জয়ঢাকের কিচেন-বিতানের প্যানকেক-ইন্দ্রশেখর-জয়ঢাক৪৮

rannaghor01

সকালবেলায় ঘুম থেকে উঠে টিফিনের কৌটোটা খুলেই বিতানের মন খারাপ হয়ে গেল। বেগুনীমাসী আজকেও ফের সেই ছটা বিস্কুট আর একটা সন্দেশ ঢুকিয়ে রেখেছে। বলতে যেতে ঠোঁট উলটে বলল, “ওর বেশি হবে না।”

“আমি তাহলে আজ টিফিনই খাবো না।”

“উঃ। বাবুর রাগ দেখো। এক গেলাস জলও তো গড়িয়ে খেতে জানো না। পারলে নিজে টিফিন বানিয়ে নিয়ে যাও না!”

বিতানের মুখটা গম্ভীর হয়ে গেল। দিদিভাইয়ের কলেজ নেই আজ। বসে বসে ফিকফিক করে হাসছিল ওর দশাটা দেখে। সেইদিকে তাকিয়ে মুখ ভ্যাংচালো বিতান আর তারপর ভ্যাঁ করে কেঁদে ফেলল। তার বেজায় দুঃখ হয়েছে।

তাই দেখে দিদিভাই তাড়াতাড়ি উঠে এসে তাকে জড়িয়ে ধরে আদর করে বলে, “চল আজ তোকে আমি একটা টিফিন বানাতে শিখিয়ে দিই। তারপর ইচ্ছে হলে নিজেই বানিয়ে নিতে পারবি যখন খুশি।”

ইশকুলের বাস আসতে তখনো এক ঘন্টা দেরি। বিতানবাবু অতএব দিদিভাইয়ের সঙ্গে রান্নাঘরে চললেন টিফিন বানাতে।

“আয় প্যানকেক বানাই আজ,” বলল দিদিভাই, “আমি নাম বলছি, তুই জিনিসগুলো জোগাড় কর।”

অতএব বিতান চলল, ভাঁড়ার ঘরে। সেখান থেকে নিয়ে এলো, খানিক ময়দা, ওট, একটু বেকিং পাউডার, একটু সাদা তিল, কোয়ার্টারচামচ দারচিনির গুঁড়ো, আধ চা চামচ নুন, দু কাপ দুধ, এক কাপ টক দই, তিন টেবিলচামচ মাখন, খানিক মধু, গোটা দুতিন কলা (বেগুণীমাসী সেগুলোকে মিহি করে চটকে দিয়েছিল), দুখানা ডিম।

মিক্সিতে ওট আর তিল ভালো করে গুঁড়ো করে নিয়ে তার সঙ্গে ময়দা, নুন, বেকিং পাউডার, দারচিনির গুঁড়ো ভালো করে মিশিয়ে একটা গামলার মধ্যে রাখল বিতান। দিদিভাই বলে বলে দিচ্ছিল আর সে কাজগুলো করছিল। আজ বেগুনীমাসীকে দেখিয়ে দিতেই হবে সে কেমন রান্না করতে পারে।

এইবার আরেকটা বড় বাটিতে দুধ, দই, মাখন, চটকানো কলা,মধু আর ডিম  মিশিয়ে চামচ দিয়ে খুব ভালো করে ঘুঁটে নিল।

এইবার  গামলায় রাখা ময়দাটয়দার পাহাড়টার মাঝখানে একটা গর্ত করে তার মধ্যে বাটির মিশ্রণটা ঢেলে দিয়ে আস্তে আস্তে দুটোকে মেশাতে বেশ একটা দারুণ দেখতে নরমসরম মন্ড তৈরি হয়ে গেল।

“খেয়াল রাখিস যেন খুব নরম হয় আর যেন ভালো করে মেশে, নইলে খেতে ভালো হবে না কিন্তু,” দিদিভাই সাবধান করে দিচ্ছিল বারবার।

ranna4802

মন্ডটা তৈরি হয়ে যেতে, হটপ্লেটের সুইচ অন করে তাতে একটা নন স্টিকি প্যান বসানো হল। সেটা গরম হতে তাতে সামান্য তেল ছড়িয়ে দিয়ে তার ওপর অ্যাত্তোটা অ্যাত্তোটা করে মন্ড ছড়িয়ে দিচ্ছিল বিতান রুটির মতন করে। খানিক বাদেই সেটা শক্ত হয়ে গিয়ে তার ওপরের দিকটাতে বুজকুড়ি কাটা শুরু হতেই সেটাকে উলটে দেয়া হল। তলার দিকটা তখন সোনালী রঙ ধরেছে। আর কী সুন্দর গন্ধ তার! খানিক বাদে উল্টোদিকটাও সোনালি হয়ে উঠতে প্যানকেকটা নামিয়ে এনে সটান টিফিন বক্সে চালান করল সে। এমনি করে গোটাতিনেক প্যানকেক টিফিন বাক্সে রাখবার পর আরো একখানা তৈরি করে দিদিভাইয়ের দিকে এগিয়ে ধরল সে। বলল, “এটা তোমার টিউশন ফি।”

“আমায় একটা দিবি না?” বেগুনীমাসী এসে হাত পেতে দাঁড়িয়ে ছিল।

“নিজে বানিয়ে খাও না? আমার এখন অনেক কাজ। ইশকুল যেতে হবে,” বিতান গম্ভীর গলায় উত্তর দিল।

Leave a Reply