেখো। এই যে তোমরা যেখানে দাঁড়িয়ে আছো,মানে সাদা ঘরটার মধ্যে—”
এতক্ষণ তো লক্ষই করে নি রিতান আর ফুলটুসি! রাজা বলাতে তারা নিচের দিকে তাকিয়ে দেখল তারা যেখানে দাঁড়িয়ে আছে তার নিচে মাটি বলে কিছু নেই। সব সাদা কালো ঘর কাটা। আর এখানের সবাই দাঁড়িয়ে আছে সাদা ঘরের ভেতর। রিতান আর ফুলটুসি রাজার মুখের দিকে তাকাল।
রাজা বলল, “এই কালো ঘরগুলো কালো রাজার। তোমরা কিন্তু কেউ ভুলেও ওই ঘরে পা রেখো না।” রিতান আর ফুলটুসি বলল, “ঠিক আছে রাজামশাই।”
রানি বলল, “তোমরা এখানে খুব মজা কর। যতদিন খুশি থাকো আর যেদিন বাড়ির জন্য মন খারাপ
লাগবে সেদিন ওই যে পশ্চিমের দিকে বড়ো ফটকটা দেখছ ওটা দিয়ে বেরোবে, তাহলেই বাড়িতে পৌঁছে যাবে।”
রিতান আর ফুলটুসি বলল, “ঠিক আছে রানিমা।”
এইভাবে রিতান আর ফুলটুসি থেকে গেল সাদা রাজার দেশে। সেখানে তারা প্রতিদিন নতুন নতুন খেলনা পায়, হাতির পিঠে ঘুরে বেড়ায়,নৌকোতে চড়ে, আর রাজার অতিথিশালায় ভালো মন্দ খাবার খায়। এইভাবে বেশ ভালই কাটছিল। তবে ফুলটুসি আর রি এর ঝগড়া কিন্তু কমে নি। প্রতিদিনই তাদের কিছু না কিছু নিয়ে ঝগড়া লেগেই থাকত।একদিন ফুলটুসি আর রিতান বোড়েদের সাথে যুদ্ধ যুদ্ধ খেলা করার সময় খুব ঝগড়া বেধে গেল দুজনের। কেউ আর থামাতে পারে না। ঝগড়া শেষে মারপিট হবার উপক্রম,এমনসময় ফুলটুসির পা পড়ে গেল কালো ঘরে, আর যেই না পড়া অমনি ফুলটুসি একটা মাটির বোড়ে হয়ে গেল। সবাই চিৎকার করল। চিৎকার শুনে সাদা রাজা রানি ছুটে এল। বলল, “হে ভগবান! তোমাদের বলেছিলাম না কালো ঘরে পা রাখবে না!”
রিতান বলল, “দিদি আমার সাথে ঝগড়া করছিল, তারপর ভুল করে পা রেখেছে।
এদিকে ফুলটুসি কাঁদতে শুরু করল আর সাদা রাজাকে বলল, “সাদা রাজা আমাকে মানুষ করে দাও। আমি আর কখনো ঝগড়া করব না।”
রাজা বলল, “ঠিক আছে, ঠিক আছে। একটা উপায় আছে। তোমরা যদি দুজন ওই পশ্চিমের ফটকটা দিয়ে একসাথে বেরিয়ে যাও তাহলে আবার ফুলটুসি মানুষ হয়ে যাবে। কিন্তু একটা মুশকিল হয়েছে যে!”
রিতান বলল, “কী মুশকিল?”
রাজা বলল, “ফুলটুসি কালো ঘরে পা দেওয়াতে ওই ফটকটা কালো রাজা কব্জা করেছে। ওখানে এখন একটা নৌকা সোজাসুজি আর একটা হাতি কোনাকুনি পাহারা দিচ্ছে।”
রিতান বলল, “তাহলে কী হবে?
রানিমা তখন বলল, “আমরা তোমাদের একটা সাহায্য করতে পারি। চাইলে রিতান যেকোনো একজনকে নিতে পারে আমাদের মধ্যে থেকে। তারপর মাটির ফুলটুসিকে নিয়ে একসাথে পেরোলেই হবে। কিন্তু পার হতে হবে নিজেকেই আর কাকে সঙ্গে নেবে সেটা ঠিক করতে হবে রিতানকেই।”
রিতান ভাবতে থাকে। ভুল হয়ে গেলে আর উপায় নেই। বেণুমামার শেখানো চালগুলো ঝালাতে থাকে রিতান। ফটকটা পাহারা দিচ্ছে নৌকা আর হাতি, নৌকাটা সোজাসুজি যাচ্ছে, নৌকা পেরিয়ে গেলেই কোনাকুনি এসে যাচ্ছে হাতি। নাহ্ কিচ্ছু মাথায় আসছে না রিতানের। কী করে পেরোবে সে? সোজাসুজি পেরোতে গেলেই নৌকা আর কোনাকুনি গেলেই হাতি!
কাকে নেবে কিছুতেই ঠিক করতে পারছে না রিতান, তখন হঠাৎই বেণুমামার একটা কথা মনে পড়ে গেল তার, “শোন, এই দাবা খেলায় আসল খেলাটা খেলে ঘোড়া… দেখ একটা ঘোড়া রাখলাম একটা ঘরে… এবার বোঝাচ্ছি এটা কত দিকে যেতে পারে।”
“হ্যাঁ… পেয়েছি!!” রিতান লাফিয়ে উঠল, “রাজামশাই, আমাকে একটা ঘোড়া দিন।”
“ঠিক আছে। তাই হোক,” এই বলে রাজা হাততালি দিতেই ফুটফুটে সাদা একখানা ঘোড়া এসে হাজির হল। মাটির ফুলটুসিকে তুলে নিয়ে চেপে বসে রিতান তার পিঠে। তারপর তীরের বেগে ছুটে গেল ফটকের দিকে।
ঘোড়া আস্তে দেখেই কালো নৌকা সোজাসুজি আর কালো হাতি কোনাকুনি ওদের আটকাতে এগিয়ে এল। রিতান ঘোড়ার লাগাম টেনে প্রথমে বাঁ দিকে একটা আড়াই ঝাঁপ তারপর ডানদিকে একটা আড়াই ঝাঁপ মেরে সোজা সামনে আড়াই ঝাঁপ, কালো হাতি আর নৌকার নাগালের বাইরে।
ওমনি ঘোড়ার উপর ফুলটুসি আবার মানুষ হয়ে গেল। তারা এসে পৌঁছে গেল এক্কেবারে ঘরের বারান্দায়। রি কে গলা জড়িয়ে ধরে ফুলটুসি বলল, “ভাই সোনা আমি আর কোনদিন তোর সাথে ঝগড়া করব না।”
তারপর থেকে রি আর ফুলটুসি সব খেলনা ভাগ করে খেলে আর কোনোদিনও ঝগড়া করে না। ওদের বাবা মাও আর বকে না। রি আর ফুলটুসি এখন অপেক্ষা করে আছে পরেরবার বেণুমামা কী নিয়ে আসে তার জন্য।