
পাঁচ বছুরে শমীকদের ইশকুলে গিয়েছিলাম অনেক লম্বা পথ পাড়ি দিয়ে আর পাহাড় জঙ্গল ছাড়িয়ে। সে ইশকুলের বিরাট উঠোন। তাতে বড়ো বড়ো গাছ। শমীক তার দাদার সঙ্গে সেখানে তীরধনুক নিয়ে খেলে আর আকাশবাতাসের সঙ্গে কথাবার্তা বলে।
তার সাথে তার ঠাম্মার কথাবার্তা শুনতে শুনতে অনেক গোপন তথ্য জানা গেল তার গোটাকয়েক তোমাদের সঙ্গে ভাগ করে নিলাম:à
এক ঝড়ের দিনে মস্তো উঠোনে হাওয়ার সঙ্গে ঘুরতে ঘুরতে শমীক বলে, “জানো ঠাম্মা, সুপুরি গাছের পাতাগুলো না ঘুরে ঘুরে আমায় বাই বাই করছিল।
আবার এক মেঘলা দিনে যখন তাদের পাহাড়ি ইশকুলের মাঠে মেঘেরা নেমে এসেছে তখন মাঠ থেকে একপাক ঘুরে এসেই তার ঘোষণা, “জানো ঠাম্মা আজকে না মেঘ নেমে এসে আমার হাতটা আর মুখটা ছুঁয়ে ছুঁয়ে যাচ্ছিল।”
একদিন তাকে জিজ্ঞেস করলাম, “যাবি নাকি আমাদের সঙ্গে?
শুনে সে তার ছোট্ট তীরধনুকটা হাতে নিয়ে বলে, “ উঁহু। আমি আজ তীর দিয়ে আগে যাবো মেঘের কাছে, তারপর –আকাশে—”
নিশ্চয় যাবে। মেঘগুলো ওর বন্ধু কি না! তার সেই গাছে ভরা ইশকুলের মাঠ আর মেঘেদের ছবি এঁকে দিয়েছে তার ক্লাশ ফাইভের বড় দিদি তানুষ্কা বেহেরা।
খুদে স্রষ্টাদের সমস্ত কাজের লাইব্রেরি