TOYঢাক-আমার দৃষ্টিতে তারাপীঠ ভ্রমণ-সুবর্ণা পাল-বর্ষা২০২৩

(সপ্তম শ্রেণি, কাত্যায়ণী গার্লস হাইস্কুল, নৈহাটি)

এই লেখকের আগের লেখা- একটি মেয়ের সাফল্যের গল্প

toydhak85002

আমরা নৈহাটি থেকে ‘মা তারা এক্সপ্রেস’ ট্রেন করে ‘তারাপীঠ রোড’ নামক স্টেশনে নামলাম। আমরা পাঁচ-সাড়ে পাঁচ ঘণ্টার মধ্যে নৈহাটি থেকে তারাপীঠ পৌঁছে গেলাম। তারপর টোটো করে আমরা আমাদের হোটেলে যাওয়ার রাস্তায় রওনা দিলাম। রাস্তাটির দুই পাশ খুব আকর্ষণীয় ছিল কারণ, দু-পাশে কখনো-কখনো খোলা মাঠের মতো চাষের ক্ষেত, আবার কখনও মাটির দোতলা বাড়ি। দলে আমরা বাবা, মা, মাসি, মেসো ও বাকি সবাই মিলে সাতজন ছিলাম। আমরা কেউ কোনোদিন মাটির দোতলা বাড়ি দেখিনি। এই দৃশ্য দেখতে দেখতে আমরা কখন হোটেলে পৌঁছে গেছি বুঝতেই পারলাম না। আমাদের হোটেলের নাম হল শান্তিনিকেতন। সেখানে ব্যাগ রেখে আমরা কাছাকাছি একটি শুদ্ধ নিরামিষ রেস্তোরাঁয় গেলাম। সেখান থেকে বেরিয়ে পাশের গলি দিয়ে আমরা তারাপীঠ মন্দিরের কাছে মহাশ্মশানে গেলাম। ওহ্‌! আমি বলতে ভুলে গেছি যে আমাদের হোটেল মেন রাস্তার একটি গলিতে আছে। সেখান থেকে বেরিয়ে রাস্তার উলটোদিকে একটু গিয়ে ‘তারা মা সরণি’ বলে যে রাস্তা সেখানে মন্দির ও মন্দিরের উলটোদিকে মহাশ্মশান।

এবার বলি কোথায় কোথায় ঘুরেছি।

১) তারাপীঠ মন্দির বা তারা মার মন্দির:

এখানে সাধক বামাক্ষ্যাপা মা চণ্ডীকে তারা মা নামে পুজো করতেন, তাই এই মন্দিরের নাম তারাপীঠ। এখানে সব ভক্তদের মনের ইচ্ছা পূর্ণ হয়। এখানে পুজো দিতে অনেক বড়ো লাইন লাগে, তাই পুজো দিতে অনেক সময় লাগে। পুজোর লাইন শেষ হলে পুজোর ডালা ব্রাহ্মণকে দিয়ে দেওয়া হয়। তিনি মন্ত্র পড়ে পুজো দিয়ে ডালা হাতে দিয়ে দেন। সামনে মা তারার পা থাকে—তাতে প্রণাম করে ভিতরে গিয়ে মা তারার মূর্তি দর্শন করে বাইরে গিয়ে শিবমন্দির দর্শন করে ভিতরের যজ্ঞ দেখে তারপর নীচে নামার পর জুতোঘর বা ডালার দোকান থেকে জুতো নিলাম।

২) মহাশ্মশান বা বার্নিং ঘাট:

মন্দিরের উলটোদিকের গলি দিয়ে কিছুটা গিয়ে ডানদিকের গলি দিয়ে গিয়ে মহাশ্মশান। আমরা শুনেছি এখানে বামাক্ষ্যাপা সাধনা করতেন। মহাশ্মশান মানে যেখানে চিতা কখনও নেভে না। এখানেও যজ্ঞ হয়।

৩) সাধক বামাক্ষ্যাপার জন্মস্থান:

এটি একটি বড়ো বাড়ি মনে হয় বাইরে থেকে দেখে, কিন্তু এর ভিতর পুরোনো মাটির বাড়ি মানে ঘর ও সিঁড়ি আছে। নতুন করে পুরোনো বাড়ির ওপর নতুন বাড়ি তৈরি হয়েছে।

৪) পাতালেশ্বরী মায়ের মন্দির:

এটি একটি রহস্যজনক মন্দির। এর বিষয়ে বেশি কিছু বললাম না। এটি তারাপীঠ মন্দির ‘তারা মা সরণি’-র পাশ দিয়ে যে নদী প্রবাহিত হয়েছে তার ওপর পাশে অবস্থিত এটি বাইরে থেকে দেখতে দোতলা সাধারণ বাড়ির মতো দেখতে। বাড়ির নীচে মা পাতালেশ্বরীর মূর্তি রাখা আছে।

খুদে স্রষ্টাদের সমস্ত কাজের লাইব্রেরি

 

Leave a Reply