গল্প-শব্দময়-সুনন্দিনী ঘোষ- শীত ২০২০

সন্ধ্যা ভট্টাচার্য গল্প প্রতিযোগিতা ২০২০
(নবম দশম স্থানের পাঁচ গল্প)

ভোরবেলা ঘুম থেকে ওঠা জগন্ময়বাবুর বরাবরের অভ্যাস। ভোরের একটা অদ্ভুত স্নিগ্ধতা রয়েছে, সারাদিনটা চনমনে থাকে, কাজগুলোও সুন্দরভাবে করা যায়। রোজই প্রায় প্রমিতার সুরেলা গলায় গীতাপাঠের শব্দে ঘুম ভাঙে তাঁর। প্রমিতা, জগন্ময় ভৌমিকের একমাত্র পুত্রবধূ, সরল মনের সংসারী মেয়ে। স্কুলের গণ্ডি কোনোমতে পেরোতেই মায়ের হাত ধরে মফঃস্বল ছেড়ে চলে এসেছিল বারুইপুরে মায়ের গুরুবোনের এই বাড়িতে। আর তারপর খুব তাড়াতাড়ি বিয়ে হয়ে গেল বিখ্যাত বায়োকেমিস্ট, গবেষক জগন্ময় ভৌমিকের একমাত্র ছেলে হিরণ্ময়ের সঙ্গে। জগন্ময়বাবুর জীবনবোধের সঙ্গে কিছুমাত্র মিল ছিল না স্ত্রী মৃদুলার। আদ্যোপান্ত নাস্তিক গবেষক, কিন্তু কখনোই বাধা দেননি স্ত্রীর পুজো-আচ্চা, গুরুভক্তিতে। এমনকি স্ত্রীর পছন্দ করা মেয়ে প্রমিতাকেই পুত্রবধূ হিসেবে স্বচ্ছন্দে গ্রহণ করেছিলেন। ছেলে হিরণ্ময়েরও কোনো আপত্তি ছিল না। সে বারুইপুরে ছেলেদের স্কুলে সংস্কৃতের মাস্টারমশাই, মায়ের মতোই ঈশ্বরভক্ত। এই একটা আফসোসই থেকে গেল জগন্ময়বাবুর সারাজীবন, বাড়ির আর কারুরই বিজ্ঞানে মতি নেই। স্ত্রী তো নয়ই, ছেলেও ছোটোবেলা থেকেই বিজ্ঞান দেখলেই শতহস্ত দূরে পালায়, তার নাকি এসব অঙ্ক-টঙ্ক মাথায় ঢোকে না। কিছুতেই বোঝানো গেলো না, বিজ্ঞান মানেই শুধু অঙ্ক নয়, এর বাইরেও অনেক কিছু আছে। যাক গে, কখনো জোর করেননি জগন্ময়বাবু, যে যেভাবে ভালো থাকে থাকুক। তিনি নিজে বিজ্ঞানচর্চা করে গেছেন এবং করে যাবেন আজীবন। রিটায়ারমেন্টের পরেও নিজের ব্যক্তিগত ল্যাবরেটরিতেই চালিয়ে গেছেন গবেষণা লোকচক্ষুর আড়ালে।

মৃদুলাদেবী চলে যাওয়ার পরে হিরণ্ময় কিছুতেই রাজি হয়নি বাবাকে একা রাখতে। তাই কলকাতার স্কুলে ট্রান্সফারের সুযোগ ফিরিয়ে থেকে গিয়েছে বাবার সঙ্গে। তাছাড়া প্রমিতা অন্তঃসত্ত্বা। এখানে জগন্ময়বাবুই পুত্রবধূর খেয়াল রাখেন এই সময়ে—নিয়মমতো খাওয়াদাওয়া, বিশ্রাম, ওষুধপত্র সবটাই একা হাতে সামলে রাখেন। ছোট্টবেলায় বাবাকে হারানো মেয়েটা নিজের বাবাকেই খুঁজে পায় এই মানুষটির মধ্যে।

এই অফুরন্ত আদরযত্নে একদিন সেই ভোরবেলাতেই পৃথিবীর মুখ দেখল ছোট্ট ফুটফুটে এক প্রাণ, হিরণ্ময়ের ছেলে। একরত্তি তুলোর মতো নরম, ছটফটে ছোট্ট মানুষটাকে কোলে নিয়ে জগন্ময়বাবু বললেন, “এতদিনে এলি দাদা? আমার স্বপ্নপূরণ করবি তো তুই। করবি তো? আমার দাদুভাই। আমার শব্দময়।”

চোখ জলে ভরে গেল তাঁর। পরদিন সেই ভোরবেলাতেই পৃথিবীর মুখ দেখা বন্ধ হল জগন্ময়বাবুর—হৃদযন্ত্র ঘুমিয়ে পড়ল, হারিয়ে গেলেন চিরতরে।

ধীরে ধীরে বেড়ে উঠতে থাকল শব্দময়। হ্যাঁ, এই নামটাই দিয়েছেন হিরণ্ময় তাঁর ছেলেকে। জগন্ময়বাবুর শেষ ইচ্ছে। তাছাড়া বড়ো হয়ে ছেলে শিখবে সংস্কৃত শব্দের ব্যুৎপত্তি, নামটা ভালোই মানাবে তখন। এমনটাই ইচ্ছে হিরণ্ময়ের। ছোটো ছোটো পায়ে টলমল করে যখন হেঁটে আসে শব্দময়, তখন প্রমিতার মনে হয় বাবাই বুঝি আবার ফিরে এসেছেন বাড়ি আলো করে।

জগন্ময়বাবু চলে যাওয়ার পর থেকে বন্ধই পড়ে থাকে তাঁর ঘর এবং গবেষণাগার। মাঝে মাঝে প্রমিতা নিজেই ঝেড়ে মুছে পরিষ্কার করে রাখেন, কাজের লোকের হাতে ছাড়েন না। বাবা কোনোদিনই পছন্দ করতেন না বাইরের কেউ তাঁর ঘরে ঢুকুক। তবে সুযোগ পেলেই সকলের নজর এড়িয়ে দরজার ফাঁক দিয়ে সেই ঘরে ঢুকে পড়ে ছোট্ট শব্দময়। একা একাই খেলে বেড়ায়, নিজের মনে খিলখিল করে হেসে ওঠে। প্রমিতা লক্ষ করেছেন, কেউ যখন শব্দময়কে ডাকে, তখনই ও কেমন চমকে ওঠে, অবাক হয়ে ফিরে তাকায়।

তিন বছর পেরোতেই একদিন বাবার হাত ধরে গুটিগুটি পায়ে স্কুলে গেল শব্দময়। একই বয়সের সব ছোটো ছোটো ছেলেমেয়ে, রঙিন প্রজাপতি যেন, কখনো হাসছে, কখনো খেলছে, দৌড়চ্ছে। স্কুল-বাড়িটা সারাদিন গমগম করছে এই কলতানে।

এত আওয়াজ ভালো লাগে না শব্দময়ের। মাথার ভিতরে খুব কষ্ট হয়। মনে হয় কেউ যেন পাথর ঠুকে ঠুকে তার মাথায় মারছে, মনে হয় মাথাটা ফেটে চুরমার হয়ে যাবে। স্কুলে তাকে কেউ বোঝে না, কেউ ভালোবাসে না। তার মতো ছেলেমেয়েরা সবাই এমন কেন? সারাক্ষণ এত আওয়াজ করে কেন? ওদের কারুর কষ্ট হয় না? সে একদিন ক্লাস টিচার আন্টিকে বলেছিল তার কাউকে ভালো লাগে না স্কুলে। সবাই এত কথা বললে সে তো ওদের কথা শুনতেই পায় না। ওই ওরা যারা তাকে ফিসফিস করে ডাকে, কত কথা বলে, কিন্তু স্কুলে এলে তো সেসব কিছুই শুনতে পায় না। এত আওয়াজে চাপা পড়ে যায় যে। কিন্তু আন্টি সেদিনই তার গার্জিয়ান কল করে দিলেন। শব্দময় নাকি কারুর সঙ্গে মিশতে পারছে না, অদ্ভুত সব অজুহাত তৈরি করছে।

হিরণ্ময় আর প্রমিতা কিছুটা আন্দাজই করতে পেরেছিলেন, শব্দময়ের স্কুলে সমস্যা হতে পারে। যে ছেলে বাড়িতেই বাবা-মায়ের সঙ্গে দুয়েকটার বেশি কথা বলে না, আর পাঁচটা স্বাভাবিক শিশুর মতো বাবা-মায়ের সঙ্গে কোনো বন্ধনই তৈরি হয়নি, এ কোন অচেনা এক মানুষ তৈরি হচ্ছে তাঁদের আত্মজ! কথা বলতে হবে তাঁদের ছেলের সঙ্গে। এমন অদ্ভুত কেন সে, জানতেই হবে।

বাবা-মা কীভাবে যেন কথা বলে। ভালো লাগে না শব্দময়ের। এত জোরে জোরে সবাই কথা বলে কেন? বাবা, মা, মালতীপিসি, স্কুলের আন্টিরা, ওই বাচ্চাগুলো যারা বন্ধু হতে চায়। আর কী অদ্ভুত ভাষা! বুঝতে কষ্ট হয় শব্দময়ের। তার থেকে ওরা কী সুন্দর কথা বলে। ওরা মানে যারা বাড়ির সামনে রাস্তায় ঘুরে বেড়ায়, মা দুপুরে রাতে ওদের খেতে দেয়, ওরা লেজ নাড়ায়। মা ওদের কী যেন বলে? ও হ্যাঁ, কুকুর। বাড়ির সামনে ওরা ডাকাডাকি করলেই মা বকুনি দিয়ে তাড়িয়ে দেয়। কুকুর ডাকা নাকি অমঙ্গল। কিন্তু ওরা তো শব্দময়কে ডাকতে আসে, ওর সঙ্গে গল্প করে, কত কথা জানায়! ছোটো ছোটো সাদা কালো হলুদ বিড়ালগুলোও অনেক কথা বলে, তবে ওরা সারাক্ষণই খাই খাই করে, আর নয়তো পা ছড়িয়ে ঘুমিয়ে থাকে। খুব আলসে। আজকাল আরো অনেক নতুন বন্ধু হয়েছে শব্দময়ের। তারা অবশ্য সবসময় থাকে না। কিন্তু যখন আসে তখনই অনেক দূরদূরান্তের খবর নিয়ে আসে। খুব তাড়াতাড়ি এখান থেকে ওখানে চলে যায় ওরা। আকাশে উড়ে উড়ে যায় তো। মা ওদের নাম বলেছে। কতরকম নাম! শালিক, চড়ুই, বুলবুলি, কোকিল, ফিঙে, কাক। ওদের কাছ থেকেই তো শব্দময় জানতে পারে সারা শহরের খবর—কোথায় কী হচ্ছে, কে কী বলছে সব। ওরাই তো বলে মানুষ কত স্বার্থপর। কত মানুষ ওদের খাঁচায় আটকে রাখে, ওদের উড়তে দেয় না, কষ্ট দেয়। তারপর থেকেই তো শব্দময় মানুষদের খুব একটা পছন্দ করে না, আশেপাশের মানুষদের থেকে দূরে দূরেই থাকে। তার মা-বাবা অবশ্য আলাদা। ওরা খুব ভালো।

যতবারই প্রমিতা শব্দময়কে জিজ্ঞাসা করেছেন ওর কী কষ্ট হচ্ছে, কেন ও অন্য সবার মতো করে হাসিগল্প করে না, খেলাধুলো করে না, ততবারই একই উত্তর পেয়েছেন, ‘একটুখানি আস্তে আস্তে কথা বলো না গো তোমরা। আমার খুব কষ্ট হয়। ওদের কথা শুনতে পাই না। ওরা কত আস্তে কথা বলে।’

হিরণ্ময় কিছুই বুঝতে পারছিলেন না। এ কি তাঁর নিজের সন্তান? শুধু এটুকুই ভাবতে পারছিলেন, খুব তাড়াতাড়ি সুস্থ করে তুলতে হবে শব্দময়কে। আর তার জন্য প্রয়োজন চিকিৎসকের পরামর্শ। শুরু হল সন্ধান। প্রথমেই ই.এন.টি বিশেষজ্ঞের কথা মনে হল তাঁদের। হল সমস্তরকম পরীক্ষা। কিন্তু সব রিপোর্ট একেবারে নর্মাল। শব্দময়ের কানে কোনো সমস্যাই নেই। সম্পূর্ণ সুস্থ, স্বাভাবিক সে। বদলানো হল ডাক্তার। দ্বিতীয়, তৃতীয়, চতুর্থ মতামত। সব জায়গাতেই একই কথা, ‘আপনার ছেলের অডিটারি ক্যানাল একদম ঠিক আছে, কোনোরকম ইনফেকশন বা অ্যাবনর্মালিটি নেই। সাউন্ড রিসেপশনও পারফেক্ট। ও স্পষ্ট সবকিছু শুনতে পাচ্ছে।’ হিরণ্ময় ভেবে পেলেন না কীভাবে বোঝাবেন যে ও শুধু শুনতেই পায় তা নয়, কিছু বেশিই শুনতে পায়, আর সেটাতেই সমস্যা।

হিরণ্ময়ের এক বন্ধুর পরামর্শে তাঁরা যোগাযোগ করলেন মনোরোগ বিশেষজ্ঞের সঙ্গে। চলতে থাকল একের পর এক সেশন। কথাবার্তায় জানা গেল শব্দময় শুনতে পায় এমনসব শব্দ, যা সাধারণ মানুষের ক্ষমতার ঊর্ধ্বে। শুধু শুনতেই নয়, সে বুঝতে পারে সেই শব্দের অর্থ, কমিউনিকেশনের সংকেত। নিম্নতর প্রাণী যেমন কুকুর, বিড়াল, পাখি, ব্যাঙ, টিকটিকি সবার ভাষাই বুঝতে পারে সে। সমস্যার সূত্র নির্ধারিত হল, কিন্তু সমাধান মিলল না। বিভিন্ন সাইক্রিয়াট্রিস্ট স্পষ্ট জানিয়ে দিলেন এই বিরলতম ঘটনায় তাঁরা নিজেরাও বিস্মিত।

খবর ছড়িয়ে পড়তে দেরি হল না। বেশ কয়েকটি প্রথম সারির দৈনিকে ‘বিস্ময় বালক’ শিরোনামে লোকসমাজের সামনে চলে এল শব্দময়। তবে তার নিঃস্পৃহতা এবং বিভিন্ন সমাজ রক্ষক সমিতির ‘গুজবে কান দেবেন না’ আখ্যায় তা ধামাচাপা পড়তেও সময় লাগল না। হাঁপ ছেড়ে বাঁচলেন হিরণ্ময় ও প্রমিতা। তাঁদের আদরের একমাত্র সন্তানকে নিজের মতো করে বেড়ে উঠতে দিতে হবে, আগলে রাখতে হবে।

পৃথিবীর সমস্ত কৌতূহলকে উপেক্ষা করে একান্তে শুরু হল শব্দময়ের বড়ো হওয়া। বাড়িতেই বাবা-মা তাকে পড়াশোনার প্রাথমিক শিক্ষাদান শুরু করলেন। পাশাপাশি চলল কাউন্সেলিং, পুরোপুরি স্বাভাবিক না হলেও যাতে কিছুটা অন্তত সাধারণ আচরণে অভ্যস্ত হয় সে। আর শব্দময় কী শিখতে থাকল? গাছদের ভাষা, পিঁপড়ে, প্রজাপতি, শামুকের ভাষা। যত দিন যায়, ক্ষুদ্র থেকে ক্ষুদ্রতর প্রাণ এসে শুনিয়ে যায় তাদের গোপন জীবনগাথা, উন্মুক্ত হয় এক রহস্যময় জগত, পৃথিবীর মধ্যেই এক অন্য পৃথিবী।

***

সেদিন শব্দময়ের জন্মদিন। একে একে ষোলো বছর ধরে সে নিজেকে মানিয়ে নিয়েছে এই অন্যরকম পৃথিবীতে। মানুষের কণ্ঠস্বরে অভ্যস্ত হয়েছে ক্রমশ। এখন আর অত কষ্ট হয় না। আজকাল মা-বাবা ছাড়াও দুয়েকজনের সঙ্গে অল্পস্বল্প কথা বলে সে। তাঁদের মধ্যে আছেন তার গৃহশিক্ষক অর্জুনদাদা, পাশের বাড়ির মেয়ে মিলি আর ডাক্তার আঙ্কেল, মানে তার সাইক্রিয়াট্রিস্ট ডাক্তার সেনগুপ্ত। মাঝে মাঝে কথা বলতে মন্দ লাগে না। সে একটা নিজস্ব ডায়েরিও তৈরি করেছে বেশ কিছুদিন ধরে। সেখানে লম্বা লিস্ট তার প্রিয়জনদের—পাঁচজন মানুষ, এগারোটা কুকুর, আটটা বিড়াল, পাশের বাড়ির দুটো খরগোশ, একান্নটা পাখি, এক ডজন কাঠবিড়ালি, বাইশটা টিকটিকি, ঊনআশিটা মাকড়শা, দেড়শো গাছ, সতেরশো মাছি, তেরো হাজার বিভিন্নরকমের পিঁপড়ে, আরো কত কী! রোজই যুক্ত হচ্ছে নতুন নতুন প্রজাতি আর তাদের সংখ্যা।

মা-বাবাকে এখন আর এসব বলে বিরক্ত করে না সে। মা-বাবার কাছে সে বড়োই অদ্ভুত। খুবই ভালোবাসেন ওঁরা, তবে একটা যেন ভয়ও লুকিয়ে থাকে কোথাও। তাই বেশিরভাগ সময়ই নিজের কথা নিজের কাছে রাখে, কখনো কখনো অর্জুনদাদাকে বলে। অর্জুনদাদা একটু হলেও বোঝে তাকে, অন্তত বাবা-মায়ের মতো চিন্তিত বা ভীত হয় না।

সন্ধ্যাবেলা একটা ছোটোখাটো অনুষ্ঠান হয় বাড়িতে, প্রতি জন্মদিনেই হয়। শুধু এই কাছের চার-পাঁচজনকে নিয়ে। ছোটো একটা কেক কাটা, এক চামচ পায়েস, দাদুর ছবিতে প্রণাম আর দুয়েকটা উপহার পাওয়া। এই যেমন গতবছর পেয়েছিল একটা বড়সড় আতসকাচ, সে-ই আবদার করে নিয়েছিল। এবছর চেয়ে রেখেছে একটা সাউন্ড অ্যামপ্লিফায়ার। বাবা প্রমিস করেছে আঠারোতম জন্মদিনে উপহার দেবে একটা কম্পাউন্ড লাইট মাইক্রোস্কোপ।

বারান্দায় বেতের চেয়ারে বসে একমনে ঝিঁঝিঁর ডাক শুনছিল শব্দময়। ওদের আজ মনখারাপ। শীতকাল আসবে আসবে করছে। এখন তো শীতঘুমে যাওয়ার সময়, কতদিন দেখা হবে না শব্দময়ের সঙ্গে। অদ্ভুতভাবে ওদের কথা বুঝতে পারলেও ওর কথা ওরা কেউই বুঝতে পারে না, কোনো পশুপাখিই নয়। তাই ইচ্ছে হলেও শব্দময় জানাতে পারল না তার জন্মদিনের খবর।

তখনই ডাক্তার আঙ্কেলের সঙ্গে বাড়িতে এলেন একজন নতুন ভদ্রলোক। মা-বাবার সঙ্গে কথা বলেই ভদ্রলোক সোজা চলে এলেন শব্দময়ের সামনে। ডানহাত বাড়িয়ে বললেন, “হ্যালো, আমি ডক্টর বর্ধন, তোমার আরেকজন ডাক্তার আঙ্কেল। ইয়াং ম্যান, এখন থেকে আমি মাঝে মাঝেই তোমার সঙ্গে গল্প করতে চলে আসব, কেমন?”

শব্দময়ের হাসতে ইচ্ছে করল না। যদিও তার জন্মদিন, অভদ্রতা করা উচিত নয়, কিন্তু কিছুতেই যেন এই মানুষটাকে পছন্দ করতে পারছে না সে। মন খুলে গল্প করা তো দুরস্ত, একটা কথাও বলতে ইচ্ছে করছে না। তারপর থেকে যতক্ষণ ডাক্তার বর্ধন বাড়িতে রইলেন, সর্বক্ষণই তাঁর দৃষ্টি একদম স্থির হয়ে ছিল শব্দময়ের মুখে। একটা চাপা অস্বস্তি নিয়ে রাতে ঘুমোতে গেল শব্দময়।

সকালে উঠেই হিরণ্ময় চায়ের কাপ হাতে কাগজ খুলে বসেন। রোজকার নিয়ম তাঁর। প্রায় সব খবরে চোখ বুলিয়ে কাগজ মুড়ে রেখে উঠতে যাবেন, হঠাৎ চোখ আটকে গেল তৃতীয় পাতার এককোণে একটা খবরে। সুদূর জাপানে নাকি এক অদ্ভুত রোগ হানা দিয়েছে। প্রথমে জ্বর, তারপর শ্বাসকষ্ট। কেড়ে নিচ্ছে হাজার হাজার প্রাণ। বিজ্ঞান অতটা না বুঝলেও এটুকু বুঝতে পারলেন, সংক্রমণ বেশ ভয়াবহ রূপই নিয়েছে। ক্রমশ নাকি ছড়িয়ে পড়ছে ইউরোপের কয়েকটা ছোটো দেশে। আবার কী যে শুরু হবে পৃথিবীতে! একেই যুদ্ধ বিদ্রোহ নিয়ে ওষ্ঠাগত প্রাণ, তার ওপর এল কী এক অদ্ভুত ব্যাধি। যাই হোক, তাঁর মতো আদার ব্যাপারীর জাহাজের খবরে কী দরকার। বরং শব্দময়কে ডাক্তার বর্ধনের কাছে নিয়ে যেতে হবে। ডাক্তার বর্ধন বিখ্যাত নিউরোলজিস্ট, দেশে বিদেশে খুব সুনাম। ডাক্তার সেনগুপ্তও পরামর্শ দিয়েছেন ওঁকে একবার দেখিয়ে নিতে, যদি কিছু উপকার হয়। এদিকে শব্দময়ের কেন যেন ওঁকে তেমন পছন্দ হয়নি, জন্মদিনের দিন থেকেই লক্ষ করেছেন হিরণ্ময়। প্রমিতাই অনেক বুঝিয়ে-সুঝিয়ে রাজি করিয়েছেন ওকে।

ঝকঝকে চেম্বারের স্নিগ্ধ আলো চোখকে আরাম দেয়। কয়েকটা পাতাবাহার ইতস্তত সাজানো ঘরের কোনায় কোনায়। এই নিয়ে বার তিনেক ডাক্তার বর্ধনের পার্ক স্ট্রিটের এই চেম্বারে এসেছে শব্দময়। অস্বস্তি সত্ত্বেও বাবা-মায়ের মন রাখতেই ডাক্তারের সঙ্গে সহযোগিতা করে চলেছে সে। বলেছে তার বিশেষ ক্ষমতার কথা, যত বয়স বাড়ছে ততই বাড়ছে সেই ক্ষমতা। এখন সে বুঝতে পারে আণুবীক্ষণিক কীট, এককোষী প্রোটোজোয়াদের ভাষাও। এসব শুনে এক ঝলক চকচক করে উঠেছিল ডাক্তারের চোখ। কিন্তু তিনি অন্যান্য ডাক্তারদের মতো বিস্ময়ে অভিভূত হয়ে পড়েননি বরং শুনিয়েছিলেন আশার বাণী। শব্দময়ের অডিটারি নার্ভের কোষ পরীক্ষা করে দেখতে চান তিনি। হিরণ্ময় ও প্রমিতা শেষ অবলম্বন হিসেবে আঁকড়ে ধরেছেন তাঁর এই পরামর্শ। যত তাড়াতাড়ি সম্ভব ডাক্তার বর্ধন এই পরীক্ষা করতে চান বলে জানিয়েছেন। এদিকে সারা পৃথিবীর অবস্থা দুর্বিষহ, জাপানি রোগ হানা দিয়েছে বিশ্বের কোণে কোণে। মহামারী কেড়ে নিয়েছে অসংখ্য প্রাণ। মাত্র দু-দিন আগেই কলকাতায় তার প্রথম পদক্ষেপ ধরা পড়েছে। সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়তে বেশি সময় নেই আর।

ডাক্তার বর্ধনের চেম্বারের ওয়েটিং লাউঞ্জে বসে এসবই ভাবছিলেন হিরণ্ময়। শব্দময় আনমনে অন্য একদিকে বসে আছে। ঘরে বেশি লোকজন নেই, দুজন বয়স্ক ভদ্রলোক আর একজন কলেজ পড়ুয়া মেয়ে। শব্দময় হঠাৎ হঠাৎ চমকে উঠছে আর মেয়েটির দিকে তাকাচ্ছে। এরকম ব্যবহার তো আগে কখনো করেনি। মেয়েদের সম্পর্কে তো আলাদা কোনো কৌতূহল কখনোই ছিল না ওর। মিলি আর ও তো একসঙ্গেই বেড়ে উঠেছে, এখনো একসঙ্গেই সময় কাটায় প্রায়ই। আসল কারণটা কী পরে জেনে নিতে হবে হিরণ্ময়কে। এর মধ্যেই তাঁদের ডাক এল ভিতর থেকে।

শব্দময় যেন ছুটে চলে গেল ভিতরে। কিছু একটা হয়েছে তার। এমন কিছু যা তাকে জানাতে হবে ডাক্তার বর্ধনকে। হাঁপাতে হাঁপাতে ধপ করে বসে পড়ে চেয়ারে, উত্তেজনায় থরথর করে কাঁপছে। ডাক্তার বর্ধন এক গ্লাস জল এগিয়ে দেন তাকে, ঠান্ডা গলায় শান্ত হতে বলেন। এক ঢোঁক জল খেয়ে কিছুটা ধাতস্ত হয়ে শব্দময় যা বলল তাতে ঘরের মধ্যে যেন একটা ছোটোখাটো ভূমিকম্প হয়ে গেল।

“বর্ধন আঙ্কেল, ওরা এসে গেছে! ওরা এখানেও এসে গেছে! একজন নয়, লক্ষ লক্ষ জন। সব ধ্বংস করে দেবে। ওই মেয়েটা… বাইরের ওই মেয়েটার সারা গায়ে ছড়িয়ে আছে। ওরা কথা বলতে পারে। ওরা সব করতে পারে। নিজেদের পালটে ফেলে প্রতিমুহূর্তে। ওরা ভয়ংকর, ওরা জীবাণু। ওরা জাপান থেকে এসেছে, সারা বিশ্বে ছড়িয়ে গেছে। আমি শুনেছি ওরা বলছে কীভাবে ওরা পালটাবে নিজেদের, কীভাবে ব্যর্থ করবে সমস্ত চিকিৎসা। আমি সব শুনেছি। ওদের আটকাতেই হবে আঙ্কেল, নইলে আমরা কেউ বাঁচব না।”

এতগুলো কথা একসঙ্গে এই প্রথম বলল শব্দময়। কতটা চিন্তিত সে বোঝা যাচ্ছে।

ডাক্তার বর্ধন শুধু বললেন, “ঠিক আছে, দেখা যাবে। তুমি অত ভেবো না। আগে তোমার চিকিৎসা শুরু করা দরকার।”

সারারাত ঘুম হল না ডাক্তার বর্ধনের। মাথার মধ্যে শব্দময়ের কথাগুলো ঘুরপাক খাচ্ছে। কী বলছিল ছেলেটা? জীবাণুদের ভাষা বুঝতে পারছে? অবশ্য তা হতে পারে। অডিটারি নার্ভের পরীক্ষাও তো সেরকমই ইঙ্গিত করছে। সাধারণ স্নায়ুকোষ ছাড়াও তো সেখানে রয়েছে বিশেষ কিছু সেল, একদম অন্যরকম, অনেকগুণ বেশি ক্ষমতাসম্পন্ন, সাংঘাতিক রিসেপশন ক্ষমতা। ডাক্তার বর্ধন বুদ্ধি করে বেশ কিছুটা বিশেষ সেলের নমুনা কালচার করতে রেখেছেন। কয়েকদিনের মধ্যেই বোঝা যাবে কোষ বৃদ্ধির হার। সাধারণ স্নায়ুকোষের বৃদ্ধি হয় না, তবে এই বিশেষ সেল হয়তো সংখ্যায় বাড়তে পারে। বয়সের সঙ্গে সঙ্গে শব্দময়ের ক্ষমতা বৃদ্ধি পাওয়া সেটারই ইঙ্গিত দিচ্ছে।

কিন্তু ডাক্তার বর্ধনের মনের ভিতরে যে একজন কথা বলে চলেছে। যদি এই বিশেষ সেলের গঠন ও বৃদ্ধি হাতের মুঠোয় এসে যায় তাহলে তো বানানো যেতেই পারে এক কৃত্রিম যন্ত্র। সেই যন্ত্র খবর আনবে এই জীবাণুদের, পৃথিবী হয়তো বেঁচে যাবে এই ধ্বংসের হাত থেকে। কিন্তু তা কি এমনি এমনি হতে দেওয়া যায়? পৃথিবীকে বাঁচানোর সঙ্গে সঙ্গে যদি নিজের পকেটও ভরে তাহলে মন্দ কী! হ্যাঁ সেটাই ভালো। তবে আগে তো কালচার রিপোর্ট আসুক।

সপ্তাহ দুয়েক পরে দেখা গেল কালচার প্লেটে ব্যাপক বৃদ্ধি হয়েছে শব্দময়ের বিশেষ স্নায়ুকোষের। এমনকি স্বাভাবিক নিয়মে সেল-ডেথ পর্যন্ত হয়নি। এরপর শুরু হল ডাক্তার বর্ধনের আসল পরীক্ষা। আর্টিফিশিয়াল সেন্সর যুক্ত করে কোষের বার্তা ডিকোড করার চেষ্টা চলতে থাকল। বেশ কয়েকবার ব্যর্থতার পরে একদিন হঠাৎ মনিটরে ফুটে উঠল রিসেপশনের সংকেত। এক বিশেষ সফটওয়্যার নির্দেশ দিল বার্তার মর্মোদ্ধারের। আনন্দে চিৎকার করে সারা পৃথিবীকে জানান দিতে ইচ্ছে করল ডাক্তার বর্ধনের। মনে মনে যন্ত্রের নামও ঠিক করে ফেললেন—‘শব্দকল্প’।

কিন্তু না, এখনই নয়। আগে প্রত্যক্ষ প্রমাণ চাই জীবাণুর সংকেতের। তাতেও অবশ্য সময় লাগবে না বিশেষ। শুধু এই নির্দিষ্ট জীবাণু আক্রান্ত কিছু পেশেন্টের লালারসের নমুনা আনলেই হয়ে যাবে। এটা তো ডাক্তারের পক্ষে দু-মিনিটের কাজ। তবে তার আগে আরেকটা কাজ শেষ করতে হবে। তাঁর এই গবেষণার একমাত্র কাঁটা শব্দময়। শব্দময়ের কানের ভিতরে এই কোষগুলিকে একদম ধ্বংস করে দিলে কেমন হয়? আর কেউ থাকবে না তাঁর এই শ্রেষ্ঠত্বের দাবিদার। আহা রে, বেচারা জানতেও পারবে না কী সম্পদ সে দিয়ে গেল তাঁকে। অজান্তেই মুখ দিয়ে একটা চুকচুক আওয়াজ বেরিয়ে এল ডাক্তার বর্ধনের।

***

গত সাত-আট মাসে শব্দময়ের জীবনটা অনেক পালটে গেছে। বাবা-মায়ের চোখে সে এখন সম্পূর্ণ সুস্থ স্বাভাবিক এক কিশোর। পড়াশোনায় সমবয়সীদের থেকে একটু পিছিয়ে থাকলেও খুব তাড়াতাড়ি সে তাদের ছুঁয়ে ফেলবে। আগের মতো মাথার মধ্যে কষ্ট নেই, সবার সঙ্গে স্বাভাবিক ব্যবহার করে, একাচোরা ভাবটাও যেন অনেকটা কম। ডাক্তার বর্ধনের কাছে কৃতজ্ঞতার শেষ নেই ওঁদের। কোন এক মন্ত্রবলে উনি ওঁদের একমাত্র সন্তানকে ফিরিয়ে দিয়েছেন, ঠিক ওঁরা যেমনটি চাইতেন, তেমনভাবেই। কিন্তু শব্দময়? সে কি খুশি হতে পেরেছে এই নতুন জীবনে? না। হারিয়ে গেছে তার অসংখ্য বন্ধু। জীবাণু কবলিত গৃহবন্দী এই পৃথিবীতে আজ সে সম্পূর্ণ একা। কেউ তাকে অজানা বিশ্বের খবর শোনায় না, কেউ তার সঙ্গে গল্প করে না। কুকুরের ডাক এখন শুধুই ‘ভৌ ভৌ… ভুক’। হারিয়ে গেছে তার সব পাওয়া, হারিয়ে গেছে ষোলোটা বছর, হারিয়ে গেছে সে নিজেই। আজকাল আর ডাক্তার বর্ধনের কাছে যাওয়ার প্রয়োজন পড়ে না। অবশ্য তার সেই কানের অপারেশনের পর থেকে ডাক্তার বর্ধনও নাকি আর লোকসমাজে বেরোন না। প্র্যাকটিসও বন্ধ। তাঁর নাকি কী একটা ভয়ানক ক্ষতি হয়ে গিয়েছে, কোন এক গবেষণা শেষমুহূর্তে ব্যর্থ হয়েছে। তিনি এখন হতাশাগ্রস্ত, চিকিৎসাধীন।

যাই হোক, শব্দময়ের সারাটা দিন এখন কাটে দাদুর ঘরে। দাদুকে সে কোনোদিন দেখেনি। তবে বাবা-মায়ের কাছে শুনেছে তার নামটাও নাকি দাদুরই দেওয়া। দাদুর ছবি দেখে মানুষটাকে খুব ভালোবেসে ফেলেছে সে। যদিও শুনেছে, দাদুর ঘরে বাইরের লোক ঢোকা তিনি একেবারেই পছন্দ করতেন না, তবুও সে জানে দাদুর নাতি ঢুকেছে বলে দাদু নিশ্চয়ই রাগ করবেন না। দাদুর ঘরে এটা ওটা নাড়াচাড়া করে কখন যে দিন কেটে যায় বোঝাই যায় না। পুরনো টাইম পিস, ঝরনা কলম, দাদুর রুপো বাঁধানো ছড়ি, ফটো অ্যালবাম, হলুদ হয়ে যাওয়া চিঠিপত্র, পিতলের নস্যির কৌটো—সবেতেই কেমন দাদুর গন্ধ লেগে থাকে। একদিন এই ঘাঁটাঘাঁটির ফাঁকে তার হাতে এসে পড়ল বাদামি চামড়ায় বাঁধানো একটা পুরোনো ডায়েরি। সোনার জলে লেখা, ডঃ জগন্ময় ভৌমিক। পাতা ওলটাতে ওলটাতে শেষ লেখা পাতাতে চোখ আটকে গেল।

৫ই অগ্রহায়ণ, সন ১৪১১

আজ বৌমার কোল আলো করে এল আমার বংশপ্রদীপ, আমার শব্দময়। অনেক আশা, অনেক স্বপ্নের বীজ বুনেছি ওর জন্য। আমার সারাজীবনের গবেষণার ফসল সার্থক করবে ও। আমি হয়তো থাকব না তখন, কিন্তু দেখব সবই। আমার শব্দবীজ বৌমার শরীরে প্রবেশ করেছে এতদিন ধরে তিলে তিলে। তা সফল না হয়ে যায় না।

বৌমা, আমি অপরাধী তোমার কাছে। আমাকে ক্ষমা কোরো মা। তোমার অজ্ঞানতার সুযোগে দিনের পর দিন ভিটামিন ক্যাপসুলের নাম করে খাইয়েছি এই বিশেষ ওষুধ, শব্দবীজ। তবে আমার কোনো খারাপ উদ্দেশ্য ছিল না মা। তোমার আগত সন্তানের হিতার্থেই করেছি এই কাজ। সফল হলে সারা বিশ্বে ছড়িয়ে পড়বে ওর নামযশ। ও যে শুনতে পারবে সমস্ত প্রাণের শব্দ, ছোটো হোক বা বড়ো। বুঝতে পারবে তাদের কথা, তাদের ভাষা। তবে শুধু ও একাই, আর কেউ নয়। এই ওষুধ কাজ করবে শুধুমাত্র মাতৃগর্ভে থাকা শিশুর ওপর, নাড়িবাহিত হয়ে। জন্মের পরে এই ওষুধ প্রয়োগ নিষ্ফল। শব্দবীজের প্রভাবে সৃষ্টি হবে বিশেষ ধরনের কোষ। এই কোষ যে-কোনোরকম শব্দগ্রহণে সক্ষম। তবে যদি একবার এই কোষ নষ্ট হয়ে যায়, আর কখনোই তার পুনর্গঠন সম্ভব নয়, শরীরের ভিতরে, কিংবা কৃত্রিম উপায়ে শরীরের বাইরে।

আমি বুঝতে পারছি আমার আয়ু ফুরিয়ে আসছে। তাই এই স্বীকারোক্তি। পারলে এই বুড়ো বাবাকে ক্ষমা কোরো তোমরা। অনেক আশীর্বাদ দাদুভাইয়ের জন্য। আমার শব্দময় একদিন শব্দজয় করবেই।

ডায়েরি বন্ধ করে বেশ কিছুক্ষণ চুপ করে বসে থাকে শব্দময়। দাদু এত স্বপ্ন দেখেছিলেন তাকে নিয়ে! অথচ সে তো পারল না সেই স্বপ্নপূরণ করতে। আর কিছুদিন আগে যদি ডায়েরিটা পেত! কিন্তু হাল ছাড়বে না সে। একদিন ঠিক তৈরি করবে নতুন শব্দবীজ। তার জন্য পড়াশোনা করতে হবে। অনেক বড়ো হতে হবে তাকে, দাদুর মতো বড়ো। শব্দময় প্রস্তুত।

জয়ঢাকের সমস্ত গল্প ও উপন্যাস

 

1 thought on “গল্প-শব্দময়-সুনন্দিনী ঘোষ- শীত ২০২০

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out /  Change )

Google photo

You are commenting using your Google account. Log Out /  Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out /  Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out /  Change )

Connecting to %s