বন বন্দুকের ডায়েরি আগের পর্বঃ হাতি হাতি, শঙ্খচূড়ের ডেরায়, আলাদিনের গুহা, শিকারী বন্ধু গোন্দ, হুনসুরের আতঙ্ক… পীর বক্স (১), হুনসুরের আতঙ্ক… পীর বক্স (২), বোয়া সাপের খপ্পরে, বে-ডর লছ্মণ, মানুষখেকো নেকড়ে , নেকড়ে মানুষ সিয়াল, বাঘমারা ভীম, ডাইনি প্যান্থার, মহিষাসুরের খপ্পরে, অরণ্যের সন্তান জুয়াং, জল হুপু, সাদা বাঘ, সামনে ভালুক, পরদেসি ডোম, ডোঙায় চেপে বুনোকুকুর শিকার

প্রতি সহকারী বনপাল,
কোল্লেগাল বিভাগ
কোয়েম্বাত্তুর,
“মাননীয় মহোদয়,
পত্রদ্বারা এক উন্মাদ হস্তীর সংবাদ আপনার গোচরে আনিয়া প্রয়োজনীয় নির্দেশ পাইবার প্রার্থনা জানাইতেছি। এই হস্তী বড়ো দুরাশয়। নিজ জাতির তেত্রিশটি প্রাণীকে মৃত্যুপথে পতিত করিবার পশ্চাত সে তদৃশ রূপের অন্য প্রাণীকূল, যথা আমাদিগের দুগ্ধবতী মহিষ সকলকেও সেই পথে পাঠাইবার জন্য নিতান্তই ব্যস্ত হইয়াছে। সেই উদ্দেশ্যে সে দুই নং ডিভিশনের সকল গ্রামেই আক্রমণ সাধিতেছে। অদ্যপি গবাদিপশু ভিন্ন মনুষ্যনিধনরূপ পাপে সে যদিচ নিমজ্জিত হয় নাই তথাপি এতদঞ্চলের যাবতীয় কুলি ও রায়তসমূহ প্রাণভয়ে নিতান্তই ব্যাকুল হইয়াছে। শ্রীযুক্ত জনাব থিওবোল্ড উপস্থিত এইস্থলে অধিষ্ঠান করিতেছেন। তিনি এই দানবের সংহার কিংবা অন্য কোনো উপায়ে ইহার অত্যাচারের নিরসন করিবার নিমিত্ত আপনার উপদেশপ্রার্থী।
আপনার শীঘ্র উত্তরের প্রত্যাশায়,
আপনার অনুগত ভৃত্য,
এস রামলিঙ্গম।
স্পেশাল রেঞ্জার, এফ এ, মাদ্রাজ বিশ্ববিদ্যালয়”
ওপরের লেখাটা কয়েকবছর আগে সহকারী বনপালকে এক দেশিয় বনকর্মীর চিঠির প্রতিলিপি। মহীশূর প্রদেশের সীমান্তবর্তী কোল্লেগালের বনাঞ্চলে এক পাগলা হাতির কার্যকলাপের এই বিবরণটায় কোনো ভুল ছিল না। এ-জন্তুটার পাগলামোর ইতিহাস খুব বিচিত্র। তার রক্তপিপাসার মূল লক্ষ্য হত তার স্বজাতীয় বা তার সঙ্গে চেহারায় মিল আছে এমন অন্য প্রজাতির জীব।
সে-সময় বেশ কিছুদিন ধরেই কোল্লেগালের পাহাড়ি এলাকা থেকে নেমে আসা হাতির পালের উৎপাতে ক্ষেতখামার নষ্ট হবার অভিযোগ আসছিল কোয়েম্বাত্তুরের কালেক্টর সাহেবের দরবারে। একদল হাতিকে একসঙ্গে গুলি করে মারা সম্ভব নয়। কাজেই ঠিক করা হল যে এদের ধরবার জন্য একটা খেদার বন্দোবস্ত করা হবে। সে-উদ্দেশ্যে পাহাড়ের পাদদেশে কাবেরী নদীর অববাহিকায় বিরাট একটা খেদা তৈরি করে, কয়েকশো হল্লাবাজ দিয়ে তাড়িয়ে এনে তেত্রিশটা হাতির দলটাকে তাতে আটকানো হয়। খেদার কাঠের দেওয়াল আর তাকে ঘিরে রাখা গভীর নালা পেরিয়ে হাতিরা যাতে পালাবার চেষ্টা না করতে পারে তার জন্য চারপাশে পাহারার বন্দোবস্ত রাখা হয়েছিল। অতিরিক্ত সতর্কতা হিসেবে খেদা ঘিরে আগুনের বলয়ও তৈরি করা হয়।
হাতি ধরা নিয়ে সেখানে বেশ একটা উৎসবের মেজাজ তৈরি হয়েছিল। কালেক্টর নিজে ক্যাম্পে এসে আস্তানা নিয়েছিলেন। সঙ্গে ছিলেন উটকামন্ড ও কাছাকাছি অন্যান্য এলাকা থেকে এসে হাজির হওয়া অতিথির দল।
হাতিদের আটক করবার পরদিন তাদের আলাদা করে ধরে ধরে বেঁধে ফেলবার পালা। সে-কাজের জন্য ছটি কুনকি হাতি আনা হয়েছিল ক্যাম্পে। পাশাপাশি আটক দলের মধ্যে কোন বিদ্রোহের সম্ভাবনা দেখা দিলে তা সামাল দেওয়ার জন্য আনা হয়েছিল কয়েকটা বিরাট চেহারার পোষা দাঁতালকে।
আগের দিন আমোদপ্রমোদের শেষে অনেক রাতে খাওয়াদাওয়া সেরে অতিথিরা ঘুমোতে গেলেন। পোষা হাতির দলকে সেদিন নিয়ে যাওয়া হয়েছিল আধমাইল দূরে তাদের জন্য তৈরি করা ঘাঁটিতে।
গভীর রাতে আগুনের ধারে বসে পাহারাদারের দল খানিক ঝিমিয়ে নিচ্ছে, এমন খেদার ভেতর থেকে সময় হাতির ভয়ঙ্কর একটা ডাক শুনে সবাই চমকে ওঠে। ডাকটা ওঠবার সঙ্গে সঙ্গেই সেখান থেকে কসাইখানার শুয়োরের মত আর্তনাদ ওঠা শুরু হয় সেখানকার অন্য কিছু হাতির গলায়। তারপর খেদার ভেতরে শুরু হয় প্রবল হুটোপুটির শব্দ। শব্দ শুনে মনে হচ্ছিল হাতিগুলো ভয়ঙ্কর কিছু একটার হাত থেকে পালাবার জন্য পাগলের মত ছোটাছুটি করে একে অন্যের গায়ে বারবার ধাক্কা খেয়ে উলটে পড়ছে।
হাতিদের হুটোপুটি, পাহারাদারদের চিৎকার, তাদের টমটম, শিঙার আর ঝুমঝুমির বেসুরো শব্দ মিশে শেষরাত্রের জঙ্গল তখন সরগরম হয়ে উঠেছে। হঠাৎ ঘুম ভেঙে উঠে সে-শব্দ শুনে ক্যাম্পের লোকজনও তখন খানিক হতভম্ব হয়ে গেছে। খেদার ভেতর কিছু একটা বড়োসড়ো গণ্ডগোল ঘটেছে সেটা আন্দাজ করলেও ঠিক কী ঘটছে সেটা কেউই কিছু বুঝতে পারছিল না। বেশির ভাগ লোকজন তখন চারপাশের গাছ বেয়ে উঠে খেদার ভেতর উঁকি দিয়ে দেখবার চেষ্টা করছে। তবে অন্ধকারের মধ্যে অতিকায় কালো কালো পাহাড়ের মত শরীরগুলোর একে অন্যের সঙ্গে ধাক্কাধাক্কি আর তীক্ষ্ণ চিৎকারের শব্দ থেকে তারাও ব্যাপারটা ঠিক কী ঘটছে তা বুঝতে পারছিল না। মাঝে মাঝেই আবার তাদের চিৎকার-চ্যাঁচামেচি একেবারে থেমে যায় কয়েক মুহূর্তের জন্য। তখন দলাপাকানো জীবগুলো দঙ্গল ছেড়ে আলাদা আলাদা হয়ে এদিক-ওদিক সরে যায়। তখন আবছা নজরে পড়ে খেদার মাঝখানে কয়েকটা জীব মরে বা আধমরা হয়ে পড়ে রয়েছে।
ইতিমধ্যে পোষা হাতিদের ক্যাম্পে খবর দেওয়া হয়েছিল। খানিকক্ষণের ভেতর তারাও সেখানে এসে পৌঁছে গেল। কিন্তু তখন খেদার ভেতরের ভয়াবহ যে-দৃশ্যটা আস্তে আস্তে চোখের সামনে আসছিল তা দেখে তারাও তার ভেতরে পা দিতে সাহস করছিল না। গোটা জায়গাটা জুড়ে ছড়িয়ে আছে মৃত আর অর্ধমৃত হাতির দল। আর বিশালদেহী এক দাঁতাল তাদের মধ্যে ঘুরে ঘুরে বারবারই তার দাঁতদুটো গেঁথে দিচ্ছে ছড়ানো শরীরগুলোতে। তাদের কারো মধ্যে সামান্যতম নড়াচড়ার আভাস পেলে থামের মত পাগুলো দিয়ে থেঁতলে তাদের প্রাণ বের করে দিচ্ছে, তারপর অকারণ হিংস্রতায় মৃত শরীরটাকে লাথি মেরে ছিটকে ফেলছে সে দূরে।
সেই করতে করতেই মাঝে মাঝে শুঁড় তুলে যে উন্মাদ হুঙ্কারগুলো ছাড়ছিল সে, তা শুনলে অতিবড়ো সাহসীরও বুক কেঁপে ওঠে। একটা শিকার সম্পূর্ণ মারা গেছে সে বিষয়ে নিশ্চিত হলেই সে তার দলাপাকানো শরীরটা ছেড়ে শুঁড় তুলে ধেয়ে যায় বাকি দলটার দিকে। তারপর তাদের যে-কোন একটাকে বেছে নিয়ে তাকে আক্রমণ করে। আক্রান্ত হাতির পালাবার কোনো জায়গা থাকছিল না। জায়গাটা শক্তপোক্ত কাঠের দেওয়াল দিয়ে ঘেরা। তার মধ্যে ছড়িয়ে থাকা অতিকায় শরীরগুলো আক্রান্ত প্রাণীটার ছোটবার পথে বাধা হয়ে দাঁড়াচ্ছিল।
ক্যাম্পের মানুষজনের চোখের সামনে একটার পর একটা হাতিকে এইভাবে অন্ধ রাগে শেষ করে দিল সে। তারপর একসময় গোটা জায়গাটা নিস্তব্ধ হয়ে গেল। ততক্ষণে খেদার বাইরে থেকে অসহায়ভাবে দাঁড়ানো দর্শকরা তাদের বন্দুক নিয়ে তৈরি হয়েছে। কিন্তু খেদার বাইরের পোষা হাতিদের কেউ তখন সেখানে সেই উন্মাদ হাতির সামনে গিয়ে দাঁড়াতে রাজি নয়। শুঁড় উঁচু করে তারা কেবল বাতাস শোঁকে। যেন তাতে মৃত্যুর গন্ধ পায়। যেন বুঝতে পারে ওইখানে গিয়ে ওর সামনে দাঁড়ালে প্রাণ নিয়ে আর বের হয়ে আসা যাবে না।
খেদার চারপাশের গাছগুলো বেশ দূরে দূরে থাকায় ওর মধ্যে উঠে ভাল করে নিশানা নেবার উপায় ছিল না। একমাত্র সম্ভাব্য জায়গা ছিল খেদার বিরাট ঝাঁপদরজাটা। মিস্টার T তখন দিশি শিকারিদের মধ্যে থেকে সবচেয়ে অভিজ্ঞ একজনকে বেছে নিয়ে সেই দরজার মুখে গিয়ে শান্তভাবে দাঁড়িয়ে ক্ষ্যাপা হাতির তেড়ে আসবার অপেক্ষায় রইলেন। সে তখন গোটা খেদার মধ্যে পাক দিয়ে দিয়ে পড়ে থাকা হাতিগুলোর শরীর থেকে প্রাণের শেষ চিহ্ন মুছে দিচ্ছে। খানিক বাদে, ধৈর্য ধরে নিশানা নিয়ে মিস্টার T দরজার ফাঁক দিয়ে তাঁর প্রথম গুলিটা ছুঁড়লেন।
গুলিটার শব্দ পেয়েই জন্তুটা ঘুরে দাঁড়িয়ে হুঙ্কার দিয়ে ঝাঁপদরজার দিকে তেড়ে এল। গুলি তার শরীর ছুঁতে পারেনি। একঝলক সেদিকে দেখেই মিস্টার T ছুটতে ছুটতেই চিৎকার করে সঙ্গের শিকারিকে বললেন, “দেওয়ালের খুঁটির ফাঁক দিয়ে বাইরের দিকে পালা।”
শিকারি বেচারা হয় ভয়ে জবুথবু হয়ে গিয়েছিল, অথবা তার ধারণা হয়েছিল ঝাঁপদরজাটা হয়ত জন্তুটাকে রুখে দিতে পারবে। নিজের জায়গা ছেড়ে নড়ল না সে। আর তারপর, পাহাড়ের মত শরীরের ধাক্কায় ঝাঁপদরজার মোটা মোটা কাঠের খুঁটিগুলোকে দেশলাই কাঠির মত ভেঙে দিয়ে হাতিটা বাইরে এসে দাঁড়াল। বেরিয়ে এসেই তার চোখ পড়েছিল শিকারির সাদা ধুতিটার দিকে। চোখের পলকে তার প্রকাণ্ড শুঁড় নেমে এসে মরণপাকে জড়িয়ে ধরল শিকারির একটা পা। তারপর তার অন্য পায়ের ওপর নিজের একটা পা চাপিয়ে দিয়ে শুঁড়ের টানে তাকে চিরে দু’খণ্ড করে টুকরো দুটোকে সে বাতাসে ছুঁড়ে ফেলল।
এইবার তার সামনে আর কোনো বাধা নেই। দুপাশে শক্তপোক্ত কাঠের খোঁটার বেড়ার মধ্যে দিয়ে এগিয়ে আসা খেদায় ঢোকবার রাস্তাটা দিয়ে হুঙ্কার দিতে দিতে ছুটে চলল সে বাইরের দিকে। তারপর কেউ কিছু বোঝবার আগেই তার অতিকায় শরীরটা মিলিয়ে গেল পাহাড়ের গায়ের ঘন জঙ্গলে।
সকালের আলো ফুটতে খেদার ভেতরের নারকীয় ছবিটা পুরোপুরি সামনে এসেছিল। মৃত্যুভয়ে ছোটাছুটি করা হাতিদের পায়ের ঘায়ে তাদের রক্তে ভেজা মাটি ঘুলিয়ে কাদা হয়ে উঠেছে। সেই কাদার মধ্যে এদিক-ওদিক ছড়িয়ে আছে বিশাল বিশাল কিছু থ্যাঁতলানো মাংসের পিণ্ড। না জানা থাকলে তাদের দেখে কোনো প্রাণীর শরীর বলে চেনা যায় না।
খেদার এককোণে বেশ কিছু পিণ্ড পাকানো শরীর একটা ছোটোখাটো টিলার মত স্তূপ হয়ে পড়েছিল। কাছে গিয়ে ভাল করে পরীক্ষা করতে তার মধ্যে কিছু নড়াচড়ার আভাস মিলল। লোকজন জড়ো করে সেই পাহাড়প্রমাণ মাংসের স্তূপ সরাতে দেখা গেল তার মধ্যে দুটো হাতি তখনো কোনোমতে বেঁচে রয়েছে। আগের দিন ধরা পড়া তেত্রিশটা হাতির মধ্যে ওই ক্ষ্যাপা হাতি বাদ দিলে তখন টিকে আছে ওই দুটো আহত, পঙ্গু হয়ে যাওয়া জীব।
মাত্র কয়েকটা ঘন্টার মধ্যে একটামাত্র হাতি যে তার স্বজাতীর ওপরেই এমন অকল্পনীয় হত্যালীলা চালাতে পারে তা না দেখলে বিশ্বাস করা কঠিন। তার শিকারদের মধ্যে অনেকেই আয়তনে তার সমান কিংবা তার চাইতেও বড় ছিল। তার মধ্যে দুটো ছিল আবার পাহাড়প্রমাণ চেহারার দুই দাঁতাল। হাতিখেদার জন্য দীর্ঘ ছ-মাসের পরিশ্রম, অজস্র খরচ, সব মাত্র কয়েক ঘন্টার তাণ্ডবে ধ্বংস করে দিয়ে গেল ওই উন্মাদ দানব! যত হাতি ধরা হয়েছিল, তখনকার বাজারদরে তার দাম হতে পারত কম করে পঞ্চাশ হাজার টাকা। মাত্র একটা দুর্ভাগা জীবের পাগলামোতে তার সবটাই জলে গেল। সঙ্গে প্রাণ দিল একটা নিরীহ মানুষও।
এরপর কিছুদিন পলাতক হাতিটার বিষয়ে কোনো খবর পাওয়া যায়নি। আর তারপর, কোল্লেগালের জঙ্গল ঘিরে দাঁড়িয়ে থাকা অসংখ্য গ্রাম থেকে একের পর এক দুঃসংবাদ আসা শুরু হল। জঙ্গলের হাতি হোক, কি ক্ষেতের মোষ, তার আক্রমণের হাত থেকে তখন রেহাই নেই কারো। জঙ্গল থেকে কাঠ তুলে আনা বনদফতরের দুটো হাতির প্রাণ গিয়েছিল তার দাঁতে। ফলে সে-কাজে লাগানো বাকি হাতিগুলোকেও সরিয়ে দিতে হল।
তখন সে একেকটা গ্রামে গিয়ে ঢুকে সটান লোকজনের গোয়ালে হানা দেয় আর সেখানে দাঁড়ানো মোষগুলোকে থেঁতলে মারে। বলদগুলোকে সে মারত না। মানুষের বিরুদ্ধেও বিশেষ শত্রুতা দেখাত না কখনো। তবে মোষ ধরবার জন্য অকল্পনীয় ধৈর্য দেখাতে পারত সে। ও-এলাকার কিছু গ্রামে গরু-মোষ রাখবার জন্য পাথরের তৈরি বড়ো ঘরের চল আছে। একবার তেমন এক ঘরের দরজা ভাঙতে না পেরে সে গোটা গ্রামটার মানুষজনকে দু-দুটো দিন নিজের নিজের ঘর থেকে বাইরে পা দিতে দেয়নি।
তার অত্যাচারে অতিষ্ঠ হয়ে অবশেষে সরকার নড়েচড়ে বসলেন। মোটা পুরস্কার ঘোষণা করা হল তাকে মারবার জন্য। সেই লোভে বহু দিশি শিকারি ঝাঁপিয়ে পড়লেও তাতেও লাভ হল না বিশেষ। তবে একটা ব্যাপার ঘটেছিল এর ফলে। শিকারিদের গুলিতে বেশ কবার আহত হবার পর দেখা গেল সে সতর্ক হয়ে গেছে। সহজে দেখা দেয় না আর। তার হাজিরা শুধু টের পাওয়া যায় আজ এখানে তো কাল বিশ মাইল দূরে কোনো গ্রামের ওপর তার আচমকা হামলার খবর থেকে।
কী করে শেষমেষ তার প্রাণ গেল সে-কাহিনি শোনা যাবে এর পরের সংখ্যার গল্পে।
বনের ডায়েরি সব লেখা একত্রে