বনের ডায়েরি-পাখি দেখা-হিমালি ঝোপশ্যামা-অলোক গাঙ্গুলী-শরত ২০২৫

আগের পর্ব ধনেশ, মাছরাঙা, মুনিয়া, কাজল পাখি , দোয়েল-কোকিল-ময়নাবুলবুল, বকপাখি, মোনাল দেখার গল্প,পাঁচ বউয়ের কাহিনি, ঘুঘুর বাসা, টুনটুনি,বাঁশপাতি, মোহনচূড়া , হাট্টিমাটিমটিম থেকে হটিটি, রামগাংড়া, ডাহুক কেন ডাকে, বাদামি কোকিল, পাপিয়া, পাতি জলমুরগি, প্যাঁচা, পানডুবি, নীলকণ্ঠ, কাস্তেচরা, চাতক, কালো মথুরা, কস্তুরা, চটক, কমলাকণ্ঠি চুটকি

Himalayan Blue Tail

যারা এখনও পর্যন্ত এই পাখি দেখতে পায়নি, তাদের বলব যে এর পর হিমালয়ে কোথাও বেড়াতে গেলে নিজের থেকে বেশ দূরে, বেশিরভাগ ক্ষেত্রে মাটিতেই, একটু দৃষ্টি রেখে চলতে। এত সুন্দর নীলচে রঙ একবার দেখলে চোখে লেগে থাকবে। যখনই এই পাখির কথা মনে পড়বে একবার দেখার পর, আগেই ওর নীল রঙের কথা মনে পড়বে। ইংরেজিতে কেন ওর লেজের সঙ্গে রঙ যুক্ত করে নাম দিয়েছে বলা কঠিন, কারণ ওর সমগ্র গায়ের রঙই নীল। লেজের রঙ অবশ্যই নীল, তার সঙ্গে ওপরে গাঢ় নীল, চওড়া ভ্রূ আর কাঁধের কাছে চকচকে আকাশি নীল। নীচে চিবুক, গলা ধবধবে সাদা। বুক, পেট আর তলপেট ফিকে ধূসররঙা। পেটের দু-ধারে উজ্জ্বল কমলা রঙও বেশ পরিষ্কার দেখা যায়। স্ত্রী পাখি চোখের চারপাশটা সাদাটে এবং অস্পষ্ট ভ্রূ ছাই-ধূসরাভ রঙের। পিঠের ওপর জলপাই-বাদামি, কোমর থেকে লেজ চকচকে নীল। চিবুক, গলা, পেট ময়লা সাদাটে। বুকজুড়ে আবার ধূসর বাদামি ভাব। পেটের দু-ধারে পুরুষ পাখির মতোই একইরকম উজ্জ্বল কমলা। আমার ধারণা যেহেতু পুরুষ এবং স্ত্রী দুই পাখির লেজের রঙ গাড় নীল তাই ইংরেজিতে হিমালায়ান ব্লু টেল নাম রাখা হয়েছে। বাংলা নামও যথাযথ। এমনিতেই হিমালয়ের উঁচু পাহাড়ে দেখা মেলে, কিন্তু বেশি শীতে এরা পরিযায়ী হয়ে সমতলের ঝোপঝাড় ও জঙ্গলেও দেখা যায়। লাজুক প্রকৃতির পাখির বেশিরভাগ একা অথবা জোড়ায় ঘুরতে দেখা যায়। সাধারণত মাটিতে ঘুরেফিরে বেড়ায়। মাঝে-মধ্যে ডানা ও লেজ ওপর-নীচ করে নাচাতে থাকে। খাবারের জন্য বেশিরভাগ পোকামাকড়ের ওপর নির্ভরশীল।

এই পাখির গল্প লেখার আগে আবার আমাকে ফিরে যেতে হয় কালিম্পং জেলার সেই পাহাড়ি গ্রাম কোলাখামে। নেওড়া অভয়ারণ্য উপত্যকায় অবস্থিত এই চমৎকার নিরিবিলি পাহাড়ি গ্রাম। আমার মতো পাখি পর্যবেক্ষকের জন্য আদর্শ স্থান। এখানে পর্যটকদের সংখ্যও কম যার জন্য পাখিরা বেশ নিশ্চিন্তে থাকতে পারে আর দেখাও মেলে সহজে। কোলাখাম ভ্রমণে গিয়ে যত প্রকারের হিমালয়ের পাখি দেখেছি, অন্যান্য হিমালয়ের আবাসস্থলে এতটাও পাইনি কেবল হট্টগোল নেই বলে। কিন্তু পর্যটক কম এলে হবে কী, দায়িত্বশীল পর্যটক খুব কমই দেখা যায়। সর্বত্র ফলক বসানো রয়েছে – ‘প্লাস্টিক ফ্রি জোন’, অর্থাৎ কোনও প্রকার প্লাস্টিকের আবর্জনা ফেলা নিষিদ্ধ, কিন্তু কতজন মেনে চলে সেই নিয়ম? ছাঁগে জলপ্রপাতের পথে যেখানে-সেখানে প্লাস্টিকের জলের বোতল, চিপসের খালি প্যাকেট, লজেন্স-টফির মোড়ক ইত্যাদি ছড়ানো-ছেটানো। অথচ অল্প দূরত্বেই বসানো আছে আবর্জনা ফেলার জন্য পাত্র। পাহাড়ের নীচ দিয়ে বয়ে চলা অপূর্ব ঋষি নদীর ধারে গেলে একই দৃশ্য, সঙ্গে আছে বিয়ার ও অন্যন্য পানীয় কাচের খালি বোতল। গ্রামবাসীরা বস্তায় করে সেই খালি কাচের বোতল পিঠে করে ওপরে তুলে নিয়ে গিয়ে বিক্রি করে। এতে অবশ্য ওদের কিছু অর্থ আয়ের উপায়ও হয়ে যায়। কিন্তু নদীতীরে গেলে এই দৃশ্য দেখতে ভালো লাগে না। এই সুন্দর পাহাড়ি গ্রামে যেখানে কেবল পাখির ডাক শোনা যায়, সেখানে শহর থেকে আসা পর্যটকেরা যদি এইভাবে আবর্জনা ফেলে নষ্ট করে, আমি মনে করি প্রশাসনের উচিত গ্রামের কিছু যুবক-যুবতীদের এই কাজে লাগিয়ে পর্যটকদের ওপর নজর রাখা। কেউ আবর্জনা ফেললেই তাকে তৎক্ষণাৎ জরিমানা করা। এটা সর্বক্ষেত্রেই আরম্ভ করা উচিত।

এর আগে কমলাকণ্ঠী চুটকিকে নিয়ে একটা লেখা বসন্তের জয়ঢাক ওয়েবজিনে প্রকাশিত হয়েছিল। সেই লেখাতে কোলাখামের আরও কিছু বর্ণনা দেওয়া রয়েছে, তাই এবারে আর বিস্তারিত করলাম না। কিন্তু পাঠকেরা যদি এই লেখা পড়ে কোলাখাম বেড়াতে যেতে চান, অবশ্যই খেয়াল রাখতে হবে দায়িত্বশীল পর্যটক হওয়ার জন্য। এই ছোটো পাহাড়ি গ্রামে প্রকৃতির সমস্ত উপাদান রয়েছে। পর্বতারোহীদের জন্য নেওড়া উপত্যকার মধ্যে দিয়ে রাচেলা ট্রেক অভিযান, অন্যদের জন্য ছোটোখাটো হাইকিং, বিভিন্ন গ্রামে আর আছে গুহা দর্শনও। আর সবার ওপরে পাখি ও কপালে থাকলে বন্য পশুরও দেখা মিলতে পারে।

শিলিগুড়ি থেকে গাড়িতে করে কোলাখাম পৌঁছতে সন্ধে হয়ে গিয়েছিল। লাভার কাছে কোলাখাম প্রবেশের জন্য গাড়ি প্রতি ২০০/- প্রবেশ কর দিতে হয়। স্থানীয় গাড়ির ক্ষেত্রে প্রয়োজন হয় না। আমাদের হোম-স্টে প্রবেশদ্বার থেকে ১৩ কিমি দূরে। পুরো পথটাই নেওড়া অভয়ারণ্যের মধ্যে দিয়ে যেতে হয়। প্রায় ৮ কিমি চলার পর প্রথমে পড়ে কোলাখামের সাইলেন্ট ভ্যালি গ্রাম। এখানে বেশ কিছু হোম-স্টে রয়েছে। আমাদের হোম-স্টে এখান থেকে আরও ৫ কিমি দূরে, তবে পথে আর সেইভাবে জঙ্গলের রাস্তা পড়ে না। কিন্তু আমাদের ড্রাইভার জানাল যে রাতের অন্ধকারে এই পথেও লেপার্ড, ভালুকের দেখা মেলে। এই পুরো ৮ কিমি রাস্তায় একটাও গাড়ির অথবা মানুষের দেখা পেলাম না।

হোম-স্টে পৌঁছে নিশ্চিন্ত হলাম। পরের দিন ভোরবেলা যথারীতি পাখির ডাকে ঘুম ভাঙল আর বেরিয়ে দেখি একের পর এক পাখি উড়ে এসে গাছের ডালে ডানা মেলে বসেছে। হোম-স্টের মালিক একজন পাঞ্জাবের মানুষ, বাড়ি চণ্ডীগড়ে। কোলাখামকে ভালোবেসে ফেলেছেন। উনি যখন জানলেন যে আমি পাখি দেখতে ও ছবি তুলতে ভালোবাসি, তখন আমাকে হোম-স্টের একটা সুন্দর জায়গায় নিয়ে গেলেন। সেখান থেকে ওই এলাকার পুরো ৩৬০ ডিগ্রি ঘুরে দেখা যায় কেবল নয়, প্রতিটি গাছের ডাল আমার চোখের দৃষ্টি বরাবর। একবারে পাখির ছবি তোলার আদর্শ জায়গা বানিয়েছেন উনি পাখি পর্যবেক্ষকদের জন্য।

সেদিন সকালের খাওয়াদাওয়া সেরে আমরা ঠিক করলাম যে এখানকার ছাঁগে জলপ্রপাত দেখতে যাব। হোম-স্টের বাইরে রাস্তার ধারে একটা ফলক বসানো, তাতে জলপ্রপাতের দূরত্ব লেখা ১.৭৫ কিমি। ঠিক করলাম পুরো পথটাই হেঁটে যাওয়া যাবে আশেপাশের সব জায়গা দেখতে দেখতে। হোম-স্টে থেকে ওপরে উঠে জলপ্রপাত যাওয়ার পথ ধরলাম। পথের একদিকে যেমন গিরিখাদ, অন্যদিকে উঁচু পাহাড় গাছগাছালিতে জঙ্গল হয়ে রয়েছে। স্থানীয়রা বলে সন্ধের পর এই রাস্তায় একা হাঁটা মোটেই নিরাপদ নয়। মানুষের নয়, ভালুক ও লেপার্ড ওপর থেকে ঝাঁপ দিয়ে ঘাড় মটকে দিতে পারে। শহর হলে মনে করতাম মানুষ ছিনতাইবাজদের আড্ডা হতে পারে। দিনের বেলা এই এলাকায় কেউ দেখেনি বন্য পশুদের।

পথ ধরে যখন এগিয়ে যাচ্ছিলাম জলপ্রপাতের দিকে, কেবল আমরা চারজন ছিলাম। মাঝে-মধ্যে দু-একটা মোটরবাইক অথবা গাড়ি দ্রুতবেগে বেরিয়ে গেছে। আমার বড়ো গদা লেন্সটা সঙ্গে নিয়ে আসিনি ওজনের জন্য। জলপ্রপাত দেখতে হলে প্রায় ৯০০ মিটার নীচে নেমে আবার ফেরার সময় উঠতে হয়। ভারী সামগ্রী সঙ্গে নিয়ে হাঁটা কঠিন, তাই ওই লেন্স ঘরেই রেখে এসেছিলাম। একেই নির্জন সড়ক, কোথাও কোনও মানুষ নেই। কিছুটা এগোলেই ডানদিকে একটা কাঁচা পাথুরে পথ জঙ্গলের দিকে চলে গেছে আর সেই পথের ডানদিকে প্রায় ৫০ মিটার দূরে ছোটো একটা শিবমন্দির। মন্দিরে সেই সময় কেউ ছিল না, কিন্তু বুঝতে পারলাম ফুল-বেলপাতা ও ধূপের গন্ধে যে কিছুক্ষণ আগে এখানে পুরোহিত এসে পুজো দিয়ে গেছেন। রাস্তার একদিক দিয়ে একটা পাহাড়ি জলের ঝোরা সশব্দে বয়ে চলেছে। পরে গিয়ে বুঝলাম যে এই পাহাড়ি ঝোরা ছাঁগে জলপ্রপাত হয়ে নীচে বয়ে ঋষি নদীর সঙ্গে মিশেছে।

এইসব পথে হাঁটার সময় আমার দৃষ্টি থাকে চারপাশে গাছের ডালপালায়, যদি কোনও পাহাড়ি পাখির দেখে মেলে। কিন্তু সে যে আমার চলার পথে দেখা দেবে সেটা ভাবতেও পারিনি। বাকিরা গল্পে ব্যস্ত আর আমি আমার খেয়ালে। কিন্তু আমার দৃশ্য এড়িয়ে পাখি চোখে পড়ল আমার স্ত্রীর। সে সবাইকে চুপ করিয়ে আমার দৃষ্টি আকর্ষণ করল। আমাদের থেকে প্রায় ২৫-৩০ মিটার দূরত্বে গাঢ় নীল রঙের এই পাখি লেজ নাড়িয়ে ঘুরে বেড়াচ্ছে। বেশি কাছে যাওয়ার চেষ্টা করলে ফুড়ুৎ করে উড়ে আরও দূরে গিয়ে বসছে কিন্তু রাস্তার মাঝখানে, যেমন আমাদের সমতলে শালিকেরা করে, পথের মাঝবরাবর হাঁটে। আমার ছোটো লেন্সে খুব ভালো ছবি এল না। মনখারাপ হয়ে গেল। মনে হচ্ছিল হোম-স্টে ফিরে গিয়ে বড়ো লেন্সটা নিয়ে আসি। কিন্তু এই চঞ্চল পাখি কি এত সময় দেবে? যা পারলাম সেটাই চেষ্টা করলাম মাত্র, কারণ ক্যামেরার এই লেন্সে ভালো ছবি আসবে না। সেও আর সময় ব্যতীত না করে উড়ে গেল। আমরা আবার আমাদের গন্তব্যের দিকে এগিয়ে চললাম।

ছাঁগে জলপ্রপাতে নামার আগে একটা দোকানঘর আছে যেখানে চা জল খাবার উপলব্ধ। আবার যাত্রীদের জন্য ১০ টাকায় লাঠি ভাড়া দেওয়া হয় ধরে ধরে নেমে আবার ওঠার জন্য। আমি ছাড়া সকলেই লাঠির সাহায্য নিল। কিন্তু এমনই কপাল, নীচে নেমে কিছুটা ট্রেক করার পরেই পথের ধারে একটা লাঠি গাছের সঙ্গে রাখা আছে দেখলাম। কোনও অভিযাত্রী রেখে দিয়ে গেছে এখানে। সেটা আমার কাজে লেগে গেল। এই পথে আমি বেশ কিছু হিমালয়ের পাখির দেখা পেলাম। সেই বিবরণ আবার পরে অন্য কোনও লেখায় দেওয়া যাবে। ছাঁগে জলপ্রপাতের পাশে এক ছাউনির তলায় এক মা ও মেয়ে চা, কফি, মোমোর দোকান চালায়। আমরা জলপ্রপাতের পাশে বসে গরম কফির কাপ হাত নিয়ে বেশ কিছু ছবি তুললাম আমাদের কোলাখামের অ্যালবামে রাখার জন্য। এই জলপ্রপাতের জল নীচে বয়ে একটা গুহার মধ্যে দিয়ে বয়ে আরও নীচে নেমে অন্যদিক দিয়ে ঋষি নদীতে গিয়ে মেশে। এইসব দ্রষ্টব্য স্থান দেখে ভীষণ ভালো লাগছিল, কিন্তু আমার মনের মধ্যে একটা খচখচানি রয়ে গিয়েছিল। এত কাছে পেয়েও ওই পাখির ছবি তুলতে পারলাম না। অবশ্য ইতোমধ্যে ওই পাখির নাম আমার জানা হয়ে গিয়েছিল, বাংলায় হিমালি ঝোপশ্যামা আর ইংরেজিতে হিমালায়ান ব্লু টেল।

জলপ্রপাত দেখে হোম-স্টে ফিরে এসে আমি আমার গদা লেন্স ক্যামেরায় লাগিয়ে আবার সেই জায়গায় চলে গেলাম যেখানে ওর দেখা পেয়েছিলাম। একটা জলের ধারা, যেটা নীচে নেমে ছাঁগে জলপ্রপাতে রূপান্তরিত হয়েছে, সেখানে সেতুর ওপর দাঁড়িয়ে অপেক্ষা করতে লাগলাম। এমনিতে জনবসতি বিশেষ একটা নেই, গাড়িও খুব কম এই রাস্তায়। এখান থেকে ১৫ কিমি দূরত্বে সিকিম। পশ্চিমবঙ্গের শেষ গ্রামের নাম লিংচু। একটামাত্র হোম-স্টে সেখানে, তাই ইন্টারনেট দেখে অগ্রিম বুকিং করে রাখা ভালো। আমার দৃষ্টি সেই হিমালয়ের ঝোপশ্যামার ওপর। কিছু এদিক-ওদিক পাখি ডাকাডাকি করছে এবং তাদের ছবিও তুলছি, কিন্তু এক চোখ ও কান হিমালয় ঝোপশ্যামার দিকে। প্রায় চল্লিশ মিনিট অপেক্ষা করিয়েছে আমাকে। তারপর হঠাৎ দেখি ওপর থেকে উড়ে এসে ঠিক সেই আগের জায়গায় বসেছে। আমার অবস্থান বেশ অনেকটা দূরে, কিন্তু আমার গদা লেন্সের জন্য খুব একটা বেগ পেতে হয়নি। এইসব পাখির দর্শন তো হিমালয়ের এরকম স্থান ছাড়া পাওয়া যায় না! এরাই আমার কাছে ঈশ্বরের প্রতিরূপ। এদের মাধ্যমেই ঈশ্বরের দেখা পাওয়া যায়। আমাদের দেবতাদের বাসস্থান হিমালয় এইসব জীবেরা তাদের আশেপাশেই থাকে। এরপর কোলাখামে আবারও হিমালয় ঝোপশ্যামার দর্শন পেয়ে ধন্য হয়েছি। কোলাখাম ভ্রমণে এলে এই পাখি না দেখে কেউ যেন ফিরে না যায়।

বনের ডায়েরি সব লেখা একত্রে

Leave a Reply