গল্প-রাজামশাই ভ্যানিশ-দোয়েল বন্দ্যোপাধ্যায়-শরৎ ২০২৪

আগের গল্প- লজেন্স, হাতিশিকারী হালুম মামা, সলিউশান এক্স,

golporajamoshaivanish

থানার সামনে এসেই শশী-দারোগার মাথাটা ঘুরে গেল। সবাই জানে, কোনোরকমের ঘোরালো পরিস্থিতি দেখলেই তিনি অজ্ঞান হয়ে যান। থানার সামনে অন্তত পাঁচশো লোকের ভিড়। সবাই চিৎকার করছে—জবাব চাই জবাব দাও, এক্ষুনি ফিরিয়ে দাও, হারাল কেন জবাব দাও! জবাব চাই বললেই দারোগার বুক ধড়ফড় করে। ছোটবেলায় বাবা-মা আর মাস্টারদের কাছে, এখন বউ আর উপরতলার কর্তাদের কাছে এবং সর্বোপরি কাছে জবাবদিহি করে জীবনটা জেরবার হয়ে গেল।

কানাই হাবিলদার শশী-দারোগার চেয়ে বয়সে ছোটো। কিন্তু তার মাথায় বুদ্ধি গিজগিজ করছে। বিপদে পড়লেই তিনি কানাইয়ের সাহায্য নেন। পকেট থেকে মোবাইলটা বের করেই চক্ষু চড়কগাছ। দেড়শোবার ফোন করেছে কানাই। ওরে বাবা, তিনি শুনতেই-বা পেলেন না কেন? মনে পড়ল, রাত্রে ফোনটা সাইলেন্ট মোডে ছিল, আর ঠিক করা হয়নি। মা ভবতারিণীর নাম নিয়ে তিনি কানাইকে ফোন করলেন।—

“কানু রে…”

“কানু আর নেই, এবার ভানুও আর থাকবে না।” বলেই কটাস করে ফোনটা কেটে দিল কানাই।

বুদ্ধি আছে বলে কানাইয়ের খুব ইয়ে হয়েছে আজকাল। তবে ভানুটা কে? ভাবতে ভাবতে যথাসম্ভব ভাবলেশহীন মুখ করে থানায় ঢুকতে গিয়ে মুখোমুখি হলেন সাংবাদিক জিজ্ঞাসু জানার। জিজ্ঞাসুকে দেখে শশী-দারোগা আর একবার অজ্ঞান হওয়ার চেষ্টা কলেন। ধুত্তোর! আজ যে কেন অজ্ঞান হচ্ছেন না কে জানে।

জিজ্ঞাসু চিবিয়ে চিবিয়ে বলল, “আপনার মতো দুঁদে অফিসার থাকা সত্ত্বেও এরকম একটা অনভিপ্রেত, অভূতপূর্ব, অমানবিক, অসাংবিধানিক…”

আগে সাংবাদিকদের এরকম ভ্যানতারা হলে শশী-দারোগা ভয়ানক যাচ্ছেতাই মুখরা জবাব দিয়ে অজ্ঞান হয়ে যেতেন। এখন পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে শিখেছেন তিনি। তাই জিজ্ঞাসুর কথা শুনে শশী-দারোগা হিমালয়ের বরফের মতো মিহি করে হেসে বললেন, “অ দিয়ে অভিধানের সবগুলো শব্দ যদি আপনার বলা হয়ে গিয়ে থাকে তাহলে আমি ভেতরে যাই?” বলেই গেরামভারি মুখ করে ভিতরে ঢুকে গেলেন।

ঢুকেই দেখলেন থানার ভিতরেও গিজগিজ করছে লোক। তাঁর চেয়ারে রানিমা বসে! তিনি হুংকার দিয়ে উঠতে গিয়েও থেমে গেলেন। স্বয়ং উল্কাগড়ের রানি বসে আছেন, তাঁকে কি আর উঠে দাঁড়াতে বলা যায়? গোদের উপর বিষফোঁড়ার মতো তাঁর পাশে দাঁড়িয়ে আছে পেয়ারের বুড়ি দাসি মানদা। তাছাড়াও রয়েছেন মন্ত্রী, সেনাপতি, রাজবৈদ্য, রাজজ্যোতিষী, কয়েকশো সৈন্য এবং আরও অনেক লোক যাঁদের শশী-দারোগা চেনেন না।

ওরে বাবা, এইটুকু থানায় এত লোক ধরল কীভাবে? কানাই মন্ত্রীর সঙ্গে গুজগুজ করে কথা বলছে। বাকি সিপাইরা কেমন যেন ভ্যাবলাপানা মুখ করে বসে আছে। রানি বোধ হয় এতক্ষণ খুব কেঁদেছেন। মানদা জানালার রেলিংয়ে রুমাল নিংড়ে মেলছিল। আচমকা দারোগাকে দেখে অলিম্পিকের দৌড়বীরের মতো ধেয়ে এল।—“বলি সূর্যদেব মাজ গগনে পৌঁচে গেল, আর তুমি বাছা একুন এয়েচ, অ্যাঁ?”

শশী-দারোগা ভয় পেয়ে পিছিয়ে গিয়ে বললেন, “অ্যাই, দারোগাকে সাথ উঁচু গলামে বাত করতা হ্যায়? জেলমে পুরেগা তুমকো!”

দারোগা এর আগে বিহারে ছিলেন তাই মাঝে-মাঝেই হিন্দি বলেন। ভয় পেলে আরও বেশি করে বলেন।

এই কথা শুনে মানদা গালে হাত দিয়ে বলল, “ওমা, কেমন ভাষায় কতা কইচে!”

রানি উচ্চৈঃস্বরে কাঁদতে কাঁদতে বললেন, “ও বাবা হারিয়ে গিয়েছে, তার উপর আবার হিন্দি বলছে গো!”

দারোগা হাতজোড় করে বললেন, “রানিমা, আপনার বাবা হারিয়ে গিয়েছে শুনে খুব খারাপ লাগল। আমি আপ্রাণ চেষ্টা করব তাঁকে খুঁজে দেওয়ার।”

মন্ত্রী গটমট করে এগিয়ে এসে বললেন, “অ্যাই, বাজে কথা বলছেন কেন? ওঁর বাবা কেন হারিয়ে যাবেন? তিনি তো অনেক আগেই মারা গিয়েছেন।”

দারোগা আমতা আমতা করে বলল, “তাহলে কার বাবা হারিয়ে গিয়েছে?”

মন্ত্রী খুব আবেগমথিত কাঁপা স্বরে কপাল চাপড়ে বললেন, “আমাদের সবার বাবা হারিয়ে গিয়েছে দারোগা!”

শশী-দারোগা ধপ করে মাটিতে বসে পড়লেন। সব্বনাশ! একসঙ্গে এতগুলো লোকের বাবা যদি হারিয়ে যায় তাহলে তো খুব মুশকিল। এতজন বাবা, তাঁদের আলাদা আলাদা নাম, উচ্চতা, গায়ের রঙ, কারও টাক আছে তো কারও বাবরি চুল, কেউ নস্যি নেয় তো কেউ পান খায়! এতগুলো তথ্য খাতায় কে লিখবে? কানাই তো চাকরি ছেড়ে দেবে তাহলে!

“ওকি, আপনি থেবড়ে মাটিতে বসে পড়লেন কেন?” মন্ত্রী বললেন।

দারোগা মিনমিন করে বললেন, “না মানে, এতগুলো বাবা, বাবা রে!”

“কী বলছেন ফিসফিস করে?”

কে একজন ভিড়ের মধ্যে থেকে বলল, “বলেছিলাম না দারোগার মাথার ব্যামো আছে!”

তড়াক করে লাফিয়ে উঠলেন শশীভূষণ।—“অ্যাই, কউন বোলা মাথাকা ব্যারাম হ্যায়? সব্বাইকে জেলমে পুরেগা!”

কানাই ছুটে এসে বলল “আপনি একটু শান্ত হয়ে বসুন। কারও বাবা হারায়নি।”

“কোথায় বসব, অ্যাঁ? তোর মাথায়?”

সত্যিই তাই। থানায় তিলধারণের জায়গা নেই। রানি এখন বসে বসে বেদানা ছাড়িয়ে খাচ্ছেন। শেষে একজন সিপাই একটা প্লাস্টিকের চেয়ার এনে বসতে দিল দারোগাকে।

কানাই এসে দারোগার কানে বলল, “রাজামশাই হারিয়ে গিয়েছেন!”

“তবে যে বলল বাবা হারিয়ে গিয়েছে?”

“ধুত্তোর! যা বলছি শুনুন তো! ভোররাতে পোস্টার পড়েছে গোটা রাজ্যে…”

“কীসের পোস্টার?”

“অনেকটা বিজ্ঞাপনের মতো।”

“আ মোলো যা, কীসের বিজ্ঞাপন?”

“এই যে রাজামশাই হারিয়ে গিয়েছেন।”

“বটে? তা কে দিয়েছে বিজ্ঞাপন?”

“আজ্ঞে উনি নিজেই!”

“অ্যাঁ!” বলে দারোগা আবার চেয়ার ছেড়ে মাটিতে বসে পড়লেন।

মানদা মুখ বেঁকিয়ে বলল, “খালি ধপাস করে মাটিতে বসে পড়ে!”

ভিড় থেকে আবার কেউ বলল, “বলেছিলাম না মাথার…”

ভিড় থেকে এই কথা শোনামাত্রই কানাই বিকট চেঁচিয়ে বলে উঠল, “সাইলেন্স! একদম চুপ সবাই। দারোগাবাবু এসে গিয়েছেন। এখন তদন্ত হবে। আমি যাদের যাদের থাকতে বলব তারা ছাড়া সবাই বাইরে গিয়ে অপেক্ষা করুন।”

শশী-দারোগা যেন ধড়ে প্রাণ ফিরে পেলেন। ছলছল চোখে কানাইয়ের দিকে তাকিয়ে বললেন, “তুই আর জম্মে আমার ছেলে ছিলিস রে কানু।”

“এই, নাটক করবেন না তো! দুশো বার ফোন করেছি। একটা হাড়জ্বালানে লোক নিজেই নিজের হারিয়ে যাওয়ার বিজ্ঞাপন দিয়ে বেপাত্তা হয়ে গেল, সেটা রাজ্যসুদ্ধ লোক দেখল আর আপনি দেখতে পেলেন না?”

“না, মানে ইয়ে…”

মন্ত্রী এগিয়ে এসে বললেন, “এই, তুমি এইমাত্র রাজাকে কী বললে?”

কানু খুব বিনয় দেখিয়ে বলল, “কেন মন্ত্রীমশাই, আমি বললুম রাজার মতো একজন জ্বলন্ত প্রতিভা, একজন দৃপ্ত রাজপুরুষ এভাবে হারিয়ে গেলেন!”

“না না, তুমি বলেছিলে…”

“বলি বাছা, তোমাদের এত বাক্যির খেলা শেষ হলে আমাদের রাজাবাবুকেও খুঁজে দিও। কেঁদে কেঁদে রানিমার কী যে বেহাল দশা হয়েছে!” মানদা খ্যানখ্যান করে বলে উঠল।

দারোগা আড়চোখে দেখলেন রানি নখে বেগুনি রঙের নেল-পলিশ লাগাচ্ছেন খুব যত্ন করে। বেহাল দশাই বটে!

মোদ্দা কথা হল, উল্কাগড় কলেজের প্রাক্তন অধ্যাপক গোপাল গড়াই প্রায় ভোররাত থাকতে থাকতে প্রাতঃভ্রমণে যান। তিনিই প্রথম পুবদিকের মস্ত বটগাছের গায়ে এই বিজ্ঞাপন দেখেন। সেখানে লেখা ছিল—

‘আনন্দ সংবাদ!

এই রাজ্যে কোনও যোগ্য লোক নেই, রানি কোনও কথা একবারে বোঝে না, মন্ত্রী রোজ রাজসভায় আসে না, দারোগা কোনও চোর ধরতে পারে না, পুরোহিত পুজোর সময় ভুল মন্ত্র বলে, সাংবাদিকটা আবোলতাবোল খবর ছাপে। আরও অনেক কিছু ইত্যাদি হ্যানত্যান। আমার খুব দুঃখ তাই আমি হারিয়ে যাচ্ছি। প্লিজ আমাকে খোঁজার চেষ্টা কোরো, আর না করলেও আমার বয়েই গেল!

থ্যাঙ্কু।

ইতি—

হারিয়ে যাওয়া রাজামশাই।’

এরকম উদ্ভট বিজ্ঞাপন কেউ কস্মিনকালেও দেখেনি। দারোগা একটু ঘেঁটে গেলেন। কিন্তু সেটা কাউকে বুঝতে দেওয়া যাবে না। তিনি মন্ত্রীর দিকে তাকিয়ে বললেন, “এই, আপনি রোজ রাজসভায় আসেন না কেন?”

মন্ত্রীও ভুরু তুলে বললেন, “তাতে আপনার কী? আপনিও তো চোর ধরতে পারেন না!”

রানির নামে নিন্দে করায় তিনি আবার ফ্যাচ ফ্যাচ করে কাঁদতে শুরু করেছেন।

জিজ্ঞাসু বলল, “এটা সাংবাদিক-মহলের চূড়ান্ত অপমান। আজই ইস্তফা দেব।”

কানাই অনেক কষ্টে সবাইকে চুপ করিয়েছিল। থানা আবার সরগরম হয়ে উঠল।

দেখতে দেখতে তিনদিন কেটে গেল। রাজাকে পাওয়া গেল না। কিন্তু আবার পোস্টার পড়ল।—

‘আনন্দ সংবাদ!

আমি ফিরে এসেছি। কিন্তু ছদ্মবেশে আছি। আমাকে যে ধরতে পারবে আমি তার গর্দান নেব। বুঝবে তখন কত ধানে কত চাল।’

এই শুনে আর কেউ রাজাকে খোঁজে? গর্দানের ভয়ে পুলিশের গুপ্তচররাও হাতজোড় করে থানায় এসে বলল, “দারোগাবাবু, এ-কাজ আমাদের দ্বারা হবে না।”

দারোগা পড়লেন মহা ফ্যাসাদে। ঠ্যাং নাচিয়ে কানাইকে বললেন, “কীরকম হাড়ে বজ্জাত দেখ! এমনিতে হারিয়ে যাওয়া কাউকে খুঁজে দিতে পারলে লোকে পুরস্কার দেয়, আর এ বলে কিনা গর্দান নেবে!”

কানাই বিড়বিড় করে বলল, “গেম খেলছে।”

“কে গেম খেলছে? আমি বলে দু-দিন ধরে মোবাইলের দিকে তাকাইনি পর্যন্ত! কেস নিয়ে নাজেহাল হয়ে যাচ্ছি আর বলে কিনা গেম খেলছে!”

“এই শুনুন, আপনি না ক’দিন পাহাড় বা সমুদ্রে ঘুরে আসুন। আপনার মাথা ঠিকঠাক কাজ করছে না।”

ভেউ ভেউ করে কাঁদতে কাঁদতে দারোগা বললেন, “রাজা না এলে আমি এবার পাগলা গারদে যাব রে কানু!”

কানাই তখন দারোগার কানে কী যেন একটা বলল। আর শুনেই দারোগার মুখ উজ্জ্বল হয়ে গেল।

পরের দিন উল্কাগড়ে এই নিয়ে তিন নম্বর পোস্টার পড়ল।—

‘আনন্দ সংবাদ!

রাজার মঙ্গল কামনায় মা আদ্যাশক্তির পুজো দিয়েছেন শশী-দারোগা। সেই উপলক্ষ্যে দীনদরিদ্রদের ভোজনের ব্যবস্থা করা হয়েছে। দারুণ মেনু, একদম মিস করবেন না! রয়েছে বল্লভগড়ের স্পেশাল ক্ষীরের জিলিপিও! য’টা চান পাবেন।’

বিকেল থেকে থানায় মানুষের ঢল নামল। দীনদরিদ্ররা তো এলই, রইসরাও বাদ গেলেন না। জিজ্ঞাসু এল সবার আগে। রানিও এলেন মানদার সঙ্গে। সবাই অবিশ্যি বলল তারাও রাজার মঙ্গল কামনায় এসেছেন। তবে আসল ব্যাপার যে বল্লভপুরের ক্ষীরের জিলিপি, সে আর বলার অপেক্ষা রাখে না।

খাওয়া-দাওয়া মিটে যাওয়ার পর বেশ রাতের দিকে থানায় চাদর মুড়ি দিয়ে খোঁড়াতে খোঁড়াতে একজন এসে খুব কাতর গলায় বলল, “বাছারা, জিলিপি কি আর আছে?”

একজন সেপাই গোছগাছ করছিল। সে না তাকিয়েই বলল, “আছে চার-পাঁচটা। এত দেরি করে এলে সে-জিনিস থাকে নাকি!”

লোকটা জিলিপির ঝুড়ির দিকে এগোতেই তক্কে তক্কে থাকা বেড়ালের মতো তার উপর ঝাঁপিয়ে পড়ে কানাই বলল, “ধপ্পা!”

চাদর খসে পড়তেই রাজা তোম্বা মুখ করে বললেন, “এটা কিন্তু চিটিং হল।”

শশী-দারোগা ঘাম মুছতে মুছতে বললেন, “আপনার চিটিংয়ের কাঁথায় আগুন! বাপ রে বাপ! নাকে দড়ি দিয়ে ঘোরাল এক্কেরে! নিজে থেকে যাবেন বাড়ি, না চ্যাংদোলা করে নিয়ে যাব?”

রাজা জিলিপি চিবোতে চিবোতে বললেন, “একদম ঠান্ডা হয়ে গিয়েছে। এটা ঠিক করলে না শশী। এমনিতেই তুমি কোনও কাজের নও। তার উপর ঠান্ডা জিলিপি খাওয়াচ্ছ!”

শশী-দারোগা কানাইকে বললেন, “এই, ইসকো আভি জেলমে পুরদো! শুধু শুধু কেন করলেন এমন, অ্যাঁ?”

“তো কী করব শুনি? সারাদিন মন্ত্রীর বকরবকর শুনব আর ওই তালকানা সভাগায়কের গান শুনব? একে বলে অ্যাডভেঞ্চার, বুঝলে? কাকে বলছি? মশা মারতে পারে না দারোগা হয়েছে! মাথার ব্যামো আছে জানতাম আমি।”

“ওটা ভিড়ের মধ্যে থেকে আপনি বলছিলেন?”

“সেটাও বোঝেনি! ঘোড়ার ডিমের দারোগা তুমি।”

“আপনারও ঘোড়ার ডিমের ছদ্মবেশ। সবাই বুঝতে পারছে।”

আবার ধুন্ধুমার লাগছিল, কিন্তু কানাই রাজাকে বুঝিয়ে-সুজিয়ে এক ঝুড়ি গরম জিলিপি-সহ বাড়ি পাঠাল।

দারোগা এক সপ্তাহের ছুটি নিলেন। থানায় এসে কানাইকে বললেন, “কানু রে, দার্জিলিং যাচ্ছি। সমুদ্রের হাওয়ায় একটু তাজা হয়ে আসব।”

কানাই ফিকফিক করে হাসতে লাগল।

সপরিবারে যথাসময়ে স্টেশনে পৌঁছে গেলেন দারোগা। সবে ট্রেনে উঠতে যাবেন এমন সময় হাঁপাতে হাঁপাতে কানাই এসে বলল, “কুটি ছ্যান্সেল!” “অ্যাঁ?” “দূর ছাই! আপনার ছুটি ক্যান্সেল, হারিয়ে গেছে!”

“আবার? এত বুঝিয়ে বাড়ি পাঠালাম, জিলিপিও দিলাম…”

“আরে রাজা নয়, রানিমা। রাগ করেছেন রাজার উপর। আপনি থানায় চলুন।”

“সব্বনাশ!” বলে আবার মাটিতেই ধপ করে বসে পড়লেন দারোগা। হুইসেল দিয়ে ট্রেন তখন স্টেশন ছেড়ে চলে যাচ্ছে আর সেই শব্দে দারোগার পটাং করে মনে পড়ে গেল ভানু তারই ডাকনাম।

জয়ঢাকের সমস্ত গল্প-উপন্যাসের লাইব্রেরি

 

Leave a Reply