জয়ঢাকি বোল-হাল্লা চলেছে যুদ্ধে-শীত২০২৪

joydhakibol91

বড়োরা খুব যুদ্ধ করছে আজকাল। দেশে দেশে সৈন্যরা অস্ত্র নিয়ে ঝাঁপিয়ে পড়ছে মানুষের ওপরে। কোথাও তারা অন্যদেশের মানুষকে মারছে। কোথাও বা মারছে নিজেরই দেশবাসীকে। দুনিয়া জুড়ে হাল্লারাজার সেনারা চলেছে যেন মার্চ করে। পৃথিবীর সারা শরীর বেয়ে রক্ত ঝড়ছে তাই। বিশ্বাস না হলে সঙ্গের ম্যাপটা দেখো!

“গ্লোবাল কনফ্লিক্ট ট্র্যাকার” নামের এক সংস্থা এই লজ্জার আর দুঃখের ঘটনাগুলোকে একটা মানচিত্রে ধরে রাখে। তাদের এই মানচিত্রে দেখছি, এই মুহূর্তে পৃথিবীর গায়ে ছাব্বিশটা বড়ো বড়ো ক্ষত দিয়ে রক্ত ঝড়ছে। ইউক্রেন-রাশিয়া যুদ্ধ, ইজরায়েল-হামাস যুদ্ধ, বর্মার সামরিক স্বৈরাচারীদের অত্যাচার… এমন সব ক্ষত। আরো কতো হাজারো ছোটোখাটো আঁচড়কামড় যে আছে কে তার হিসেব রাখে! এ ম্যাপে তাদেরও জ্যগা দিলে গোটা কাগজটাই লাল হয়ে পৃথিবীটাকেই ঢেকে ফেলত। আচ্ছা আমাদের এই গ্রহটা এত মার খেতে খেতে মরে যাবে না তো!

এর মধ্যে একটা গর্বের জায়গা হল আমাদের দেশ ভারতবর্ষ। তাকিয়ে দেখো, তার বুকে সৈন্যদের বুটের শব্দ নেই। যুদ্ধের রক্তও লেগে নেই। কেন?

আমাদের বেশি টাকা নেই, জানো! দেশে অনেক গরিব মানুষ আছে। অনেক দুঃখ আছে। কিন্তু এতবড়ো দেশটা গত হাজার বছরে ভিনদেশের বুকে কখনো দখলদারি হামলা চালায়নি। আমাদের সৈন্যরা যে একটিবার সীমান্ত পেরিয়ে অন্যদেশের মাটিতে যুদ্ধ করেছিল, তা ছিল পূর্ব পাকিস্তানের স্বাধীনতার যুদ্ধে সেখানকার মানুষকে সাহায্য করা। ওর ফলে সেখানে এখন এক স্বাধীন দেশের জন্ম হয়েছিল ১৯৭১ সালে।

আমাদের সীমান্তে কত না হামলাবাজি চলে, তাদের মধ্যে যেমন চিনের মত শক্তিশালী, ধনী দেশ রয়েছে তেমনই রয়েছে পাকিস্তানের মত দুর্বল, দরিদ্র দেশেরা। কিন্ত শক্তিশালীকে শক্তি দিয়ে, আর দুর্বলদের ধৈর্য দিয়ে রুখে চলেছি আমরা। আর তাই, এই মানচিত্রে ভারতের বুকে আজও কোথাও সেই রক্তের কলঙ্কের দাগ নেই।

তোমরা যখন বড়ো হবে, তখন তোমাদের হাতে এমনই রক্তের দাগহীন একটা দেশ তুলে দিয়ে যাব আমরা। এই আমাদের প্রতিজ্ঞা। আর তোমাদের কাজ হবে, তাকে এমনই নির্মল রাখা। সেজন্য আজ থেকে নিজেদের তৈরি করা শুরু করতে হবে। কীভাবে?

শরীর আর মন দুটোকেই শক্ত করে গড়তে হবে। ওতে দেশ শক্তপোক্ত হবে। বন্ধুদের হিংসে করব না। তাহলে আমাদের দেশও অন্য দেশকে হিংসে করবে না। অনেক পড়াশোনা করতে হবে। যারা পড়াশোনা করে তাদের সবাই সম্মান করে। অন্যরা তাদের কথা শোনে। আর, ঘুরে ঘুরে নিজের দেশটাকে দেখতে হবে, জানতে হবে, মানুষের সঙ্গে ভাবসাব করতে হবে। তাহলেই আমরা দেশকে ভালোবাসতে শিখব। আর আমাদের সবার ভালোবাসা পেলে আমাদের দেশও ভালো থাকবে। চিরকাল।

ভালোবাসায়

তোমাদের জয়ঢাকি দাদাদিদিরা

Leave a Reply